এক অচ্ছুতের প্রতিষ্ঠান হয়ে ওঠার গল্প

প্রকাশের সময় : 2019-09-12 23:25:33 | প্রকাশক : Administration
এক অচ্ছুতের প্রতিষ্ঠান হয়ে ওঠার গল্প

সিমেক ডেস্কঃ লালন ফকির! প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় শিক্ষিত না হয়েও নিজের সৃষ্টিশীলতার মাধ্যমে নিজেই হয়ে উঠেছেন এক বৃহৎ প্রতিষ্ঠান। বাউল সম্রাট হিসেবে পরিচিত এই সাধকের জীবন  নিয়ে যুগ যুগান্তর ধরে চলছে নানা বিতর্ক। জীবনের নানা চড়াই উৎরাই এর মাঝে লালন খুঁজে গেছেন নিজের অন্তরআত্মা রূপী মনের মানুষকে। নিজের গানের মাধ্যমে বিশ্ববাসীর মনেও জাগিয়ে তুলতে চেয়েছেন আত্ম অনুসন্ধানের প্রশ্ন।

লালনের জন্ম সাবেক নদীয়া জেলায় কুষ্টিয়া মহকুমার অন্তর্গত কুমারখালি থানার চাপড়া-ভাড়ারা গ্রামে হিন্দু কায়স্থকুলে। পিতা মাধবচন্দ্র কর ও মাতা পদ্মাবতী। শৈশবে পিতৃহীন হন লালন। তরুণ বয়সে বিয়ের কিছুদিন পর প্রতিবেশী বাউল দাসের সাথে নৌকায় মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরে যান গঙ্গাস্নানে। ফেরার পথে বসন্তরোগে আক্রান্ত হলে অচেতন অবস্থায় মৃত ভেবে তাকে গঙ্গায় ভাসিয়ে ফিরে যায় অন্যান্য সঙ্গীরা। গ্রামে লালনের মৃত্যুর খবর প্রচারিত হয়।

গঙ্গার স্রোতে লালনের দেহ ভাঁসতে ভাঁসতে ভেড়ে এক ঘাটে। সেখানে এক মুসলিম মহিলা তাকে দেখতে পেয়ে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান। মহিলার সেবাযত্নে আরোগ্য লাভ করেন লালন। সে বাড়িতেই তার দেখা হয় যশোর জেলার সিরাজ সাই নামে এক সাধকের সাথে। সিরাজ সাইয়ের মরমি উপদেশ ও দর্শন লালনকে প্রভাবিত করে।

কিছুদিন পর লালন গ্রামে ফিরে গেলে তার জননী ও স্ত্রী আনন্দে আত্মহারা হলেও সগোত্র ও সমাজ তাকে মেনে নিতে পারেনা। মৃত ভেবে শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়া এবং মুসলমানের বাড়িতে আশ্রয় গ্রহনের অপরাধে হিন্দু আচারমতে লালনকে প্রায়শ্চিত্য করার নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু প্রায়শ্চিত্যের বাহ্যিক আনুষ্ঠানিকতা মানার মতো আর্থিক অবস্থা ছিল না লালন-জননীর। সমাজের চাপে বিক্ষুব্ধ হয়ে গ্রাম ছেড়ে চলে যান লালন।

বাড়ি থেকে বের হয়ে সিরাজসাইয়ের কাছে গিয়ে শিষ্যত্ব গ্রহণ করে সাধক জীবন শুরু করেন। গুরু সিরাজসাইয়ের মৃত্যুর পর তিনি ছেউড়িয়ায় এসে আখড়া স্থাপন করে সেখানেই বসবাস করেন আমৃত্যু।

জোড়াসাকো ঠাকুর পরিবারে লালনের নিয়মিত যাতায়াত ছিল বলে অনেক গবেষকের মত রয়েছে। ঠাকুর পরিবারের জমিদারির অন্তর্গত ছিল শিলাইদহ অঞ্চল। শিলাইদহের বিরাহিমপুর পরগনার ছেউড়িয়ায় লালনের আখড়া হওয়ায় তার সম্পর্কে কৌতূহলী ছিলেন ঠাকুরপরিবারের জ্যোতিরিন্দ্রনাথ, রবীন্দ্রনাথ, সরলা দেবী, ইন্দিরা দেবী প্রমুখ।

