খোশ আমদেদ মাহে রমজান!!!

প্রকাশের সময় : 2018-05-11 15:02:44 | প্রকাশক : Admin
�খোশ আমদেদ মাহে রমজান!!!

অধ্যাপক মনিরুল ইসলাম রফিক: আলহামদুলিল্লাহ! আমরা আল্লাহ তায়ালার অপার রহমতে পবিত্র মাহে রমজানুল মোবারকের সিয়াম সাধনা শুরু করবো। আকাশে বাঁকা চাঁদ মুচকি হাসার সঙ্গে সঙ্গেই মাহে রমজানের শুভাগমন ঘটবে, শুরু হবে তারাবিহর সালাতের মাধ্যমে পবিত্র মাসকে বরণ করে নেয়া। নয়া চাঁদ ওঠার সঙ্গে সঙ্গে সকলেই দু’হাত তুলে আল্লাহ তায়ালার কাছে আকুতি জানাবে - আল্লাহুম্মা আহিল্লাহু বিল আমানি ওয়াল ঈমান, ওয়াস্ সালামাতি ওয়াল ইসলাম-হে পরওয়ার দিগারে আলম! এ নয়া চাঁদকে আমাদের জন্য নিরাপত্তা এবং ইমানের প্রতীক বানাও আর শান্তি ও ইসলামের পতাকাতলে শামিল হওয়ার ওয়াসিলা বানাও।

মুমিন মুসলমানদের কাছে এক পরম আনন্দ ও তৃপ্তির মুহূর্ত, তারা এক মহাঅনুভব ও ইবাদত উপভোগের পুতঃসায়রে সন্তরণ শুরু করবে। তারা এ মাসকে নিজের জীবন নিষ্পাপ পুণ্যময় করার সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করবে। তাই দেখা যায়, মুসলিম সমাজের ঘরে ঘরে রমজানের সমাদর, রমজানের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষার বিভিন্ন আয়োজন, এ মাসের মাহাত্ম্য, ফযিলত ও বরকত অর্জনের জন্য নানা আমল ও কর্মসূচী।

ইতিহাসে আমরা দেখি সোনালি যুগের মুসলমানরা এ মাসকে যথাযথ ভাবগম্ভীর পরিবেশে অতিবাহিত করার জন্য রজব মাস থেকে প্রস্তুতি নিতেন এবং তারা রজব থেকে মাহে রমজান পর্যন্ত পুণ্য অর্জনের যে অবারিত ধারা প্রবাহিত হয় তা পাওয়ার জন্য খোদা তায়ালার কাছে ফরিয়াদ করতেন এই বলে; আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফী রাজাবা ওয়া শাবান... অর্থাৎ হে আল্লাহ আমাদের পবিত্র রজব ও শাবান মাসে বরকত দান কর আর পবিত্র মাহে রমজান পর্যন্ত আমাদের পৌঁছে দাও।

তারা শাবান মাস থেকে অধিক পরিমাণে কুরআন চর্চায় আত্মনিয়োগ করতেন, ধনীরা যাকাতের হিস্যা বের করে গরিবদের মধ্যে বিতরণ শুরু করতেন, যাতে মাহে রমজানে সমাজে প্রত্যেকের অর্থনৈতিক অবস্থা ভাল থাকে এবং সিয়াম সাধনায় আত্মনিয়োগ করতে পারে। বস্তুত শুধু ব্যক্তি মুসলমানের জীবনে নয়, গোটা সমাজ সংশোধনে, কৃচ্ছ্রতার মাস, সংযমের মাস রমযানের গুরুত্ব ও তাৎপর্য অপরিসীম। কিন্তু আজ আমরা অতীত যুগের সোনার মানুষদের অনুসরণ করছি না বলেই সিয়ামের বরকত, রমজানের ফজিলত থেকে আমরা বঞ্চিত হচ্ছি।

রমজানুল মোবারক উপলক্ষে কুরআন ও হাদিসে যেসব বাণী এসেছে তা সত্যিই একজন মুমিনকে সৎপথে জীবন রচনার এক দুর্দমনীয় প্রতিযোগিতায় উদ্বেলিত করে তোলে। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা তার পবিত্র আখেরি কালাম কুরআন মাজীদে ইরশাদ করেছেন : শাহরু রামাদানাল লাযী উনযিলা ফীহিল কুরআন হুদাললিন্নাসি ওয়া বায়্যিনাত...। ’ অর্থাৎ ‘রমজান মাস হলো সেই মাস, যাতে নাযিল করা হয়েছে কুরআন, যা মানুষের জন্য হিদায়াত এবং সত্য পথযাত্রীদের জন্য সুস্পষ্ট পথনির্দেশ আর ন্যায় ও অন্যায়ের মাঝে পার্থক্য বিধানকারী। কাজেই তোমাদের মধ্যে যে লোক এ মাসটি পাবে, সে এ মাসে রোজা রাখবে। আর যে লোক অসুস্থ কিংবা মুসাফির অবস্থায় থাকবে, সে অন্যদিনে গণনা পূর্ণ করবে। আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজ করতে চান; তোমাদের জন্য জটিলতা কামনা করেন না, যাতে তোমরা গণনা পূরণ কর এবং তোমাদের হিদায়াত দান করার দরুণ আল্লাহ তায়ালার মহত্ত্ব বর্ণনা কর (আর) যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা স্বীকার কর।’

এবারের রমজানে আমাদের প্রত্যাশা, মাহে রমজান হোক মুমিন মুত্তাকীগণের দীনতা হীনতা দূরীকরণের সাক্ষী, রমজান হোক সকলের আত্মোপলব্ধির- খোশ আমদেদ মাহে রমজান আহলান ওয়া সাহলান। ওহে আল্লাহ দয়া করে আমাদের রোজা, আমাদের নামাজ কালাম, আমাদের রুকু সিজদা, আমাদের তিলাওয়াত তাসবীহ পূর্ববর্তী পুণ্যাত্মা মহান সৎকর্ম পরায়নশীলদের ন্যায় কবুল কর। আমীন।

 

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ সরদার মোঃ শাহীন,
বার্তা সম্পাদকঃ ফোয়ারা ইয়াছমিন,
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ আবু মুসা,
সহঃ সম্পাদকঃ মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিসঃ ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২,
উত্তরা, ঢাকা,
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com