ইন্টারনেটের অপব্যবহার শিশুর মনোজগতে

প্রকাশের সময় : 2019-05-09 19:12:17 | প্রকাশক : Administration
ইন্টারনেটের অপব্যবহার শিশুর মনোজগতে

অলোক আচার্য্যঃ ইন্টারনেট হলো জ্ঞানের এক বিশাল দুনিয়া যেখানে আপনি অনায়াসে নিজেকে সমৃদ্ধ করতে পারেন। আবার অন্যদিকে নিজেকে নেতিবাচক দুনিয়ার সঙ্গেও পরিচিত করাতে পারেন। এটা নির্ভর করে ব্যবহারকারীর ওপর। সোজা কথায় আপনার সামনে দুটো রাস্তা। একটা ভালোর দিকে। যেখানে শুধুই জ্ঞানের বিশাল ভান্ডার। আপনি চাইলেই নিজেকে সমৃদ্ধ করতে পারেন। অন্যটা হলো খারাপ। যেখানে আপনি নিজেকে ধ্বংস করার প্রস্তুতি নিতে পারেন।

আমি কোনদিকে যাব সেটা আমার ইচ্ছা। কিন্তু যেসব ছেলেমেয়ে স্কুলে পড়ে তারা শিশুর পর্যায়ে। যেখানে তাদের ভাল মন্দ বোঝার বয়স হলেও আবেগ নিয়ন্ত্রণের সময় হয় না। তারা বন্ধুদের সাহায্যে হোক, কৌতূহল বশত হোক বা অন্য কোন ভাবে হোক পর্নোসাইট বা খারাপ সাইটগুলোতে প্রবেশ করছে। আর আমরা তো জানি এসব জগতে একবার প্রবেশ করলে তা থেকে মুক্ত হওয়া কঠিন।

এটাও এক ধরনের নেশার মতো। যা একজন শিশুর মনোজগতে মারাত্মক প্রভাব ফেলে। ধ্বংস করে দেয় সৎ চিন্তাগুলোকে। বারবার টেনে নিয়ে যায় অন্ধকারের দিকে। ভাল করার আগ্রহ তার মধ্যে থেকে কমতে থাকে। এবং তার আত্মবিশ্বাস অতিমাত্রায় নেমে যায়। ইন্টারনেটের যে বিশাল ভাল একটি দিক রয়েছে তা তার কাছে অজানা থেকে যায়। স্কুল কলেজ ফাঁকি দিয়ে, বাড়িতে পড়ার ফাঁকে যেকোন সময় সুযোগ পেলেই খারাপ সাইটগুলোতেই ঢুকছে।

ঢাকার স্কুলগামী বহু শিশু পর্নোগ্রাফি দেখে। এটা কেবল ঢাকার চিত্র না। অন্য শহরগুলোতেও একই অবস্থা। কারণ স্মার্টফোন এখন শিশুর নাগালেই থাকে। আর নবম বা দশম শ্রেণীতে পড়া একটা শিশু অনায়াসেই স্মার্টফোন হাতে পায়। সেই সঙ্গে ইন্টারনেট সুবিধা। এটা আমাদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এবং আমাদের সংস্কৃতির জন্য, শিক্ষাব্যবস্থার জন্য হুমকিস্বরূপ। বলা যায় দীর্ঘদিন ধরে বাড়তে বাড়তে আজ এই হারে এসে পৌঁছেছে। এবং এখনই না থামাতে পারলে এর পরিণতি হবে ভয়াবহ।

শুধু এই তথ্যেই নয় বরং বিভিন্ন মিডিয়ায় বিভিন্ন সময় শিক্ষার্থীদের ওপর প্রচারিত প্রতিবেদনেও পর্নোগ্রাফির বিষয়টি উঠে এসেছে। এক জরিপে ঢাকার ৫০০ স্কুলগামী শিক্ষার্থীর ওপর পরিচালিত এ জরিপে পর্নোগ্রাফি নিয়মিত দেখার বিষয়টি নজরে এসেছে। এরা সুস্থ যৌন শিক্ষার বিপরীতে একটি অসুস্থ এবং বিকৃত যৌন রুচির পরিচয় পাচ্ছে। যা পাওয়ার জন্য এসব শিক্ষার্থীদের খুব কষ্ট করতে হচ্ছে না।

হাতের মুঠোর মধ্যে থাকা সস্তা, দামী প্রায় সব মোবাইলেই রয়েছে ইন্টারনেট সুবিধা। আর এই সুযোগের অপব্যবহার করে নিজের মনের মারাত্মক ক্ষতি সাধন করছে। আামাদের হাতের নাগালে প্রাপ্য এসব ডিভাইসে ইচ্ছা করলেই ইন্টারনেটে ঢুকে যে কোন সময় এসব অশ্লীল ভিডিও চিত্র দেখতে পারে, সেগুলো নেট থেকে নামাতে পারে এবং পরবর্তীতে দেখার জন্য সংরক্ষণ করতে পারে।

বিজ্ঞানের অগ্রগতির যুগে আমরা প্রযুক্তিকে পেছনে দিতে পারি না। সব প্রযুক্তিই মানুষের ভালোর জন্যই আসে। আমরা আামাদেরমানসিকতার জন্য তা খারাপ কাজে ব্যবহার করি। হাতে হাতে মোবাইল কিন্তু কোন নেতিবাচক ঘটনা নয় বরং এই সুযোগে যদি নিজেকে খারাপ দিকে নিয়ে যাই তবে সে দোষ কার? প্রযুক্তির? এখন অনেকে তাই দেই। কিন্তু সেটা ঠিক বলে মনে হয় না। কারণ দোষারোপ করে প্রযুক্তির অগ্রযাত্রাকে আটকানো যাবে না। তার চেয়ে বরং নিজেদের মনটাকে পাল্টে ফেলি। এটা অনেক সহজ, কার্যকর ও স্থায়ী।

স্কুলে পড়–য়া শিক্ষার্থীদের মনোজগত হয় আবেগ প্রবণ। এদের মনের অংশটাই জটিল। তাই এদের নিয়ন্ত্রণ করাও কষ্টসাধ্য। এসব শিক্ষার্থীর মনে থাকে অগাধ কৌতূহল। আর কোনভাবে একবার এ পর্নো দেখা শুরু হলে তা মনের বড় ক্ষতি করবে এতে আর সন্দেহ কি। লেখাপড়ার ব্যাগে, অনেক সময় শরীরের বিভিন্ন স্থানে লুকিয়ে বিদ্যালয়েই মোবাইল ফোন নিয়ে আসে অনেক শিক্ষার্থী। তারপর তার অপব্যবহার করে। এটা আমাদের জন্য চিন্তার বিষয়। সন্তানকে সঠিক পথে রাখার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে হবে। দূরত্ব তৈরি করে নয় বরং ভালবেসে কাছে টেনে এ কাজটি করতে হবে। -পাবনা থেকে

 

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ সরদার মোঃ শাহীন,
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ রফিকুল ইসলাম সুজন,
বার্তা সম্পাদকঃ ফোয়ারা ইয়াছমিন,
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ আবু মুসা,
সহঃ সম্পাদকঃ মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিসঃ ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২,
উত্তরা, ঢাকা,
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com