লালন সাঁইয়ের মৃত্যুর ১ বছর ৫ মাস আগে শিলাইদহ বোটের উপর জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুরের আঁকা লালনের ছবিটি লালনের জীবিত অবস্থার একমাত্র প্রতিকৃতি। ছবিতে বৃদ্ধ লালন একটা চেয়ারে সামনের দিকে ঝুঁকে বসে আছেন।

লালনের সাথে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দেখা হওয়ার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ মেলেনি। তবে লালনের গান কবিগুরুকে দারুণভাবে প্রভাবিত করেছিল। প্রবাসী পত্রিকার হারামণি বিভাগে লালনের ২০ টি গান প্রকাশ করেছিলেন রবি ঠাকুর। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে বক্তৃতা দেয়ার সময় খাঁচার ভিতর অচিনপাখি গানের ইংরেজি অনুবাদ করে শোনান বিদেশী শ্রোতাদের। লালনের সাথে দেখা না হলেও তার শিষ্যদের সাথে কবিগুরুর নিয়মিত দেখা ও আলোচনা হত বলে জানা যায় তার চিঠি থেকে।

বাংলা ভাষা সংস্কৃতির বৈপ্লবিক রূপকার কাজী নজরুল ইসলামের রচনায়, বিশেষত বেশ কয়েকটি গানে লালনগীতির প্রভাব রয়েছে সরাসরি। নজরুল ছিলেন লালনগীতির এক সমঝদার ভক্ত ও অনুরাগী শ্রোতা। তিনি কলকাতার কল্লোল আসরে লালনগীতি গেয়েছেন। লালন ভক্ত অনুসারীদের সান্নিধ্য পেয়েছেন আর তাদের কাছ থেকে গান শোনাসহ পত্রপত্রিকা ও গ্রন্থে প্রকাশিত সামান্য কিছু লালনগীতির সাথে পরিচিত হয়েছিলেন।

বাউলসম্রাট লালনের গান ভক্ত অনুরাগী ও শিষ্যদের মাধ্যমে সমাজের সকল স্তরে পৌঁছেছিল। যুক্তিগ্রাহ্য প্রশ্ন আর প্রতিবাদমুখর ভাষায় লেখা গান গুলো সহজে গ্রহণ করতে পারেননি সমাজের অনেক উঁচুশ্রেণীর লোক। ফলে যুগে যুগে নানা প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে হয়েছে লালন পন্থীদের।

লালনের জীবনকালেই জালালাতল ফোকরা নামক এক গ্রন্থে লালনকে ফতোয়া দেওয়া হয়েছে, পিরবাদের ভন্ড বাউল ফকিরদের বিপথগামী গুরু। লালন চেতনা বিমুখ কট্টরপন্থী নেতাদের দ্বারা সরাসরি আক্রমণের শিকারও হতে হয়েছে লালন সাঁই ও তার শিষ্যদের। লালন সম্পর্কে সংগৃহিত কবি জসীমউদ্দিনের পরিবেশিত তথ্য থেকে জানা যায় উগ্রবাদীদের লালনের উপর আক্রমণ চেষ্টার ঘটনা। শেষজীবনে লালন প্রায়ই নিজ আখড়া ছেড়ে শিষ্যদের বাড়িতে বা অন্য আখড়ায় অবস্থান করতেন নিরাপত্তার খাতিরে।

১৯৪২ সালে ছেউড়িয়ার লালন আখড়ায় দোল পূর্ণিমার সময়ে অনুষ্ঠিত সাধুসঙ্গ অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা লালন ভক্ত অনুরাগীদের মাঝে আক্রমন চালায় এলাকার স্থানীয় প্রভাবশালী নেতারা। বেশ কয়েকজন লালন শিষ্যকে মারধর, শারিরীক নির্যাতন করে মাথার চুল বাবরি কেটে দিয়েছিল তারা। এই ঘটনার পর প্রভাবশালী উগ্রপন্থী 

 

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ সরদার মোঃ শাহীন,
বার্তা সম্পাদকঃ ফোয়ারা ইয়াছমিন,
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ আবু মুসা,
সহঃ সম্পাদকঃ মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিসঃ ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২,
উত্তরা, ঢাকা,
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com