প্রতিদিন পাঁচ হাজার মানুষের দারিদ্র্যমুক্তি

প্রকাশের সময় : 2018-06-10 10:38:09 | প্রকাশক : Admin প্রতিদিন পাঁচ হাজার মানুষের দারিদ্র্যমুক্তি

সিমেক ডেস্কঃ দারিদ্র্য বিমোচনে বাংলাদেশের সাফল্যকে বিশ্বে বলা হচ্ছে ‘বাংলাদেশ প্যারাডক্স। সবশেষ পরিসংখ্যান হিসেবে প্রতি দিনে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার মানুষ দারিদ্র্যসীমা থেকে বের হচ্ছে।

১৯৭১ সালে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর পশ্চিমা অর্থনীতিবিদদের মূল্যায়ন ছিল বাংলাদেশ টিকে থাকতে পারবে না এবং এটা হবে দরিদ্র রাষ্ট্রের উদাহরণ। আর এখন বাংলাদেশশের উন্নয়নকে বলা হচ্ছে বিস্ময়। দারিদ্র্য বিমোচনে বাংলাদেশকে উদাহরণ হিসেবেও দেখছে জাতিসংঘ, বিশ্বব্যাংকসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো।

৯০ এর দশকেও বাংলাদেশে দারিদ্র্যসীমার নিচে সবচেয়ে বেশি লোক বাস করত। ১৯৯১ সালে এই হার ছিল ৫৮ শতাংশ। ২০০৫ সালে এই হার নেমে আসে ৪১ শতাংশের মতো। আর গত ১৩ বছরে এটা আরও প্রায় অর্ধেকে নেমেছে। ধারাবাহিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, দারিদ্র্য বিমোচন, রপ্তানি আয়, বৈদেশিক শ্রমবাজার, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, সামাজিক বৈষম্য নিরসনসহ প্রায় সব সূচকেই অগ্রগতি করছে বাংলাদেশ।

দারিদ্র্য থেকে বের হয়ে আসার পাশাপাশি অন্যান্য সূচকেও বাংলাদেশের অগ্রগতি হচ্ছে। এর একটি হলো আবাসন। ২০১০ সালে যেখানে ২৫ দশমিক ১২ শতাংশ পাকাবাড়ি ছিল সেটা ২০১৬ সালে বেড়ে হয় ৩০.৫ শতাংশ। ২০১০ সালে বিদ্যুত সংযোগ আছে এমন পরিবার ছিল ৫৫.২৬ ভাগ। ২০১৬ সালে এই হার বেড়ে হয় ৭৫.৯২ শতাংশ। সেটি আরও বেড়ে হয়েছে ৯০ শতাংশ।

বর্তমানে বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু আয় দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬১০ ডলারে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ১ লাখ ২৮ হাজার ৮০০ টাকা। ২০০৬ সালে এটি ছিল ৫৪৩ ডলার। স্বাধীনতার পর খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধিতে বাংলাদেশের সাফল্য বিস্ময়কর। যে সাত কোটি মানুষকে বাংলাদেশ খাওয়াতে পারবে না বলা হচ্ছিল, সেই দেশ এখন ১৬ কোটি মানুষকে অবলীলায় খাদ্য দিচ্ছে।

বিশ্বে এখন সবজি উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান তৃতীয়, মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ। ছাগল উৎপাদনেও বাংলাদেশ চতুর্থ স্থানে অবস্থান করছে। আম উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে আছে সাত নম্বরে। স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশের ধানের উৎপাদন তিন গুণেরও বেশি, গম দ্বিগুণ, সবজি পাঁচ গুণ এবং ভুট্টার উৎপাদন বেড়েছে দশ গুণ। দুই যুগ আগেও দেশের অর্ধেক এলাকায় একটি ও বাকি এলাকায় দুটি ফসল হতো। বর্তমানে দেশে বছরে গড়ে দুটি ফসল হচ্ছে। স্বাধীনতার পর দেশে প্রতি হেক্টর জমিতে দুই টন চাল উৎপাদিত হতো। এখন হেক্টর প্রতি উৎপাদন হচ্ছে চার টনেরও বেশি।

বাংলাদেশে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আসায় দেশের অর্থনীতিতে বাড়ছে শিল্পের অবদান। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের চেয়ে বাংলাদেশের জনসংখ্যা ছিল বেশি। কিন্তু এখন পরিস্থিতি উল্টো হয়ে গেছে। বাংলাদেশের জনসংখ্যা এখন প্রায় ১৬ কোটি। কিন্তু পাকিস্তানের জনসংখ্যা এখন প্রায় ২০ কোটি। দুই বছর আগে হিসাবে বাংলাদেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১.৩৭, পাকিস্তানে এটা ২.২।

দারিদ্র্য বিমোচনে এই সাফল্যের বিষয়ে অর্থনীতিবিদ ডঃ কাজী খলিকুজ্জমান আহমদ বলেন, ‘অনেকে এক সময় বলেছে আমাদের দেশের কোন ভবিষ্যৎ নেই। কিন্তু আমরা তো সেটাকে ভুল প্রমাণ করলাম। আমরা গত আট নয় বছরে ধারাবাহিকভাবে অগ্রগতি করেছি। অর্থনৈতিক, সামাজিক সূচকসহ প্রতিটি সূচকেই আগ্রগতি করেছি। এখন আমরা বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করা দেশ। যারা আমাদের নিয়ে বিরুপ মন্তব্য করেছিল তারা হয়ত আমাদের পছন্দ করতো না, হিংসা করত।’

খলীকুজ্জমান বলেন, ‘আমাদের প্রায় সব খাতেই উন্নয়ন হয়েছে। বিশেষ করে কৃষি, গ্রামীণ অর্থনীতি, রপ্তানি, রেমিটেন্স এসব দিকে বেশি অগ্রগতি হয়েছে।’

 

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশকঃ সরদার মোঃ শাহীন,
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ রফিকুল ইসলাম সুজন,
সম্পাদকঃ তারেক মিন্টু,
বার্তা সম্পাদকঃ ফোয়ারা ইয়াছমিন,
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ আবু মুসা।

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ নিউ সার্কুলার রোড,
মতিঝিল, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও বাড়ি-৬৩, রাস্তা-১৩,
সেক্টর-১৩, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিসঃ ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২,
উত্তরা, ঢাকা,
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com