‘আনিসুল হক আছিল বাপের বেটা’

প্রকাশের সময় : 2018-07-25 18:40:46 | প্রকাশক : Administrator
�‘আনিসুল হক আছিল বাপের বেটা’

সিমেক ডেস্কঃ সাতরাস্তার ট্রাকস্ট্যান্ডটি আবার দখল হয়ে গেছে। সেখানে আবার আগের মতো এলোপাতাড়ি রাস্তা দখল করে জট পাকিয়ে থাকে ট্রাকগুলো। আশপাশের এলাকায় লেগে থাকে নিত্যদিনের যানজট। ট্রাকস্ট্যান্ডকে ঘিরে মাদকের আড্ডাও জমছে ফের। সন্ধ্যা হতেই লোক চলাচলে রীতিমতো অনিরাপদ হয়ে পড়ে পূরো এলাকা।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র নির্বাচিত হয়েই আনিসুল হক নিজে দাঁড়িয়ে থেকে অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে সরিয়ে দিয়েছিলেন সাতরাস্তার সে ট্রাকস্ট্যান্ড। এ নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও এসেছিল স্বস্তি। কিন্তু মেয়রের মৃত্যুর কিছুদিন যেতে না যেতেই আবার দখল হয়ে গেছে সাতরাস্তা থেকে কারওয়ান বাজার পর্যন্ত ব্যস্ততম সড়কটি। মেয়র আনিসুল হকের স্বপ্নের নগরীর প্রত্যয় যেন ভুলতে বসেছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনও। স্বপ্নের কারিগর মেয়র আনিসুল মারা গেছেন আজ ২৪০ দিন। অর্থাৎ ৮ মাস। এ ৮ মাসে আনিসুল হককে সত্যিই কি ভুলে গেছেন ঢাকা উত্তরের বাসিন্দারা? না, কেউ ভোলেননি।

তেজগাঁওয়ের বাসিন্দা পঞ্চাশোর্ধ কর্মজীবী আয়াত উল্লাহ আনিসুল হকের কথা স্মরণ করে দিয়ে বলেন, ‘আনিসুল হক আছিল বাপের বেটা। কোনো নেতাই এত বছর ধরে সাতরাস্তার ট্রাক স্ট্যান্ড সরাইতে পারে নাই। পারবে কী করে, সবাই তো ট্রাকস্ট্যান্ডরে ঘিইরা যে ব্যবসা হইতো তার ভাগ পাইতো। কিন্তু আনিসুল হক সেই ভাগের ধার ধারছে? ধারেনি। তাই স্ট্যান্ড সরাইতে পারছিল।’ পরক্ষণেই তিনি ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, ‘কই, এহন আনিস সাবও নাই, ট্রাকস্ট্যান্ডও ফিইরা আসছে আগের মতো। এইগুলো দেখবে কে?’

আনিসুল হক ডিএনসিসির বাসিন্দাদের স্বপ্ন দেখিয়েছেন একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন, জনবান্ধব তিলোত্তমা নগরীর। সে নগরী গড়ে তোলার জন্য নাগরিকদের প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা ও সাহসও জুগিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু আনিসুল হকের তিলোত্তমা ঢাকা গড়ার স্বপ্ন আর সমাধান যাত্রা শুরুর পথেই থমকে গেছে। মেয়রের মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গেই ঘটে গেছে স্বপ্নের উলট-পালট।

২০১৫ সালে নাগরিকদের ভোটে ঢাকা উত্তর সিটি করর্পোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন আনিসুল হক। স্বপ্ন, সাহস, অন্য নেতৃত্বগুণ ও আকর্ষণীয় চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য দিয়ে অল্প দিনেই রাজধানীবাসীর মন জয় করেছিলেন আনিসুল হক। নাগরিক সমস্যার সমাধানে যাত্রা শুরু করেছিলেন তিনি। শুরু করেছিলেন ঢাকাকে জনবান্ধব নগরে পরিণত করার কাজ। তার সামনে এসেছে একের পর এক চ্যালেঞ্জ। সব চ্যালেঞ্জই তিনি সাহসের সঙ্গে মোকাবেলা করেছিলেন। শুধু সাতরাস্তার ট্রাকস্ট্যান্ডই নয়, রাজধানীর যানজটের অন্যতম উৎসস্থল শ্যামলী থেকে আমিনবাজার পর্যন্ত দীর্ঘ রাস্তা রাতারাতি পার্কিংমুক্ত ঘোষণা করে ছিলেন মেয়র আনিসুল হক। এর পর থেকে উধাও হয়ে গিয়েছিল সেখানকার যানজট। কিন্তু সে যানজটমুক্ত শ্যামলী- গাবতলী-আমিনবাজার এখন আর নেই।

