একটি মেয়ের এএসপি হওয়ার গল্প

প্রকাশের সময় : 2020-11-26 12:32:06 | প্রকাশক : Administration
একটি মেয়ের এএসপি হওয়ার গল্প

কোন সফলতাই এমনি এমনি আসেনা। এর পিছনে অনেক কষ্ট, সাধনা আর ত্যাগ থাকে। থাকে অনেক গল্প। বেগম রোকেয়া দিবসে ঘাটাইল উপজেলা থেকে জেলা পর্যায়ে সেরা জয়িতা হয়েছেন মারুফা নাজনীন। তিনি মনে করেন জীবনের এই বিশাল সম্মাননা পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করতে পেরেছেন তার মায়ের জন্য। 

মারুফা নাজনীন একজন পুলিশ অফিসার। এলাকায় সে পরিচিত লিপি নামে। লক্ষ্মীপুর জেলার রামগাতি সার্কেল এএসপি হিসেবে কর্মরত আছেন। পিতা আখতার হোসেন মাতা ফরিদা ইয়াছমিন। বাড়ি টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার পৌর এলাকার শহীদ আব্দুর সাত্তার রোডে। তিনি খুব সাধারণ পরিবারের একজন মেয়ে। তিন ভাই বোনের সংসারে মারুফা সবার বড়। তার বাবার আরও একটি সংসার ছিল। তাই তাদের ঠিক মতো ভরণপোষণ করতেন না। দুই তিন মাস পর বাবা একবার তাদের সাথে দেখা করতে আসতেন। আবার কোন সময় আসতেন না। বাবা দু-তিনদিন পরপর দুইশ’ করে টাকা পাঠাতেন। তা দিয়ে ছোট বোনের এক প্যাকেট দুধ আর এক কেজি চিনি কিনলে এক কেজি চাল কেনার মতো টাকা থাকতো না।

মা ভাত রান্না করতো আর মা মেয়ে দু’জনে লবণ পানি দিয়ে খেয়ে দিন পার করতেন তারা। তার পড়ালেখার জন্য বাবা কখনো ভাবতো না। নবম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় পড়াশোনা একেবারে প্রায় বন্ধই হয়ে গিয়েছিল তার। টাকার অভাবে নবম শ্রেণিতে রেজিষ্ট্রেশন করতে পারেননি তিনি। এক বছর লেখাপড়া বন্ধ ছিল।

পরের বছর মা তার কানের এক জোড়া দুল বিক্রি করে অতি কষ্টে ঘাটাইল এস.ই বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সহযোগিতায় বোর্ড থেকে রেজিষ্ট্রেশন করে আনেন। দশম শ্রেণিতে ক্লাস শুরু করার পর মা ঠিক মতো খাতা কলম কিনে দিতে পারতো না। একটা ছাড়া দুইটা জামা তার ছিল না।

মা সেলাইয়ের কাজ জানতো। সেসময় একজন লোকের কাছ থেকে ১৫শ’ টাকা ধার করে কিস্তিতে একটা সেলাই মেশিন কিনেন তিনি। এরপর রান্নাসহ ছোট দুই ভাই বোনের দেখাশোনার কাজ তার ওপর এসে পড়ে। তার মা শুরুতে বাজার করার ব্যাগ সেলাই করতেন। প্রতি ব্যাগে পেতেন ২০ পয়সা করে। তারপর এলাকায় পরিচিত হলে কাপড় সেলাই করা শুরু করেন।

এভাবেই চলতে ছিল তাদের সংসার। পড়ালেখার পাশাপাশি রাত জেগে মায়ের কাজে সাহায্য করতেন তিনি। এরই মধ্যে এসএসসি’র টেস্ট পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করেন। পরে স্কুলের ইংরেজি স্যার খাজা ফেরদৌস বাসায় এসে তাকে এক রিম খাতা এবং দশটা কলম উপহার দেন। ছাত্রীর কাছে স্যারের একটাই চাওয়া, শুধু ভালো একটা রেজাল্ট। স্যার সবসময় তার খোঁজ নিতেন। এসএসসি পাস করার পর ঘাটাইল জি.বি.জি কলেজে ভর্তি হন তিনি। কলেজে বেতন দিতে হতো না। স্যারেরা তাকে প্রাইভেট পড়াতেন ফ্রিতে। এভাবেই এসএসসি এবং এইচএসসি’র সময়কাল পার করেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া তার হবে না, তাই ঘাটাইলেই বিএসসি করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

মায়ের ইচ্ছেতে শুরু হলো ভার্সিটিতে ভর্তি পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি। চান্স পেয়ে গেলেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ময়মনসিংহে। পড়ালেখার পাশাপাশি প্রাইভেট পড়াতেন তিনি। এরই মাঝে গ্রামীন ব্যাংক থেকে শিক্ষাঋণ নেন তিনি। অনার্স শেষ বর্ষে এসে তার বিয়ে হয়। মাস্টার্স পড়ার খরচ স্বামী চালিয়েছেন।

মাস্টার্স শেষ করে ৮ মাস একটি এনজিওতে চাকরি করেন। এরই মধ্যে ফার্ম ষ্ট্রাকচার এর উপর থিসিস শেষ করেন। পরে ফেনী সিটি কলেজে কৃষি বিষয়ে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। চাকরিরত অবস্থায় ৩৩তম বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নেন। বিসিএস চূড়ান্ত ফলাফলে পুলিশ প্রশাসন (এ.এস.পি) পদে টিকে যান তিনি। এ খবর শোনার পর সেদিন আনন্দে অনেক কেঁদেছিলেন তিনি। -সূত্রঃ মানবজমিন 

 

সম্পাদক ও প্রকাশক: সরদার মোঃ শাহীন
উপদেষ্টা সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম সুজন
বার্তা সম্পাদক: ফোয়ারা ইয়াছমিন
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: আবু মুসা
সহ: সম্পাদক: মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিস: ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা।
বার্তা বিভাগ: বাড়ি # ৩৩, রোড # ১৫, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা।
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com