সমাজ বদলে ৫ তরুণের অঙ্গীকার

প্রকাশের সময় : 2018-04-12 17:40:37 | প্রকাশক : Admin
�সমাজ বদলে ৫ তরুণের অঙ্গীকার

সিমেক ডেস্কঃ বর্তমান সমাজে মানুষের মধ্যে বই পড়ার প্রবণতা কমে যাচ্ছে। এ নিয়ে সুধীজনদের মাঝে গাঢ় হতাশা আছে। আছে শঙ্কার অন্ধকার। তবে এর মধ্যেও আশার আলো আছে। সে আলো জ্বেলে দিচ্ছেন তরুণরাই। তেমনই কয়েক তরুণের স্বপ্ন এবং উদ্যোগের ফল ‘খিলক্ষেত পাঠাগার’।

বই পড়ার গুরুত্ব সম্পর্কে বিখ্যাত লেখক মার্ক টোয়েন বলেছিলেন, বই পড়ার অভ্যাস নেই আর পড়তে জানেনা (নিরক্ষর) এমন লোকের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। তবে বর্তমানের ব্যস্ততাভরা জীবনে মানুষের মধ্যে- বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে পাঠ্যপুস্তকের বাইরে বই পড়ার প্রবণতা কমে আসছে। নতুন পাঠক গড়ে না ওঠায় সেভাবে গড়ে উঠছে না পাঠাগারও। অথচ পাঠাগারের গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে বিখ্যাত লেখক প্রমথ চৌধুরী লিখেছিলেন, ‘আমাদের মনে হয় এ দেশে লাইব্রেরির সার্থকতা হাসপাতালের চেয়ে কিছু কম নয় এবং স্কুল-কলেজের চাইতে একটু বেশি’।

আগে একসময় ঘরে ঘরে ব্যক্তিগত লাইব্রেরির সন্ধান মিলতো। বর্তমানে তরুণদের ভেতর সেই আগ্রহ কম। তাইতো রাজধানী ঢাকার কয়েক মাইলের মধ্যে দাঁড়িয়ে যাওয়া এশিয়ার বৃহত্তম দুটি সুবিশাল শপিংমল- বসুন্ধরা সিটি ও যমুনা ফিউচার পার্কে জীবনযাপনের প্রায় ধরনের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দোকান থাকলেও, নেই কোনো বইয়ের দোকান! কেন নেই? প্রশ্নটা একটু ঘুরিয়ে করা যায়। থাকবে কেন? পর্যাপ্ত চাহিদা এবং পাঠক না থাকলে- কে বা কেন দেবে বইয়ের দোকান? বইয়ের দোকান কমার সঙ্গে সঙ্গে তাই লক্ষণীয়ভাবে কমে গেছে পাঠাগারও। অথচ, জ্ঞানের পরিধি বাড়াতে এবং মূল্যবোধ সমুন্নত করতে বই পড়ার মতো অমূল্য অভ্যাস গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই।

২০১০ সালের ৪ঠা আগস্ট খিলক্ষেতের বটতলায় স্থাপিত হয় খিলক্ষেত পাঠাগার। পাঁচ বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া তরুণ সমাজে বই পড়ার ‘রেনেসাঁ’ ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে উদ্যোগ গ্রহণ করেন। ব্যক্তিগত টাকার পাশাপাশি বাইরে থেকেও চেয়েচিন্তে অর্থ সংগ্রহ করে স্থানীয় এক মুরব্বির বাড়ির ছাদে গড়ে তোলেন খিলক্ষেত পাঠাগার। পাঁচ সাধারণ শিক্ষার্থীর জন্যে একটি পাঠাগার দিয়ে বসা এবং তা চালিয়ে নেয়ার ব্যাপারটি শুনতে যতটা সহজ মনে হয়, বাস্তবে কাজটি তার চেয়ে অনেক অনেক বেশি কঠিন।

বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করা, পাঠাগারের জন্যে দ্বারে দ্বারে গিয়ে অর্থ/বই সংগ্রহ করা, পাঠাগার পরিচালনা করা- একজন শিক্ষার্থীর জন্যে কঠিন চ্যালেঞ্জই বলতে হবে। তবে এই চ্যালেঞ্জের মুখে দমে যাননি তারা। বুক চিতিয়ে লড়ে গেছেন নিজেদের সীমাবদ্ধতা এবং চারপাশের নানা প্রতিকূলতার সঙ্গে। আর অদম্য ওই তরুণদের অপ্রতিরোধ্য স্পৃহায় দাঁড়িয়ে গেছে খিলক্ষেত পাঠাগার। পাঠাগারটি বর্তমানে পুরনো জায়গা থেকে স্থানান্তর করে নিয়ে আসা হয়েছে পাশের একটি ভবনে। এর বর্তমান বই সংখ্যা ২৪০০। নিবন্ধিত পাঠক সংখ্যা ১৯২ জন।