কোনো দুর্বৃত্তকে ভয় পেতেন না মেয়র আনিসুল হক। কূটনীতিক পাড়ায়ও অভিযান চালিয়ে তিনি দূতাবাসগুলোর অবৈধ দখল উচ্ছেদ করেছেন। কুখ্যাত স্বাধীনতাবিরোধী মোনায়েম খাঁর পরিবার বনানীতে যে বিশাল জমি অবৈধ দখলে রেখেছিল সেটাও উদ্ধার করেছিলেন তিনি। এর আগে ওই বাড়ি কেউই উদ্ধার করতে সাহস করেনি।

বনানীর ২৭ নম্বর সড়কে আব্দুল মোনায়েম খাঁর পরিবারের দখলে থাকা ১০ কাঠা জমিতে থাকা অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিয়েছিল ডিএনসিসি। মেয়র আনিসুল হক নিজেই ওই অভিযানে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। প্রায় ৫০ বছর ধরে জামিটি ডিসিসির বেদখলে ছিল। এ ছাড়া আমিনবাজারে অবৈধ দখলে থাকা সিটি করপোরেশনের ৫২ একর জমিও উদ্ধার করেছিলেন তিনি।

নগরীর উন্নয়ন এবং নাগরিক সেবার দিকেই মূলত সবচেয়ে বেশি নজর দিয়েছিলেন আনিসুল হক। পরিকল্পনা দিয়ে সাজাতে শুরু করেছিলেন পুরো ঢাকাকে। নগরের প্রায় সবখানে ডাস্টবিন ও সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন নির্মাণের কাজ শেষ করেন তিনি। সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে নগরের পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থারও ব্যাপক উন্নয়ন ঘটে তার সময়ে। নাগরিকদের নিরাপত্তায় তার অসাধারণ উদ্যোগ ছিল যা দারুণ প্রসংশনীয় হয়। ডিএনসিসির বিভিন্ন এলাকা তিনি সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় এনেছিলেন। নগরীর স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে তিনি নিবন্ধিত রিকশা ও বাস সার্ভিস চালু করেন। এভাবেই তিনি সাধারণ নগরবাসীর সেবা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। এভাবেই তিনি হৃদয়ের মণিকোঠায় ঠাঁই নিয়েছিলেন নগরবাসীর। বিশেষ করে তরুণদের কাছে তিনি হয়ে উঠেছিলেন ‘স্বপ্নের দিশারি’।

কিন্তু স্বপ্নবাজ মেয়র আনিসুল হক যেসব জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ নিয়েছিলেন তার অধিকাংশই এখন মুখ থুবড়ে পড়েছে। দখল হয়ে গেছে রাজধানী উত্তরের অধিকাংশ ফুটপাত। আবার ফিরেছে বড় বড় বিলবোর্ড। সাতরাস্তা ট্রাকস্ট্যান্ড তো আগেই দখল হয়ে গেছে। শ্যামলী-গাবতলীর রাস্তায় আবার নিত্যকার যানজট লেগে থাকে। কঠোর হাতে এসব দুর্বৃত্তায়ন বন্ধের কেউ নেই। সূত্র : পরিবর্তন.কম

 

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ সরদার মোঃ শাহীন,
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ রফিকুল ইসলাম সুজন,
বার্তা সম্পাদকঃ ফোয়ারা ইয়াছমিন,
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ আবু মুসা,
সহঃ সম্পাদকঃ মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিসঃ ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২,
উত্তরা, ঢাকা,
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com