হাসির ছলে বলা হলেও একে নিয়ে ট্রল করার কিছু নেই

প্রকাশের সময় : 2020-03-11 11:08:44 | প্রকাশক : Administration
হাসির ছলে বলা হলেও একে নিয়ে ট্রল করার কিছু নেই

আরিফ জেবতিকঃ আমরা উদ্ভট উদ্ভট খাবার খাই। খেতে অভ্যস্ত বলে এসব চোখে পড়ে না। যেমন মনে করুন কঁচুর লতি। কঁচু গাছ কিইবা একটা গাছ, সেই গাছ একটু পোক্ত হলে মাটির নিচে লতি বের হয়, আমরা সেই লতি বের করে খেয়ে ফেলি। তারপর এই যে কুঁচো চিংড়ি। চিংড়ি কিন্তু মাছ নয়, একধরনের জলজ পোকা বলা যায় বোধহয়, সেই কুঁচো চিংড়ি মানে হচ্ছে আমরা পানি থেকে ছোটখাটো পোকা বের করে খেয়ে ফেলছি। ব্যাঙের ছাতা খাওয়া যায় এই কথা প্রথম যেদিন ছোটবেলা শুনেছিলাম, একেবারে গা গুলিয়ে এসেছিলো। এখন সেই ব্যাঙের ছাতাকে মাশরুম নাম দিয়ে নিত্য খাই।

পরিকল্পনামন্ত্রী ঠাট্টা করে বলেছেন, ‘গরু কচুরিপানা খেতে পারলে আমরা পারবো না কেন’? কচুরিপানা খেতে পারব কী পারব না সেটা জানি না, তবে হাসির ছলে বলা হলেও একে নিয়ে ট্রল করার কিছু নেই। কঁচু গাছ উপড়ে তার লতি বের করে খেতে পারলে, কলাগাছ কেটে তার ভেতরের আনাজ খেতে পারলে, বাঁশের মতো শক্ত গাছের কচি মাথা খেতে পারলে, কঁচুরিপানা খাবার চিন্তাটা এতো জটিল চিন্তা হবে কেন? হয়তো খাওয়া যাবে, হয়তো না, কিন্তু এই চিন্তাটা নিয়ে ঠাট্টা করার কিছু নেই। এই যে আলু খাচ্ছেন, আলু কিন্তু ভারতবর্ষের খাবার নয়। প্রথম যখন এই ভারতবর্ষে আসে তখন নিশ্চয়ই অনেক লোক এভাবে ঠাট্টাতামাশাই করেছে। যা হোক আমার মূল কথা হচ্ছে যেকোনো নতুন চিন্তাকে স্বাগত জানাতে হবে। আমাদের সংস্কৃতিতে এই বিষয়টা খুব কম। এ জন্যই এই অঞ্চলে তেমন বড় কোনো জ্ঞান-বিজ্ঞান-প্রযুক্তি-চিন্তার বিকাশ ঘটেনি। চিন্তাকে উন্মুক্ত রাখুন। দয়া করে ঠাট্টাতামাশা সব বিষয়ে করবেন না। ১৬০০ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি ইতালির দার্শনিক ব্র“নোকে আদালতের রায়ে আর জনগণের তুমুল সমর্থনের মধ্যে পুড়িয়ে ফেলা হয়। তার অপরাধ কী ছিল জানেন? তিনি বলেছিলেন, যে তার ধারণা সূর্য পৃথিবীকে কেন্দ্র করে ঘোরে না, বরং পৃথিবীই সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘোরে। অথচ আজ আমরা জানি যে ব্রুনো অন্তত এই ব্যাপারে সত্য বলেছিলেন। যেকোনো নতুন চিন্তা, তর্ক, আইডিয়াকে স্বাগত জানান। এক কথায় উড়িয়ে দিয়েন না। ব্রুনোর আগেও মূর্খ লোক ছিলো, পরেও ছিলো, এখনো আছে। আমি-আপনি না হয় একটু ব্যতিক্রমই থাকলাম। - ফেসবুক থেকে

 

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ সরদার মোঃ শাহীন,
বার্তা সম্পাদকঃ ফোয়ারা ইয়াছমিন,
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ আবু মুসা,
সহঃ সম্পাদকঃ মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিসঃ ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২,
উত্তরা, ঢাকা,
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com