সদস্য হতে হলে ১০০ টাকা দিয়ে ফরম পূরণ করে মাসিক ২০ টাকা হারে চাঁদা দিতে হয়। সদস্যরা বাসায় বই নিয়ে যেতে পারেন। তবে পাঠাগারে এসে বই পড়ার ক্ষেত্রে নেই সদস্য হবার প্রয়োজন। যে কেউ পাঠাগারে এসে বই পড়তে পারেন। পাঠাগার উন্মুক্ত থাকে বিকাল ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত। পাঠাগারে গত সাত বছরে এসেছেন প্রায় ৩০ হাজার পাঠক। প্রতিদিন গড় পাঠকের সংখ্যা ২৫ এর বেশি।

বর্তমানে খিলক্ষেত পাঠাগারের কর্মকাণ্ড শুধু বই পড়ার সুযোগ দেয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ছড়িয়ে পড়েছে নানান সামাজিক উদ্যোগে। প্রতিবছর পাঠাগারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন জাতীয় দিবসে নানা অনুষ্ঠান এবং আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সামাজিক বিভিন্ন মৌলিক সমস্যা নিরূপণে সচেতনতা গড়ে তোলার জন্যে কাজ হয়। এসএসসি এবং এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বিনামূল্যে কোচিং করানো হয়। কাজ করা হয় পথ শিশুদের কল্যাণে।

পাঠাগারটি পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, ছেলে মেয়েরা সেখানে বই পড়ছে। যে ব্যাপারটি বিশেষ করে নজর কাড়ে তা হলো- তাদের এক জনের সঙ্গে আরেক জনের সম্প্রীতি। সংগঠকদের সঙ্গে তাদের হৃদ্যতাও লক্ষণীয়। যেন এক সুতোয় গাঁথা একটি পরিবার। পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা সংগঠক আফসিদ ইয়ামিনের কাছে জানতে চাওয়া হয়- কেন এ রকম স্বপ্ন দেখা? তিনি বলেন, একটি পাঠাগার শুধু বই পড়ার জায়গা নয়। আমি বিশ্বাস করি- এটি পরিণত হতে পারে সমাজ পরিবর্তনের স্বপ্নদ্রষ্টাদের মিলন মেলায়। একাত্মভাবে গ্রহণ করা যায় নানা সামাজিক উদ্যোগ।

তিনি আরো জানান, লাইব্রেরীর পাঠকদের মধ্যে থেকেই সংগঠক তুলে আনা হয়। প্রতিমাসে সেরা পাঠক নির্বাচন করে পুরস্কৃত করা হয়। এর মাধ্যমে সুষম প্রতিযোগিতার একটা সুন্দর চর্চা আমরা গড়ে তোলার চেষ্টা করছি। সম্প্রতি চাকরি প্রার্থীদের ইন্টারনেটে পড়াশোনা এবং চাকরির আবেদনের সুবিধার্থে একটি কম্পিউটার যুক্ত হয়েছে পাঠাগারে। পাঠাগারের অন্যতম সংগঠক কাজী ইসমাইল নাদিম বলেন, বইমেলা সামনে রেখে বই সংগ্রহের একটি বিশেষ কার্যক্রমও হাতে নেয়া হয়। এর মাধ্যমে ২০১টি নতুন বই সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়।

তরুণ এই স্বপ্নদ্রষ্টাদের আত্মত্যাগ এবং আন্তরিকতা সত্ত্বেও পাঠাগারের পরিচালনা করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত তাদের নানান সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি হতে হয়। কারণ দিনশেষে কার্যক্রম পরিচালনায় প্রয়োজন অর্থের। এই অর্থের সংকুলান করতে গিয়ে তারা প্রায়শ হিমশিম খান। পাঠাগারের একজন নিয়মিত পাঠক রাকিব। নটরডেম কলেজের এই শিক্ষার্থী বলেন, এখান থেকে আমি ১০০ ও বেশি বই পড়েছি। পাঠাগার কর্তৃপক্ষ থেকে প্রতিবেদককে বলা হয়, আমাদের পাঠাগারকে এগিয়ে নিতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা থাকা সত্ত্বেও আমাদের সামর্থ্য অপ্রতুল। এর সমৃদ্ধকরণে আমরা মানুষের সহযোগিতা কামনা করি।

প্রিয় পাঠক, অদম্য তারুণ্যের সমাজ বদলে দেবার উদ্যোগে ধীরে ধীরে আমাদের দেশে ঘটবে ইতিবাচক পরিবর্তন। এগিয়ে যাবে দেশ। এটিই আমরা বিশ্বাস করি। এই তরুণ স্বপ্নদ্রষ্টাদের পাশে দাঁড়িয়ে চলুন আমরাও অংশীদার হই সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায়।

 

সম্পাদক ও প্রকাশক: সরদার মোঃ শাহীন
উপদেষ্টা সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম সুজন
বার্তা সম্পাদক: ফোয়ারা ইয়াছমিন
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: আবু মুসা
সহ: সম্পাদক: মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিস: ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা।
বার্তা বিভাগ: বাড়ি # ৩৩, রোড # ১৫, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা।
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com