খাজা মইনুদ্দীন চিশতী (রহঃ) জীবনের অজানা কাহিনী

প্রকাশের সময় : 2018-09-26 16:14:32 | প্রকাশক : Admin
�খাজা মইনুদ্দীন চিশতী (রহঃ)  জীবনের অজানা কাহিনী

মাহমুদুন্নবীঃ (পুর্ব প্রকাশের পর) আস্তে আস্তে লোক সমাগম বাড়তে থাকে খাজা মইনুদ্দিনের দরবারে, হতে থাকে মুসলমান। কোন বাধাই কাজে আসছে না পৃথ্বীরাজের। হাজার হাজার, লক্ষ লক্ষ হিন্দু স্বীয় ধর্ম ত্যাগ করে মুসলমান হচ্ছে। এতো ভয় দেখানোর পর শতছিন্ন বস্ত্র পরিহিত নিরস্ত্র বৃদ্ধার কোন ভয় নেই, নেই কোন শংকা। ভীত হয়ে পড়ে রাজা, হিন্দু সমাজপতি ও পুরোহিতরা। কি করবে ভেবে পায় না রাজা পৃথ্বীরাজ।

অনেক ভেবে চিন্তে পৃথ্বীরাজ ঠিক করলেন, হিন্দু ধর্মের আধ্যাত্বিক সিদ্ধ পূরুষদের দ্বারা প্রতিরোধ করতে হবে ফকিরকে। দায়িত্ব দেয়া হলো এদের প্রধান রামদেরকে। রামদেরও রাজি হলেন। তার দীর্ঘ সাধনালব্ধ আধ্যাত্বিক শক্তিতে হযরত খাজা চিশ্তী (রঃ) কে পরাস্ত করার জন্য তৎক্ষনাৎ উপস্থিত হলেন খাজার দরবারে। খাজা তখন ছিলেন ধ্যানমগ্ন। ধ্যানমুক্ত হয়ে খাজা রামদের এর উপর চোখ ফেলতেই সমস্ত সাধনা মুহুর্তের মধ্যেই নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। মগ্ন হয়ে গেলেন রামদের এবং কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা প্রার্থনাা করে খাজার কদম মোবারকে লুটিয়ে পড়েন। স্বীকার করেন ইসলাম ধর্মকে। রামদের মুসলমান

হওয়ার পর নাম রাখেন মোহাম্মদ সাদী। এতদিন আনা সাগর এর পানি উচ্চ বর্ণে হিন্দু এবং পুরোহিত ছাড়া অন্য কেউ ব্যবহার করতে পারতো না। একদিন খাজার একজন শাগরেদ আনা সাগরে অজু করতে গেলে সেখানকার পুরোহিত তাকে অপমান করে তাড়িয়ে দেয়। শাগরেদ পুরো ঘটনা খাজার কাছে পেশ করলে উনি এক ঘটি পানি আনতে বলেন আনা সাগর থেকে। পানি আনার সাথে সাথে দেখা গেল সমস্ত আনা সাগর শুকিয়ে গেছে। এক ফোঁটা পানিও নেই। একথা রাজার কানে পৌঁছালে তিনি বুঝতে পারলেন, মুসলমানদের পানি ব্যবহার করতে না দেয়াতে এ রকম হয়েছে। তাৎক্ষণিক রাজা পুরোহিতদের পাঠালেন খাজার কাছে মাফ চাওয়ার জন্য। নিজেদের ভুল স্বীকার করার পর মোহাম্মদ সাদীকে ঘটির পানি আনা সাগরে ফেলে দিয়ে আসতে বলেন। সাদী আনা সাগরে পানি ফেলা মাত্র আনা সাগর আবার পানিতে পরিপূর্ণ হয়ে উঠে।

রাজার অবস্থা দিন দিন খারাপ হতে থাকে। কোন কিছুই কাজে আসছে না। একদিন রাজদরবারে অজয় পাল নামে এক ঐন্দ্রজালিক এর সাহায্য নেয়ার জন্য বলে রাজার ঘনিষ্ঠজনেরা। বিশেষ পুরস্কারের কথা বলে অজয় পালকে রাজি করানো হয় খাজা মইনুদ্দিনকে শায়েস্তা করার জন্য। অজয় পাল তার সর্বশক্তি প্রয়োগ করলেন খাজার দিকে। কিন্তু মিথ্যা হয়ে যায় সবকিছু। অজয় পাল বুঝতে সক্ষম হলেন, সত্য এসেছে, এখানে মিথ্যা পরাজিত হবেই। কাল বিলম্ব না করে অজয় পাল তার সঙ্গী সাথীদের নিয়ে কবুল করেন দ্বীন ইসলাম। হজরত খাজা তার নাম রাখেন আব্দুল্লাহ বিয়াবানী। এ সংবাদ শুনে মুসড়ে পড়েন রাজা পৃথ্বীরাজ। এখন থেকে আর বিরুদ্ধাচারণ না করে সহাবস্থানের কৌশল নেয় রাজা। এমনি হাজারো অলৌকিক ঘটনার সাথে লোক সমাগম বৃদ্ধি পেতে থাকে প্রতিদিন। বাড়তে থাকে মুসলমানের সংখ্যা।

