মুখে পোড়া মবিল মেখে দিতে হবে?

প্রকাশের সময় : 2018-11-07 17:07:42 | প্রকাশক : Admin
�মুখে পোড়া মবিল মেখে দিতে হবে?

সিমেক ডেস্কঃ ‘গণতন্ত্র মুক্তি পাক’ শ্লোগান দিয়ে একসময় আন্দোলন করেছি রাজপথে। সারাদেশে ছড়িয়ে পড়া ছাত্র আন্দোলনের সৈনিক ছিলাম আমিও। ছোট্ট শহর পিরোজপুরে থেকে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছি। মিছিল করেছি। শ্লোগান দিয়েছি। স্বৈরাচার হঠিয়েছি। গণতন্ত্র এনেছি- এ ছিলো নব্বইয়ে পরম প্রাপ্তি।

দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়া সেই আন্দোলনের সময়ও আমরা অ্যাম্বুলেন্স আটকাইনি। সংবাদপত্রের গাড়ি আটকাইনি। হরতাল অবরোধ অসহযোগের মতো আন্দোলনের সময়ও মানুষের পথ চলায় আমরা বাধা হইনি। নারী এবং শিশু ছিলো নিরাপদ। আমাদের বড় অস্ত্র ছিলো মানুষের সমর্থন। বড় শক্তি ছিলো মানুষ। আশ্রয়ও ছিলো আমাদের সেই মানুষ।

আজ রাস্তায় মানুষ মরছে। মানুষ মরবে। ঘাতকরা অনায়াসে মারবে। মারতেই থাকবে। তবুও এই ঘাতকের বিচার করা যাবেনা। বিচারের পথ রুদ্ধ করতে খান সেনারা পথে নেমেছে। নামুক, আপত্তি নেই। কিন্তু নবজাতকের কি অপরাধ? অ্যাম্বুলেন্স আটকে দিয়ে কেড়ে নিতে হবে তার প্রাণ। মেয়েদের কি অপরাধ? তাদের মুখে পোড়া মবিল মেখে দিতে হবে?

আহ; গণতন্ত্র। আহ; মুক্তি। আহ; স্বাধীনতা। একাত্তরের খান সেনারা গেছে। এ যুগের খান সেনা জেঁকে বসেছে। প্রতিকার চাইবেন? উপায় নাই। প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন? উপায় নেই। দলবাজ-ধান্ধাবাজ-অন্ধ-বধির-মাতালবাজ-সুবিধাভোগী সুশিলরা এদের পক্ষে। দলতন্ত্র সবার উর্র্দ্ধে। কথা বলার কেউ নেই। হায় দেশ- মানবতা আজ গুমড়ে গুমড়ে কাঁদে।

ঘটনাটি দূপুরে। রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বর এলাকায়। মালিকের ব্যক্তিগত গাড়ি চালক আব্দুর রহিম। পরিবহন ধর্মঘট জেনেও রাস্তায় বেড়িয়েছেন মালিককে নিয়ে। কিন্তু পথিমধ্যেই বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হলো তাকে। ধর্মঘট ডাকা পরিবহন শ্রমিকরা রাস্তায় গাড়ি বের করার দায়ে ওই চালকের মুখে আলকাতরা মেখে দেয়। জোর করে গাড়ির গতিপথ রোধ করে একাধিক শ্রমিক। পরিবহন শ্রমিকরা রাস্তায় দাঁড়িয়ে সকল গাড়ির গতিরোধ করে চালকদের নামিয়ে তাদের মুখে ও গাড়িতে কালো রঙ ও মবিল মেখে দিচ্ছে। অনেকেই বলছেন, সাধারণ জনগণ জিম্মি করে মালিকরা চালাচ্ছেন না কোন গণপরিবহন। ব্যক্তিগত গাড়ি চালকদের ওপর “কালি হামলা” চালাচ্ছে ধর্মঘটকারীরা।

সড়ক পরিবহন আইনের কয়েকটি ধারা সংশোধনসহ ৮ দফা দাবিতে পরিবহন শ্রমিকদের ডাকা ৪৮ ঘণ্টার ধর্মঘটে বিপাকে পড়েছিল যাত্রীরা। পথে পথে অ্যাম্বুলেন্স, ঔষধের গাড়ি, বিদেশ যাত্রী, পরীক্ষার্থীর যানবাহনও আটকে দেওয়া হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় মৌলভীবাজারের বড়লেখায় পরিবহন শ্রমিকদের বাধায় আটকা পড়া অ্যাম্বুলেন্সে সাত দিনের এক কন্যা শিশু মারা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খানের শ্রমিক সংগঠনের ডাকা ধর্মঘটে অচল হয়ে পড়েছিল সারাদেশ। পরিবহন শ্রমিকদের টানা দুই দিনের ধর্মঘটের প্রথম দিন রবিবার সারাদেশে কোন পরিবহন চলেনি। বড় শহরগুলোতে ব্যক্তিগত যান চালানোর ক্ষেত্রেও শ্রমিকরা বাধা সৃষ্টি করেছে। সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে দাবি আদায় করার এই হুমকিকে ভালভাবে দেখছে না সাধারণ মানুষ।

দুই দিনের ধর্মঘটের প্রথম দিন রবিবার রাজধানী ঢাকার চিত্র ছিল ভয়াবহ। সকালে অফিস বা অন্য কোন কাজে যারা বেরিয়েছেন তারা বিকেলে ঘরে ফিরেছেন দুর্ভোগ সঙ্গে নিয়েই। রিক্সা, সিএনজি এবং বিভিন্ন এ্যাপ্সভিত্তিক পরিবহনে গন্তব্যে পৌঁছানো এবং ফেরার চেষ্টা করেছে। তবে প্রয়োজনের তুলনায় এসব যানের পরিমাণ নিতান্তই কম হওয়াতে হেঁটেই বেশিরভাগ মানুষকে গন্তব্যে পৌঁছাতে হয়েছে। অফিস আর স্কুলগামীদের দুর্ভোগ ছিল অবর্ণনীয়। সকাল থেকেই প্রতিটি রাস্তার পাশে শতশত মানুষকে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে।

পরিবহন শ্রমিকদের ধর্মঘটে সারাদেশের মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়লেও এ নিয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি নৌমন্ত্রী শাজাহান খান। সারাদেশের পরিবহন শ্রমিক সংগঠনগুলোর শীর্ষ ফোরাম বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের কার্যকরী সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন সরকারের প্রভাবশালী এই মন্ত্রী। অনেকেই বলেন, তার নির্দেশের বাইরে গিয়ে দেশের পরিবহন শ্রমিকরা কোন কর্মসূচী পালন করে না।

 

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ সরদার মোঃ শাহীন,
বার্তা সম্পাদকঃ ফোয়ারা ইয়াছমিন,
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ আবু মুসা,
সহঃ সম্পাদকঃ মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিসঃ ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২,
উত্তরা, ঢাকা,
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com