অবহেলিত দক্ষিণাঞ্চলে অপার সম্ভাবনা

প্রকাশের সময় : 2020-10-28 11:38:11 | প্রকাশক : Administration
অবহেলিত দক্ষিণাঞ্চলে অপার সম্ভাবনা

সিমেক ডেস্কঃ ধান-নদী-খালবেষ্টিত অঞ্চল বরিশাল। সাগর বিধৌত ও নদী বেষ্টিত বরিশাল বিভাগের সঙ্গে একসময় সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল খুবই অনুন্নত। সড়ক পথে ফেরি পারাপার ছিল বিড়ম্বনার। নৌপথেও যাতায়াতে আধুনিক ব্যবস্থা ছিল না। আকাশ পথও ছিল বিচ্ছিন্ন। আর রেল গাড়ি? তা স্বপ্নেও ভাবেননি দক্ষিণাঞ্চলবাসী। এসবের কারণে অবজ্ঞার চোখে দেখা হতো বরিশালসহ গোটা দক্ষিণাঞ্চলবাসীকে।

স্বাধীনতা পরবর্তীকালে বিএনপি দীর্ঘদিন সরকারে থাকা ও এ অঞ্চলে বিএনপির প্রভাবশালী মন্ত্রী, এমপি, এমনকি রাষ্ট্রপতি থাকলেও বরাবরই দক্ষিণাঞ্চল ছিল অবহেলিত। সেই অবহেলিত মানুষের কাছে আশীর্বাদ হয়ে এসেছে বর্তমান ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। দলের সভাপতি ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ়চেতা ও দূরদর্শী সিদ্ধান্তে অবহেলিত দক্ষিণাঞ্চলে এখন অপার সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে।

ইতোমধ্যে বরিশালসহ পুরো দক্ষিণাঞ্চলবাসীর স্বপ্নের পদ্মা সেতুর ৯০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। পায়রা সমুদ্রবন্দরে পণ্য ওঠানামা করছে। পায়রা বন্দরের অদূরে লালুয়া ইউনিয়নে এক হাজার একর আয়তনের এলাকা ঘিরে নির্মাণাধীন কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়েছে।

বরিশাল বিভাগের পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় দেশের দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবল নেটওয়ার্কের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বরিশালে নির্মিত হয়েছে শেখ হাসিনা সেনানিবাস। গড়ে উঠছে আইসিটি পার্ক (হাইটেক পার্ক), বিমান বাহিনীর রাডার কেন্দ্র, বঙ্গবন্ধু নভোথিয়েটার ও অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ অসংখ্য প্রতিষ্ঠান। এছাড়া দেশের দ্বিতীয় পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য বরিশালের হিজলা উপজেলার হিজলা-গৌরবদী ইউনিয়নের মেঘের চর নামক এলাকাকে প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

নির্মাণাধীন পদ্মা সেতুর কল্যাণে সরাসরি রেলপথ যাবে ঢাকা থেকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা হয়ে বরিশাল দিয়ে পটুয়াখালীর পায়রা সমুদ্রবন্দর পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণের জন্য সরকার থেকে নেয়া হয়েছে ব্যাপক পরিকল্পনা। ইতোমধ্যে অধিকাংশ উপজেলাকে শতভাগ বিদ্যুতায়নের আওতায় আনা হয়েছে।

অনেকেই বলছেন দক্ষিণাঞ্চলবাসীর স্বপ্নের পদ্মা সেতুর কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন হওয়ার পর পায়রা বন্দরকে ঘিরে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চল হবে সিঙ্গাপুরের চেয়েও সমৃদ্ধ অর্থনৈতিক অঞ্চল। বরিশাল বিভাগের ছয়টি জেলার প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের সর্বত্রই লেগেছে উন্নয়নের ছোঁয়া।

পায়রা সমুদ্রবন্দর আর কুয়াকাটার পর্যটন শিল্পকে ঘিরে বর্তমান সরকারের সময়ে শুরু হওয়া মেগা প্রকল্পের কর্মযজ্ঞ অতীতে কল্পনাও করেননি এ অঞ্চলের মানুষ। চলমান বৃহৎ প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হলে কয়েক লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে। এতে করে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ মাথাপিছু আয়ের শহর হবে বরিশাল।

চলমান বিভিন্ন প্রকল্পের অব্যাহত অগ্রগতিতে একসময়ের অবহেলিত দক্ষিণাঞ্চলকে ঘিরে এখন সারাদেশের আগ্রহের সৃষ্টি হয়েছে। আর এ আগ্রহের নেপথ্যে কাজ করছেন স্বাধীনতার স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ১৯৯৬ সালে তৎকালীন সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কুয়াকাটাকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা করেন।

২০০৯ সালে দ্বিতীয় দফায় শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর বরিশাল তথা দেশের দক্ষিণাঞ্চলকে ঘিরে উন্নয়নের নানা পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়। তারই ধারাবাহিকতায় কুয়াকাটার সঙ্গে সরাসরি সড়ক যোগাযোগের জন্য আওয়ামী লীগের গত আমলে কলাপাড়া, হাজীপুর এবং মহিপুরের ফেরির পয়েন্টে সেতু নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।

