পাঁচ মিনিটেই নতুন বিদ্যুত সংযোগ

প্রকাশের সময় : 2019-01-31 13:26:34 | প্রকাশক : Admin
পাঁচ মিনিটেই নতুন বিদ্যুত সংযোগ

সিমেক ডেস্কঃ ভ্যানগাড়িতে আছে মিটার, বিদ্যুতের তারসহ অন্য সরঞ্জাম। সঙ্গে আছেন দুজন লাইনম্যান ও একজন ওয়ারিং পরিদর্শক। প্রতিদিন সকাল থেকে গ্রামে গ্রামে ঘুরছেন তাঁরা। গ্রাহক বিদ্যুত নিতে চাইলে মাত্র পাঁচ মিনিটেই পেয়ে যাবেন সংযোগ। কোনো হয়রানি নেই, দিতে হবে না কোনো বাড়তি অর্থ।

ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগের নাম দেওয়া হয়েছে ‘আলোর ফেরিওয়ালা’। আর এর উদ্যোক্তা হরিণাকুন্ডু উপজেলা পল্লী বিদ্যুতের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) শেখ আবদুর রহমান। তিনি জানান, গত ২৪ ডিসেম্বর শুরু হওয়া এই কার্যক্রম গোটা উপজেলায় সব বাড়িতে বিদ্যুত সংযোগ না পৌঁছানো পর্যন্ত চলবে। শুরুর পর প্রথম চার দিনে তাঁরা ৫৪টি নতুন সংযোগ দিয়েছেন।

ঝিনাইদহের একটি উপজেলা হরিণাকুন্ডু। ৮টি ইউনিয়নের এই উপজেলায় ১৩৬টি গ্রাম রয়েছে, যেখানে প্রায় ৩ লাখ লোকের বসবাস। চাঁদপুর নামের একটি ইউনিয়ন ছাড়া বাকি ৭টি ইউনিয়নে বর্তমানে ৩৭ হাজার ২১৫ জন পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহক রয়েছেন। প্রতিদিনই নতুন সংযোগ দেওয়ার কাজ চলছে।

পল্লী বিদ্যুত হরিণাকুন্ডু জোনাল অফিসের এজিএম শেখ আবদুর রহমান জানান, দেশে এখনো বিদ্যুত নিতে গিয়ে গ্রাহকেরা নানাভাবে হয়রানির শিকার হন। অনেক সময় বাড়তি পয়সাও খরচ হয়ে যায়, যেটা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

শেখ আবদুর রহমান জানান, এই অবস্থা দেখে তাঁর মাঝেমধ্যেই খারাপ লাগত। তা ছাড়া সরকার ঘরে ঘরে বিদ্যুত পৌঁছে দিতে কাজ করে যাচ্ছে। সেই জায়গায় গ্রাহক হয়রানির শিকার হবেন, এটা হতে পারে না। তাই তিনি বিকল্প উদ্যোগ নেন। বাড়ি বাড়ি গিয়ে নতুন সংযোগ কীভাবে দেওয়া যায়, সেই পরিকল্পনা নেন। সেই পরিকল্পনা থেকে তিনি এই ভ্যানগাড়িতে করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে নতুন সংযোগ দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন। এটাকে তিনি ‘আলোর ফেরিওয়ালা, পল্লী বিদ্যুতদুয়ার মিটারিং কার্যক্রম’ নাম দিয়েছেন। ওই নামেই চলছে তাঁর এই কার্যক্রম।

জানা গেছে, গত ২৪ ডিসেম্বর এই কার্যক্রম উদ্বোধন করেন সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মোঃ আলতাফ হোসেন। ওই দিনই ১৩টি নতুন সংযোগ দেওয়া হয়। এরপর ২৫ ডিসেম্বর ১৫ টি, ২৬ ডিসেম্বর ১৬টি ও ২৭ ডিসেম্বর ১১টি সংযোগ দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, তাঁরা গ্রামে গ্রামে ঘুরছেন। যে এলাকার বাসাবাড়িতে এখনো বিদ্যুত নেই, সেই এলাকায় বেশি যাচ্ছেন। যাঁরা নতুন সংযোগ নিতে আগ্রহী, তাঁদের সদস্য ফি বাবদ ভ্যাটসহ ১১৫ টাকা আর জামানত হিসেবে ৪০০ টাকা (বাণিজ্যিক হলে ৮০০) জমা দিতে হচ্ছে। আলোর ফেরিওয়ালাদের কাছে টাকা জমা নেওয়ার রসিদ বই থাকছে, তাঁরা সেখানে বসেই টাকা জমা করছেন। এরপর ওয়্যারিং পরিদর্শক ওয়্যারিং যাচাই করে ঠিক আছে জানালেই সংযোগ দেওয়া হচ্ছে। গোটা প্রক্রিয়ায় মাত্র পাঁচ-ছয় মিনিট সময় লাগছে। গ্রাহককে শহরে আসতে হচ্ছে না, আবেদনের পাঁচ মিনিটেই সংযোগ পাচ্ছেন। এ ছাড়া পল্লী বিদ্যুতের লোকজন গ্রামে গ্রামে ঘুরে বেড়ানোর কারণে পুরোনো গ্রাহকদের কোনো সমস্যা থাকলে সেটাও দ্রুত সমাধান করছেন।

বাড়িতে বসে নতুন সংযোগ পেয়ে হরিণাকুণ্ডু উপজেলার বাকচুয়া গ্রামের রাসেল আহম্মদ জানান, পল্লী বিদ্যুতের এই কার্যক্রম তাঁদের অনেক সুবিধা এনে দিয়েছে। সংযোগ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট অফিসে গিয়ে ধরনা দিতে হচ্ছে না। টাকা জমা দেওয়ার জন্য লাইনে দাঁড়ানো লাগছে না। মাত্র পাঁচ মিনিটেই নতুন সংযোগ পেয়ে যাচ্ছেন, যা এর আগে ভাবতেও পারেননি তাঁরা। পল্লী বিদ্যুতের এই কার্যক্রম দেখে মনে হচ্ছে, সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের কাছ থেকে জনগণ প্রকৃত সেবা পাচ্ছেন।

 

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ সরদার মোঃ শাহীন,
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ রফিকুল ইসলাম সুজন,
বার্তা সম্পাদকঃ ফোয়ারা ইয়াছমিন,
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ আবু মুসা,
সহঃ সম্পাদকঃ মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিসঃ ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২,
উত্তরা, ঢাকা,
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com