স্বপ্নচারী শেখ হাসিনা; সাগর সমান অর্জন

প্রকাশের সময় : 2019-01-03 20:20:07 | প্রকাশক : Admin
স্বপ্নচারী শেখ হাসিনা; সাগর সমান অর্জন

সিমেক ডেস্কঃ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রূপকথার ফিনিক্স পাখির মতো; আগুনের ছাই থেকে উঠে এসেও নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন বাংলাদেশকে। অথচ এ দেশেই একদিন আততায়ীর হাতে নির্মমভাবে নিহত হন বাবা-মা, আত্মীয়স্বজন। নিজেও হামলার শিকার হয়েছেন বেশ কয়েকবার। এত কিছুর পরও মাটিকে ভালোবেসে ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত, সুখী ও সমৃদ্ধিশালী দেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে পথ চলছেন তিনি।

এরই মধ্যে টানা ১০ বছরের শাসনামলে একটি মধ্যম আয়ের দেশের সোপানে তুলে বাস্তবায়ন করেছেন ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন। স্বাধীনতার চার দশক পর হলেও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করে জাতিকে করেছেন কলঙ্কমুক্ত। মাথা নত করেননি দেশি-বিদেশি অজস্র চক্রান্তের কাছে। উল্টো সাহসিকতা, মানবিকতা ও নেতৃত্বগুণে দেশের গন্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তিনি এখন বিশ্বনেত্রী।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একজন অনুকরণীয় নেতৃত্ব। খাদ্যনিরাপত্তা, শান্তিচুক্তি, যুদ্ধাপরাধী ও বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার, সমুদ্র বিজয়, নিজস্ব স্যাটেলাইটের মাধ্যমে মহাকাশ বিজয়, নারীর ক্ষমতায়ন, অর্থনৈতিক উন্নতি, স্বাধীনতার মর্যাদা রক্ষায় সমুজ্জ্বল তিনি।

সত্তরোর্ধ্ব শেখ হাসিনার হাসি এখনো প্রাণবন্ত। সোনার বাংলা থেকে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যকে বিদায় করে বাবার স্বপ্নপূরণের জন্যই যেন তার ছুটে চলা। আশির দশকে যেমন তিনি ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা করেছেন দলকে, তেমনি একটি অনুন্নত দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করতে রেখেছেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। দীর্ঘ তিন যুগ ধরে নেতৃত্ব দিয়ে দলকে ক্ষমতায় এনেছেন চারবার। তার নেতৃত্বেই আওয়ামী লীগ এখন অতীতের যে কোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের দিনবদলের যাত্রা শুরু হয় ২০০৮ সালে। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে ২৬৪টিতেই আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোট জয়লাভ করে। শুরু হয় রূপকল্প ২০২১-এর পথযাত্রা। জাতীয় প্রবৃদ্ধি, মাথাপিছু আয় রেকর্ড ছাড়ায় অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে।

চলতি মেয়াদসহ চারবারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়। অর্থনীতির প্রতিটি সূচকে এগিয়ে যাচ্ছে লাল-সবুজের বাংলাদেশ। বিশ্বের কাছে একটি রোলমডেল। সন্ত্রাস ও জঙ্গি দমনেও তিনি বিশ্বনেতাদের প্রশংসা কুড়িয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য সাফল্য ছিল ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর ভারতের সঙ্গে ৩০ বছর মেয়াদি গঙ্গা পানি চুক্তি। সে অনুযায়ী বাংলাদেশ এখনো কম-বেশি পানির ন্যায্য হিস্যা পাচ্ছে। বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও বাঙালিদের মধ্যকার দীর্ঘদিনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ বন্ধে ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর পার্বত্য শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

বিভিন্ন জটিলতায় সেই চুক্তি পুরোপুরি বাস্তবায়িত না হলেও এখন আর পাহাড়ে আগের মতো যুদ্ধের ডামাডোল নেই। শেখ হাসিনার আমলেই ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর অনুষ্ঠিত ইউনেস্কোর প্যারিস অধিবেশনে ২১ ফেব্র“য়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। পরের বছর থেকেই দিবসটিকে যথাযথ মর্যাদায় পালন করছে জাতিসংঘের সদস্যদেশগুলো।

২০০৯ সালে মিয়ানমার ও ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমানা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ নিষ্পত্তির পথ ধরেই ২০১২ সালে মিয়ানমার ও ২০১৪ সালে ভারতের সঙ্গে বিরোধপূর্ণ সমুদ্রসীমার রায় পায়। এতে সম্মিলিতভাবে বাংলাদেশ ১ লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গকিলোমিটারের রাষ্ট্রীয় সমুদ্র, ২০০ নটিক্যাল মাইল একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং ৩৫৪ নটিক্যাল মাইল মহীসোপান এলাকায় সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছে। শেখ হাসিনার চলতি মেয়াদে ইন্দিরা-মুজিব চুক্তি কার্যকর করায় দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত সমস্যার সমাধান হয়। ৬৮ বছর পর নাগরিক হিসেবে পরিচয় পায় ছিটমহলবাসী।

