বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়ার কারণ...

প্রকাশের সময় : 2018-05-24 22:07:41 | প্রকাশক : Admin
�বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়ার কারণ...

প্রগতিশীল সামাজিক নীতি এবং কিছু ঐতিহাসিক কারণে দক্ষিণ এশিয়ার দরিদ্রতম দেশগুলোর একটি থেকে বাংলাদেশ এখন উচ্চাকাঙ্খী অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এশিয়ার অন্যতম এবং অপ্রত্যাশিত সাফল্যের গল্প হয়ে গেছে বাংলাদেশ।

এক সময় এই অঞ্চলটি ছিল পাকিস্তানের দরিদ্রতম এলাকা। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর দারিদ্র্য এবং দুর্ভিক্ষের কবলে পড়া দেশটি অর্থনীতিতে তলাবিহীন ঝুড়ি হিসেবেই বিবেচিত হয়েছে। ২০০৬ সালে বাংলাদেশ যখন প্রবৃদ্ধিতে পাকিস্তানকে ছাড়িয়ে যায়, তখন তাকে অপ্রত্যাশিত সাফল্য হিসেবেই ধরা হয়েছিল। কিন্তু ওই সময় থেকে প্রতি বছর পাকিস্তানের তুলনায় বাংলাদেশের জিডিপির প্রবৃদ্ধি আড়াই শতাংশেরও বেশি হচ্ছে। চলতি বছর এই প্রবৃদ্ধি ভারতের প্রবৃদ্ধিকে ছাড়িয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। বাংলাদেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার এখন ১.১ শতাংশ। যেটা পাকিস্তানের চেয়ে দুই শতাংশ কম। এর প্রভাবে বাংলাদেশে মাথাপিছু আয় পাকিস্তানের প্রতি বছরের ৩.৩ শতাংশের তুলনায় অনেক বেশি হারে বাড়ছে। আশা করা যাচ্ছে, মাথাপিছু ডিজিপির দিক থেকে বাংলাদেশ ২০২০ সালের মধ্যে পাকিস্তানকে ছাড়িয়ে যাবে। এমনকি ক্রয় ক্ষমতার মধ্যেও যদি সমতা আসে।

বাংলাদেশ কীভাবে এটা করল? ঐতিহাসিক নানা অনুঘটক বিবেচনা করে এর কোনো সুনির্দিষ্ট জবাব পাওয়া যায় না। আমার ধারণা, নারীর ক্ষমতায়নের ফলে যে সামাজিক পরিবর্তন হয়েছে সেটিই অর্থনৈতিক দিক থেকে বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ।আর এই নারীর ক্ষমতায়নের পেছনে সরকারের অবদানের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। নারীদের শিক্ষার পাশাপাশি ঘরের ভেতরে এবং বাইরে নারীদের অধিকার বোধ জাগ্রত করতে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে। আর শিশুর শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে এর প্রভাব পড়েছে। আর এখন বাংলাদেশের গড় আয়ু ৭২ বছর। এটি ভারতে ৬৮ এবং পাকিস্তানে ৬৬ বছর।

তৃণমূল পর্যায়কে অন্তর্ভুক্ত করতে নেয়া অর্থনৈতিক উদ্যোগগুলোর জন্য বাংলাদেশের সরকারকে কৃতিত্ব দিতে হবে। বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনেও তার চিত্র ফুটে উঠেছে। বাংলাদেশের অগ্রগতির আরেকটা আংশিক ব্যাখ্যা হতে পারে তৈরি পোশাক শিল্প। বেশ কিছু কারণে এই শিল্প ব্যাপক অগ্রগতি করেছে।

বাংলাদেশ উৎপাদন খাতের শ্রমিকদের জন্য তুলনামূলক ভালো পরিবেশের নিশ্চয়তা করতে পেরেছে যেটা আবার কারখানাগুলোকে অর্থনৈতিক দিক দিয়ে শক্তিশালী করেছে। তবে পেশাগত ঝুঁকি থেকে শ্রমিকদের রক্ষায় বাংলাদেশে এখনও শক্তিশালী আইনি কাঠামো তৈরির প্রয়োজন রয়েছে।

প্রশ্ন হলো বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সাফল্য টেকসই হবে কি না। এখন অবধি বাংলাদেশের অগ্রগতি চমৎকার। তবে এর কিছু ঝুঁকি রয়ে গেছে। যেমন, যখন একটি দেশের অর্থনীতি অগ্রগতির পথে যাত্রা শুরু করে তখন দুর্নীতি, জোটবদ্ধতা এবং বৈষম্য বাড়ে। একে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে অগ্রগতির চাকা ধীর হয়ে যেতে পারে। বাংলাদেশও এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম নয়। কৌশিক বসু: বিশ্বব্যাংকের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্নেল ইউনিভার্সিটির অর্থনীতির অধ্যাপক।

 

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ সরদার মোঃ শাহীন,
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ রফিকুল ইসলাম সুজন,
বার্তা সম্পাদকঃ ফোয়ারা ইয়াছমিন,
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ আবু মুসা,
সহঃ সম্পাদকঃ মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিসঃ ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২,
উত্তরা, ঢাকা,
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com