এসব সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরবর্তীতে দ্রুতগতিতে এসব সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার পর ২০১৮ সালে তিনটি সেতু সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়েছে। বর্তমানে প্রায় শেষের পথে দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে লেবুখালীর পায়রা নদীর ওপর সেতু নির্মাণের কাজ। এ সেতুর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হলে বরিশাল কুয়াকাটার সঙ্গে সরাসরি সড়কপথে আর কোন ফেরি থাকবে না।

অপরদিকে বরিশাল-ঢাকা নৌরুটে চলাচল করছে বিলাসবহুল অত্যাধুনিক নৌযান। কয়েক বছর বন্ধ থাকার পর আওয়ামী লীগ সরকারের বিগত সময়ে বরিশাল-ঢাকা আকাশ পথে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান ছাড়াও চলাচল করছে বেসরকারী ইউএস বাংলা এবং নভো এয়ারের বিমান। দ্রুত কুয়াকাটা এবং পায়রা বন্দরকে রেলওয়ে নেটওয়ার্কের মধ্যে আনার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শেখ হাসিনা সরকারের দক্ষিণাঞ্চলে ব্যাপক উন্নয়নে চলমান প্রকল্প ছাড়াও প্রস্তাবিত বরিশালের আগৈলঝাড়া ও ভোলায় বিশেষ অর্থনৈতিক জোন, ভোলা-বরিশাল সেতু, পাইপ লাইনের মাধ্যমে ভোলার গ্যাস বরিশালে আনার উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে বরিশাল বিভাগজুড়ে ব্যাপক হারে গড়ে উঠবে দেশী-বিদেশী শিল্প প্রতিষ্ঠান।

এছাড়া একই স্থানে দাঁড়িয়ে সূর্যাস্ত আর সূর্যোদয় দেখার বিরল সুযোগ রয়েছে জাপানে। ঠিক একই সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশের বিশাল সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটায়। সাগর কন্যা কুয়াকাটায় এখন উন্নতমানের অসংখ্য হোটেল, মোটেল ও রেস্টুরেন্ট হয়েছে। যে কোন পর্যটকরা স্বাচ্ছন্দ্যে বেড়াতে পারছেন কুয়াকাটায়। বেড়ানো ছাড়াও এখন কুয়াকাটাকে ঘিরে বিভিন্ন ধরনের ব্যবসার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। যার অন্যতম শাপলাপাতা মাছ প্রক্রিয়াজাত (শুঁটকি) এবং মৌসুমি ফল তরমুজ বিদেশে রফতানি করা হয়।

মাদার ভেসেল নোঙ্গরের সুবিধাসহ চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরের চেয়েও আধুনিক মানের হিসেবে গড়ে তুলতে পায়রা সমুদ্র বন্দরের বিভিন্ন অংশের নির্মাণ কাজ চলছে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার লালুয়া ইউনিয়নের রাবনাবাদ চ্যানেলের সামনে। পায়রা বন্দরে কন্টেনার টার্মিনাল, এলএনজি টার্মিনাল, বাল্কহেড টার্মিনাল, শিপইয়ার্ড, আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দরসহ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল নির্মাণ কাজে চলছে ব্যাপক কর্মযজ্ঞ।

বরিশালে রয়েছে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, আলাদা মহিলা ও পুরুষ টেকনিক্যাল ট্রেনিং কলেজ (টিটিসি), মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল। উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ এবং মেরিন একাডেমি। প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়। সবকিছু মিলিয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য বরিশালেই রয়েছে সবধরনের ব্যবস্থা।

বরিশালে যে রফতানিমুখী শিল্প কারখানা চালানো যায়, তার প্রমাণ করেছে ফরচুন সুজ। বরিশালের বিসিক শিল্প নগরীতে প্রতিষ্ঠিত এই কারখানায় প্রায় দেড় হাজার শ্রমিক কাজ করেন। তাদের তৈরি জুতা রফতানি করা হয় ইউরোপের বিভিন্ন দেশে। এ কারখানার কাঁচামাল সবই চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আমদানি করা হয়। আবার চট্টগ্রাম বন্দর দিয়েই জুতা ইউরোপে যায়। পায়রা বন্দর পুরোপুরি চালু হলে তাদের কাঁচামাল আমদানি ও পণ্য রফতানিতে সময় কম লাগবে। - সূত্রঃ অনলাইন

 

সম্পাদক ও প্রকাশক: সরদার মোঃ শাহীন
উপদেষ্টা সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম সুজন
বার্তা সম্পাদক: ফোয়ারা ইয়াছমিন
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: আবু মুসা
সহ: সম্পাদক: মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিস: ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা।
বার্তা বিভাগ: বাড়ি # ৩৩, রোড # ১৫, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা।
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com