এদিকে ঐ পৃথ্বীরাজের দরবারে কাজ করতো খাজার এক মুরিদ। রাজা তাঁর সম্পর্কে সব জেনেও সততা, বিশ্বস্ততা ও উত্তম স্বভাবের কারণে তাঁকে পছন্দ করতেন। কিন্তু রাজ দরবারের অন্যান্যদের প্ররোচনায় একদিন রাজা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন ঔ কর্মচারীর উপর। কর্মচারীটি খাজার কাছে সবকিছু বলার পর তার চাহিদানুযায়ী খাজা একটি সুপারিশ পত্র লিখে পাঠান রাজার কাছে। এতে রাজা আরো ক্ষিপ্ত হয়ে কর্মচারীটিকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করে এবং খাজাকে গালাগাল দেয়। সংবাদ শুনে হজরত খাজার প্রেমময় অন্তরেও প্রজ্জলিত হলো রুদ্ররোষের সর্বধ্বংসী আগুন। তিনি একটুকরো কাগজে লিখে পাঠালেন রাজা পৃথ্বীরাজকে, ‘মান তোরা যেন্দা বদন্তে লশকরে ইসলাম বছোপর্দম’ অর্থাৎ আমি তোমাকে তোমার জীবিতাবস্থাতেই মুসলিম সেনাদলের হাতে সমর্পন করলাম।

৫৮৮ সাল। সুলতান শাহাবুদ্দিন মোহাম্মদ ঘোরী একরাতে স্বপ্নে দেখেন, এক স্বেত শুভ্র বস্ত্রাবৃত একজন জ্যোতির্ময় পুরুষ তাকে বলছে, যাও তোমাকে হিন্দুস্থানের শাসন ক্ষমতা প্রদান করলাম। তিনি বুঝতে পারলেন হয়তো এটি তাঁর আগাম কোন সুসংবাদ। এর কিছুদিন পরই তিনি তার বিশাল বাহিনী নিয়ে হিন্দুস্থান অভিমুখে রওয়ানা হলেন। ইতিপূর্বে পৃথ্বীরাজের কাছে দুই দুইবার পরাজিত হয়েছেন তিনি। যার গ্লানি মুছে ফেলতে এবার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হলেন। হজরত খাজার দোয়ার বরকতে সুলতান শাহাবুদ্দিন একে একে ভারত বর্ষের বিভিন্ন অঞ্চল দখল করতে লাগলেন।

প্রবল পরাক্রমশালী রাজপুত রাজা পৃথ্বীরাজের হিন্দু বাহিনীর প্রধান সেনাপতি রাজার ভাই খান্ডেরাও। সৈন্য সংখ্যা তিন লক্ষ। অন্যদিকে অপেক্ষাকৃত কম সৈন্য নিয়ে ইমানী শক্তিতে বলীয়ান হয়ে এক আল্লাহর সাহায্যে আর গরীবে নেওয়াজের রূহানী তাওয়াজ্জোকে পুঁজি করে মুসলিম বাহিনীর সেনাপতি কুতুবুদ্দিন আইবেক বিজয়ের ঝান্ডা নিয়ে এগিয়ে চলছেন বীরদর্পে। পরাজিত হলো পৌত্তলিক বাহিনী মুসলিম বাহিনীর কাছে। ভাই খান্ডেরাও পালিয়ে বাঁচলেও রাজা স্বরস্বতী নদীর কাছে বন্দি ও পরে নিহত হন। আজমীরে হজরত খাজার দরবারে  লোকের ভীড় দিনকে দিন বাড়তেই থাকে। বাড়তে থাকে মুসলমানের সংখ্যা।

খাজা মইনুদ্দিন আশি বছর বয়সে হজরত জাফর সাদেক (রঃ) এর কন্যা বিবি আছমাতুল্লাকে বিবাহ করেন। ঐ বছর আরো একটি বিবাহ করতে হয় হজরত খাজাকে। আল্লাহ পাক সন্তান সন্ততি দিয়েও পুরস্কৃত করেন খাজাকে। প্রথম স্ত্রীর গর্ভে জন্ম গ্রহণ করেন তিন ছেলে খাজা ফখরুদ্দিন আবুল খায়ের (রঃ), খাজা জিয়াউদ্দিন আবু ছাইদ (রঃ) এবং খাজা হোছামুদ্দিন আবু ছালেহ (রঃ)। আর দ্বিতীয় স্ত্রীর কোল জুড়ে জন্ম নেন একমাত্র কন্যা সৈয়দা বিবি হাফেজা জামাল (রঃ)। ৬৩৩ হিজরীর ৬ রজব রোববার হজরত খাজা মইনুদ্দিন হাসান চিশতী (রঃ) আজমীর শরীফে ইহলোক ত্যাগ করেন।

 

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ সরদার মোঃ শাহীন,
বার্তা সম্পাদকঃ ফোয়ারা ইয়াছমিন,
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ আবু মুসা,
সহঃ সম্পাদকঃ মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিসঃ ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২,
উত্তরা, ঢাকা,
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com