গভীর সমুদ্রবন্দর ও বিদ্যুৎকেন্দ্র ঘিরে চলছে কর্মযজ্ঞ

প্রকাশের সময় : 2020-02-12 12:47:11 | প্রকাশক : Administration
গভীর সমুদ্রবন্দর ও বিদ্যুৎকেন্দ্র ঘিরে চলছে কর্মযজ্ঞ

সিমেক ডেস্কঃ কক্সবাজারের মহেশখালীতে সোনাদিয়া দ্বীপে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ পরিকল্পনা আঞ্চলিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির চাপে পিছিয়ে পড়েছে। তবে কাছাকাছি মাতারবাড়িতে কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রকে ঘিরে যে সমুদ্রবন্দরের নির্মাণ কাজ চলছে সেটিকেই গভীর সমুদ্রবন্দরে পরিণত করার কর্মযজ্ঞ চলছে। এই মাসেই মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণে প্রকল্প উন্নয়ন প্রস্তাবনা (ডিপিপি) অনুমোদন হবে। আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। বে-টার্মিনালও সীতাকুণ্ডের কুমিরা পর্যন্ত সম্প্রসারিত করা হবে।

সোনাদিয়ায় গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণে চীনের সঙ্গে চুক্তি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে তা বাতিল হয়ে যাওয়ায় নেপথ্যে প্রতিবেশী এক দেশের নাম আসে। চীন এতে দমে যায়নি। মিয়ানমারকেই বেছে নিয়েছে তারা। অশান্ত রাখাইন প্রদেশের কিয়াউকফুতে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা ঘেঁষে চীন নির্মাণ করবে গভীর সমুদ্রবন্দর। চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ১৮ জানুয়ারি মিয়ানমারের রাজধানী নেপিডোতে এ সংক্রান্ত দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন। ২০১৪ সালের ৬ থেকে ৯ জুন পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চীন সফরকালে অন্য বিষয়ের সঙ্গে সোনাদিয়া গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণে জিটুজি চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা ছিল।  কিন্তু শেষমুহূর্তে তা আর হয়নি। চীন চেয়েছিল সোনাদিয়ায় গভীর সমুদ্রবন্দর হলে কুনমিংয়ের কন্টেইনার এখান থেকে হ্যান্ডলিং করা হবে।

সে লক্ষ্যে মিয়ানমার অংশে সড়ক নির্মাণও করে ফেলে। বাংলাদেশে সীমান্ত থেকে মহেশখালী পর্যন্ত সড়ক নির্মাণেও চীনের পরিকল্পনা ছিল। সেটি না হওয়ায় তারা এখন রাখাইনে তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। বাংলাদেশও সোনাদিয়া প্রকল্প থেকে সরে মাতারবাড়িতেই গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণে তোড়জোড় শুরু করেছে। মহেশখালীর মাতারবাড়িতে ৬০০ মেগাওয়াট করে ১২০০ মেগাওয়াটের দুইটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মিত হচ্ছে সরকারি উদ্যোগে। কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিপিজিসিবিএল) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।

৩০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন এ প্রকল্পে সিংহভাগ অর্থের জোগান দিচ্ছে জাপানের সাহায্য সংস্থা জাইকা। বিদ্যুৎকেন্দ্রের কয়লা খালাসের জন্য দুইটি জেটি নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণের পর জাইকায় পরামর্শ দেয় কিছু কাজ সংযোজন করে এটিকেই গভীর সমুদ্রবন্দর হিসেবে গড়ে তোলা যায়। এখানে ইতোমধ্যেই নির্মিত হয়েছে এলএনজি টার্মিনাল। চলছে কয়লা খালাসের টার্মিনাল নির্মাণ কাজ। মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দরের ডিপিপি পাঠানো হয়েছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে। ১৮ হাজার ৫৮০ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্পে ১৩ হাজার ২৫৩ কোটি টাকা দেবে জাইকা। ২ হাজার ৭৪০ কোটি টাকা দেবে সরকার এবং ২ হাজার ৫৮৮ কোটি টাকা দেবে অন্য সংস্থা।

মাতারবাড়িতে সাগরের গভীরতা ১৬ মিটার। ফলে এখানে ১৫ মিটারের বেশি ড্রাফটের জাহাজ ভিড়তে পারবে। ১ লাখ টন কার্গোবাহী জাহাজ এবং ৮ হাজার টিইইউস কন্টেইনারবাহী জাহাজ সরাসরি এখানে ভিড়তে পারবে। চট্টগ্রাম বন্দরে সাড়ে ৯ মিটারের বেশি ড্রাফটের জাহাজ ভিড়তে পারে না।

 

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ সরদার মোঃ শাহীন,
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ রফিকুল ইসলাম সুজন,
বার্তা সম্পাদকঃ ফোয়ারা ইয়াছমিন,
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ আবু মুসা,
সহঃ সম্পাদকঃ মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিসঃ ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২,
উত্তরা, ঢাকা,
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com