তোমার সৃষ্টি যদি হয় এতো সুন্দর

প্রকাশের সময় : 2019-07-11 18:27:39 | প্রকাশক : Administration
তোমার সৃষ্টি যদি হয় এতো সুন্দর

জান্নাতুল ফেরদৌসঃ আমার SSC পরীক্ষার পর প্রথম সিলেট যাই আমি। পরীক্ষার পর দিনই বড় ভাবির সাথে বেড়িয়ে পড়ি সিলেটের উদ্দেশ্যে। বড় ভাইয়া তখন শাহজালাল University প্রফেসার ছিলেন। ওই সময় প্রায় সারে তিন মাস আমি সিলেটে ছিলাম। সিলেট University গেটের সামনেই সাইফুন হাউজিং এ থাকতো বড় ভাইয়া।

খুব মনে পড়ে বড় ভাইয়ার রুম থেকে University বিল্ডিং এর উপরে মেঘের মধ্য থেকে মাঝে মাঝে ভারতের মেঘালয়ের আসাম, ত্রিপুরা রাজ্য দেখা যেতো। আহা..... কি যে সুন্দর সে দৃশ্য দেখলে দুচোখ যেন জুড়িয়ে যেতো। সন্ধ্যার পর ঐ রাজ্যে যখন রোড লাইটগুলি জ্বলতো তখন মনে হত মেঘের রাজ্যে কোনো এক বিয়ে বাড়ি দেখতে পাচ্ছি। সেই তখন থেকেই আমার এক অন্য রকম ভালোলাগা এই অপূর্ব সুন্দরের লীলাভূমি সিলেটের প্রতি।

এরপর মিঠুর সাথে আরও ৪/৫ বার গিয়েছি সিলেটে। এবার ঈদের ছুটি কাটাতে হঠাৎ করেই সিদ্ধান্ত নিলাম আবারও সিলেট যাবো। এবারের গন্তব্য হবিগঞ্জ জেলার বাহুবলীতে ঞযব চধষধপব জবংড়ৎঃ এ। থাকবো ২ রাত। মিঠু নিজে ড্রাইভ করে আমাদেরকে নিয়ে গেলো। পাঁচ তারা জবংড়ৎঃ, সত্যি খুব সুন্দর কিন্তু এতটুকুতে তো আমার মন ভরলো না..। এতো দূর এসে দু’চোখে দেখা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সবথেকে সেরা চা বাগানে না ঘুরেই চলে যাবো?! চা এর পাতা স্পর্শ না করেই চলে যাবো?!!!! জাফলং, মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতের পানির পরশ না পেয়েই চলে যাবো?!!!! খুব মন খারাপ হয়ে গেলো।

এরপরই শুরু করলাম মিঠুকে বোঝানো। খুব বেশি কষ্ট করা লাগেনি; মিঠু রাজি হয়ে গেলো। ১৭ তারিখ দুপুরে আমরা চলে আসলাম দুটি পাতা একটি কুঁড়ির রাজ্য ঝৎরসড়হমড়ষ এ। ওই দিন মনে হয় পৃথিবীর সবথেকে খুশি ব্যক্তিটি আমিই ছিলাম। ঞবধ ঐধাবহ জবংড়ৎঃ এ ছিলাম আরও দুটি রাত। ল্যাগেজ টা রেখেই আমরা বেরিয়ে পড়ি চা বাগান ঘুরে দেখতে। যতদূর চোখ যায় শুধু সবুজ আর সবুজ, চোখ জুরানো, মন ভোলানো আমার হৃদয় হরণ করা চা বাগান।

আহা.... কি অপূর্ব রূপ আমার দেশের। কি অপূর্ব সৃষ্টি আমার সৃষ্টিকর্তার। বার বার উচ্চ স্বরে সুবহানআল্লাহ বললাম। উচুঁ নিচু পাহাড়ি রাস্তার দুপাশে স্তরে স্তরে সাজানো চা বাগান। গাড়ি থেকে নেমেই ঢুকে পড়লাম চা বাগানে। লাল, নীল, হলুদ পোশাকে পাহাড়ি মেয়েরা চা পাতা তুলছে। কি অপূর্ব দূশ্য। কি সুন্দর দেখতে এই মেয়েরা। না কোনো lipstick পড়া নেই, কাজল পড়া নেই স্যাডো পরা নেই চা কন্যাদের, তার পরও ওরা সুন্দর... অদ্ভুত সুন্দর। ওদের গায়ের ময়লা কাপড়টাই সুন্দর, ওদের গায়ের কালো রংটাই সুন্দর।

খুব ইচ্ছে করছিলো ওদের সাথে চা পাতা তুলতে। কিছুক্ষনের জন্য খুব মনে হচ্ছিল কেন যে আমি চা কন্যা হয়ে জন্ম নিলাম না! চা কন্যারা প্রথমে একটু চুপচাপ থাকলেও একটু পরই আমার সাথে কথা বলা শুরু করল। অনেক কথা হলো ওদের সাথে। দুএক জনের সাথে ছবিও তুলল্লাম।

Srimongol এর ২ দিনের সফরে ৩/৪ টা চা বাগান ঘুরে দেখলাম। মনিপুরী পাড়ায় গেলাম কিছু কেনাকাটা করতে। বিখ্যাত সেভেন লেয়ার চা খেলাম। তারপর ১৮ তারিখ সকালে রওনা দিলাম মাধবকুণ্ডের জলপ্রপাতে। বাংলাদেশের সবথেকে বড় ঝর্ণা এটি। ঝর্ণার স্বচ্ছ শীতল পানির পরশ পেলাম। ছেলেরা আর মিঠু ঝর্ণার পানিতে গোসল করলো। সুন্দর ..... খুব সুন্দর .....!!

আহা, প্রকৃতি বড় বেশি সুন্দর তুমি। বার বার আসতে চাই আমি তোমার বুকে; আলিঙ্গন করতে চাই তোমাকে, নিজেকে হারিয়ে ফেলতে চাই তোমার মাঝে। আবারও কৃতজ্ঞতায় ভরে গেলো আমার বুকের ভেতরটা। মনে মনে বলে উঠলাম তোমার সৃষ্টি যদি হয় এতো সুন্দর .... না জানি তাহলে তুমি কত সুন্দর, কত সুন্দর!!

 

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ সরদার মোঃ শাহীন,
বার্তা সম্পাদকঃ ফোয়ারা ইয়াছমিন,
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ আবু মুসা,
সহঃ সম্পাদকঃ মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিসঃ ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২,
উত্তরা, ঢাকা,
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com