এখন স্বপ্ন দেখেন স্বপ্ন দেখান স্বপ্ন পূরণ করেন শেখ হাসিনা। বাবার বড় সন্তান হওয়ার সুবাদে খুব কাছ থেকে দেখতে পেয়েছিলেন জাতির পিতা এই দেশের জনগণকে নিয়ে কতটা চিন্তা করতেন। কতটা স্বপ্ন দেখতেন। শেখ হাসিনা সেই থেকে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন তিনি তার বাকি জীবন বাবার স্বপ্নের পথ ধরে এদেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করে যাবেন। আর সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে তিনি রাতদিন পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। শেখ হাসিনা স্বপ্ন দেখেছেন এদেশের মানুষ শিক্ষিত ও প্রযুক্তিসমৃদ্ধ উন্নত জীবনযাপন করবে। তিনি স্বপ্ন দেখেছেন এদেশের মানুষ আর না খেয়ে থাকবে না। তিনি স্বপ্ন দেখেন এদেশের মানুষ আর চিকিৎসার অভাবে মারা যাবে না। তিনি স্বপ্ন দেখেন বাংলাদেশ প্রযুক্তিসমৃদ্ধ উন্নত দেশে পরিণত হবে।

শেখ হাসিনা বাংলাদেশের প্রতিটি ঘরে ঘরে বিদ্যুত পৌঁছে দেয়ার জন্য ১২ হাজার ৩৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুত উৎপাদনে ১১৯টি বিদ্যুত কেন্দ্র স্থাপন করেছেন। বর্তমানে শতকরা ৮৩ ভাগ মানুষ বিদ্যুত সুবিধা পাচ্ছেন। ২০২১ সালের মধ্যে ২৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত উৎপাদন করা হবে। যাতে বাংলাদেশের শতভাগ মানুষ বিদ্যুত সুবিধা ভোগ করতে পারবে। বর্তমানে মাথাপিছু আয় বেড়ে ১৬১০ ডলারে উন্নীত হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ রয়েছে ৩৩.৪৪ বিলিয়ন ডলার যার পুরোটাই দেশরত্ন শেখ হাসিনার অবদান। বর্তমানে ১৩ কোটি মোবাইল সিম ব্যবহারের পাশাপাশি ৮ কোটি মানুষ ইন্টারনেট সেবা পাচ্ছে যার সবটাই শেখ হাসিনার অবদান। প্রতিটি ইউনিয়নে ডিজিটাল সেন্টার স্থাপন করার মাধ্যমে জনগণকে ২০০ ধরনের সেবা দেয়া হচ্ছে।

সারাদেশে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরি করে দেশী-বিদেশী বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। ইতোমধ্যে পদ্মা সেতুর অর্ধেক কাজ শেষ করার পাশাপাশি ঢাকার মেট্রোরেল ও এলিভেটেট এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণকাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে। চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণের পাশাপাশি সারাদেশকে রেল যোগাযোগের আওতায় আনা হচ্ছে। ঈশ্বরদীর রূপপুরে দেশের একমাত্র পারমাণবিক বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে।

শেখ হাসিনাই পটুয়াখালী পায়রাবন্দর নির্মাণের কাজ শুরু করে দিয়েছেন। কক্সবাজারের মাতারবাড়ি, বাগেরহাটের রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুত কেন্দ্র স্থাপনের কাজ এগিয়ে চলছে। তিনি বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করেছেন যা কখনও কারও কল্পনায়ও ছিল না। আজ ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়ক চার লেনে উন্নীত করা হয়েছে। চন্দ্রা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার কাজ চলছে।

অত্যাচার এবং নির্যাতনের মুখে মিয়ানমার থেকে ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীদের স্থান দেয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশ আজ সকল প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে এগিয়ে যাচ্ছে। তাই আজ বাংলাদেশের জনগণের একটাই স্লোগান ‘শেখ হাসিনার হাতে থাকলে দেশ পথ হারাবে না বাংলাদেশ।’

রাষ্ট্র পরিচালনার শত ব্যস্ততার পাশাপাশি বাঙালি নারীর মতো ঘরসংসারও দক্ষতার সঙ্গে সামলেছেন শেখ হাসিনা। ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলও নানা ও মায়ের আদর্শ 

ধারণ করেন। তার প্রয়াত স্বামী ডঃ এম ওয়াজেদ মিয়া ছিলেন একজন স্বনামধন্য পরমাণুবিজ্ঞানী। দিনের নির্দিষ্ট একটি সময়ে নাতি-নাতনিদের সঙ্গেও একান্তে সময় কাটান শেখ হাসিনা। ইসলাম ধর্মের অনুশাসন প্রতিপালন করা এই নেত্রীর দিন শুরু হয় ফজরের নামাজের মধ্য দিয়ে। সূর্য ওঠার আগেই ঘুম থেকে উঠে দিনের পরিকল্পনা শুরু করেন তিনি।

 

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ সরদার মোঃ শাহীন,
বার্তা সম্পাদকঃ ফোয়ারা ইয়াছমিন,
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ আবু মুসা,
সহঃ সম্পাদকঃ মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিসঃ ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২,
উত্তরা, ঢাকা,
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com