ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প

প্রকাশের সময় : 2018-08-29 21:26:42 | প্রকাশক : Admin

মোঃ আবুল কালাম বিশ্বাসঃ  মাত্র ১৫ বছর বয়সে অপুর (ছদ্মনাম) জীবনে ‘অন্যরকম’ অভিজ্ঞতা তাকে এক কঠিন বাস্তবতার মুখে দাঁড় করিয়ে দেয়। এই বয়সে চারপাশের জীবন সম্পর্কে খুব বেশি জানা হয়ে ওঠেনি তার। মাত্র সপ্তম শ্রেণিতে পড়ত সে। এ সময় জটিলরোগে আক্রান্ত হয়ে বাবা মারা যায়। বাবাকে হারিয়ে অপু গ্রাম থেকে ঢাকায় এসে গার্মেন্টসে চাকরি নেয় এক প্রতিবেশীর সহায়তায়। কিছুদিন পর অসুস্থ মাকেও সে ঢাকায় নিয়ে এসে এক খুপরিঘর ভাড়া নিয়ে সেখানে মাকে রাখে।

গার্মেন্টসে কাজ করতে গিয়ে অপুকে প্রতি পদে পদে অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়। কোয়ালিটি কন্ট্রোলাররা তাকে অযথা হেনস্তা করে। তাদের চাওয়া অনুযায়ী সঠিক পরিমাপে কাজ করলেও তারা অপুর ভুল ধরে। যেভাবে করতে বলে সেভাবে করলেও কীভাবে প্রতিদিনই ভুল হয় অপু তা বুঝতে পারে না। প্রথম প্রথম নির্বোধের মতো ফ্যালফ্যাল করে তাদের দিকে চেয়ে থাকত। এরপর তাদের ‘কাছে ঘেঁষা’য় কিছু না বলতে পারলেও ধীরে ধীরে তার ভুল কমতে থাকে। কী এক অদ্ভুত জীবন এখানে। অপুর এই চাকরি ছেড়ে দিতে মন চায়। কিন্তু সে অসুস্থ মাকে নিয়ে কোথায় যাবে। কীভাবে মায়ের চিকিৎসা করাবে। অল্প কিছু বেশি বেতনের আশায় এখানে সে ওভারটাইমও করে, আর মনে মনে ভাবে মাকে নিয়ে অচিরেই সে অন্য একটা গার্মেন্টেসে চলে যাবে। কিন্তু সেখানেও যদি একই অবস্থা হয় তাহলে কী হবে। এখানে অন্তুত বিল্ডিংটা ভালো; দুর্ঘটনার আশঙ্কা কম। মাঝে মাঝে অপুর গার্মেন্টস থেকে ফিরতে রাত হয়ে যায়। নয়টা-দশটা বেজে যায়। একবার কাজের অর্ডার ছিল বেশি তাই কাজ শেষ করে আসতে তার রাত সাড়ে ১১টা বেজে যায়। সে একটা বাসে উঠল। অল্প কয়েক জন যাত্রী ছিল। ওঠার পরই বাসের কন্ডাক্টর তাকে সিটে বসিয়ে কোথায় যাবে জানতে চাইল। অপু তার গন্তব্য বলার পরে টাকা বের করল। কিন্তু কন্ডাক্টর তার কাছে ভাড়া নিল না। বলল পরে নেবে। অপুর গন্তব্যস্থল খুব বেশি দূরে ছিল না। সে বাস থেকে নামতে গেটের দিকে অগ্রসর হলো। কিন্তু বাস কন্ডাক্টর তার পথ রোধ করে দাঁড়ালো। অপু খেয়াল করল বাসের তথাকথিত অল্প যাত্রীরা আসলে যাত্রী ছিল না। তারা বাসেরই লোক। সবাই তার দিকে এগিয়ে এসে বাসের দরজা বন্ধ করে দিল।

অপু চরম ভয় পেয়ে গেল। সে অনেক অনুরোধ করে বলল, তার অসুস্থ মা বাসায় একা আছে। তাকে এখানেই নামতে হবে। কিন্তু কেউ তার কথা শুনল না। বাসের গতি বাড়িয়ে বাস চলতেই থাকল। অপুর ওপর পাশবিক নির্যাতনে সে জ্ঞান হারিয়ে ফেলল। জ্ঞান ফিরে সে নিজেকে হাসপাতালের বেডে দেখে অবাক হয়ে জানতে চাইল তার মায়ের কথা। কিন্তু কেউ তার মায়ের কথা বলতে পারল না। যে সাংবাদিক অপুকে হাসপাতালে নিয়ে এসেছেন, সেই সাংবাদিক তাকে তার মায়ের কাছে নিয়ে গেল।

কিন্তু মা অপুর চিন্তায় একদম বিষন্ন হয়ে এক প্রতিবেশীর আশ্রয়ে নিস্তেজ হয়ে শুয়ে আছে। এই ভয়াবহ অভিজ্ঞতা অপু কীভাবে সামলাবে তা সে কিছুতেই বুঝে উঠতে পারছে না। সাংবাদিক ভাই তাকে সাহস দিল। বলল, আপনি যদি এখন আত্মহত্যা করেন বা এই ঘটনা মুখ বুঁজে সহ্য করে যান, তাহলে আর দশটা মেয়ে একইভাবে নির্যাতনের শিকার হতে থাকবে। আপনাকে এর প্রতিবাদ করতে হবে।

ভেঙে না পড়ে সাহস নিয়ে এই ঘটনার মোকাবিলা করলো অপু। বাস কন্ডাক্টর আর তার সহযোগীদের পুলিশের কাছে ধরিয়ে দিল। শাস্তি পেল। অপুর ঘুরে দাঁড়ানোর সাহসের গল্প এখন ওর সহকর্মীদের মুখে মুখে।

নারীর প্রতি এমন নির্যাতন চরম অবমাননাকর। নারীর ক্ষমতায়নের অন্তরায়। মুখে শুধু নারীর প্রতি সম্মান আর সহানুভূতির কথা না বলে প্রকৃত অর্থে নারীর মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে। নারীদের এ ব্যাপারে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে হবে। প্রয়োজনে আইনি সহায়তা নিতে হবে। অপু তার গার্মেন্টসে বিষয়টি সহকর্মীদের সঙ্গে আলাপ করল। সবাই তাকে সাপোর্ট দিল। সবাই সিদ্ধান্ত নিল, নারীর প্রতি কোনো নির্যাতনই আর মুখ বুঁজে সহ্য করা হবে না। দিন বদলে যাচ্ছে। যারা নারী ও শিশু নির্যাতনের জন্য দায়ী তাদের মুখোশ উন্মোচন করে তাদের বিচারের কাঠগড়ায় আনতে হবে। তাদের পরিবার ও সমাজের কাছে লাঞ্ছিত করতে হবে।

এ দেশের নারীরা ক্রীড়া ক্ষেত্রে, প্রযুক্তি ক্ষেত্রে, গার্মেন্টসে এমন কি দুর্গম পর্বত জয় করে দেশে ও বিদেশে অভাবনীয় সাফল্য প্রদর্শন করছেন। সেই নারীরা কোনোভাবেই নির্যাতনের পাত্র হতে পারেন না। তাদের আত্মরক্ষার্থে শারীরিক কসরতও শিখতে হবে। অপু নারী নির্যাতনবিরোধী কমিউনিটির সহসভাপতি হিসেবে কাজ শুরু করল। তার কমিউনিটির সদস্যরা তাকে জানাল যে, নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধে সরকার কতগুলো গুরুত্বপূর্ণ বা জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রম বৃদ্ধিসহ প্রতিটি বাসে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকা বাধ্যতামূলক করা যায়। এ ছাড়া সরকার ইতোমধ্যে জরুরি কিছু ফোন নম্বর উন্মুক্ত করেছে। এ সব ফোন নম্বরে ফোন দিয়ে তাৎক্ষণিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা নেয়া যায়। যেমন ৭৭৭ নম্বরটি পুলিশ, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের নম্বর ১০৯২১। নারী নির্যাতনের যে কোনো ঘটনায় ১০৯২১ নম্বরে ফোন করে প্রতিকার চাওয়া যায়। - সূত্র: ভোরের কাগজ

 

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ সরদার মোঃ শাহীন,
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ রফিকুল ইসলাম সুজন,
বার্তা সম্পাদকঃ ফোয়ারা ইয়াছমিন,
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ আবু মুসা,
সহঃ সম্পাদকঃ মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিসঃ ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২,
উত্তরা, ঢাকা,
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com