তরুণ প্রজন্মের চেতনা ও আদর্শে মৃত্যুঞ্জয়ী বঙ্গবন্ধু

প্রকাশের সময় : 2023-08-17 11:15:23 | প্রকাশক : Administration
তরুণ প্রজন্মের চেতনা ও  আদর্শে মৃত্যুঞ্জয়ী বঙ্গবন্ধু

শোকাবহ ১৫ আগস্ট। জাতীয় শোক দিবস। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৮তম শাহাদতবার্ষিকী। ১৯৭৫ সালের এই দিনে মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শত্রুদের প্ররোচনায় মানবতার দুশমন, ঘৃণ্য ঘাতকরা সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বপরিবারে নৃশংসভাবে হত্যা করে। বিভীষিকাময় ইতিহাসের এক ভয়ঙ্কর দিন ১৫ আগস্ট।

১৯৭৫ সালের এইদিনের কালরাত্রিতে ঘটেছিল ইতিহাসের এক কলঙ্কজনক ঘটনা। সেদিন আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করা হয়েছিল কিন্তু তার অবিনশ্বর চেতনা ও আদর্শ মৃত্যুঞ্জয়ী। ঘাতকের সাধ্য ছিল না ইতিহাসের সেই মহানায়কের অস্তিত্বকে বিনাশ করে। আগস্ট মাসটি বাংলাদেশের মানুষের কাছে শোকের মাসে পরিণত হয়েছে কলঙ্কজনক ঘটনারটির জন্য।

ধানমন্ডির ঐতিহাসিক ৩২ নম্বর বাসভবনে স্বপরিবারে বঙ্গবন্ধু নিহত হলেও সেদিন দেশে না থাকায় প্রাণে বেঁচে যান বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা এবং কনিষ্ঠ কন্যা শেখ রেহানা। সে সময় স্বামী ডঃ ওয়াজেদ মিয়ার সঙ্গে জার্মানিতে সন্তানসহ অবস্থান করছিলেন শেখ হাসিনা। শেখ রেহানাও ছিলেন বড় বোনের সঙ্গে।

বঙ্গবন্ধুর জীবন খুব একটা দীর্ঘ ছিল না। ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ তিনি তৎকালীন ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জ মহকুমার পাটগাতি ইউনিয়নের টুঙ্গিপাড়া গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা শেখ লুৎফর রহমান ছিলেন স্থানীয় দায়রা আদালতের সেরেস্তাদার। মা সায়েরা খাতুন ছিলেন গৃহিণী। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের কালরাত্রিতে স্বপরিবারে নিহত হওয়ার সময় তাঁর বয়স ছিল মাত্র ৫৫ বছর।

পৃথিবীতে খুব কম নেতাকেই পাওয়া যাবে যিনি জীবনের এই সময়কালের বেশিরভাগটাই কারাগারে কাটিয়েছেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর জীবনের বেশির ভাগ সময়ই কারাগারে কাটিয়েছেন। ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট সরকারের নির্বাচন, ১৯৬৬ সালের ৬ দফা আন্দোলন, ৬৮ এর সরকার বিরোধী আন্দোলন, ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান, ৭০ এর নির্বাচন, ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ এসবই ছাপিয়ে যায় তাঁর নেতৃত্বে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ঘটনা।

বঙ্গবন্ধু একটি রাষ্ট্রের জন্মদাতার নাম। মানুষটির নাম উচ্চারণের সঙ্গে সঙ্গে রচিত হয়ে যায় ইতিহাসের শত শত পাতা। ইতিহাস নিজেকে ঠুনকো মনে করে এই মহান মানুষটির সামনে। আর মনে হবেই না বা কেন? বঙ্গবন্ধু নিজেই এক মূর্তিমান ইতিহাস, গৌরবের ইতিহাস, প্রাণের ইতিহাস। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একটি নাম, যে নাম শুনলেই ভেসে ওঠে সেই ছবিটি, যেখানে একটি লোক জনসমুদ্রের সামনে দাঁড়িয়ে তর্জনী তুলে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিচ্ছেন। যে ভাষণে স্বাধীনতার ডাক পেয়ে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল সর্বস্তরের বাঙালি।

সেদিনের সে ভাষণে জেগে উঠেছিল তরুণ সমাজ। তরুণদের শক্তি একত্রিত হয়ে পাকিস্তানি হানাদারের বিরুদ্ধে বুলডুজার হিসেবে কাজ করেছিল। বঙ্গবন্ধু স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসের উজ্জ্বল নক্ষত্রের নাম। যিনি চিরভাস্বর হয়ে আছেন বর্তমান প্রজন্মের কাছে।

আজীবন অসাম্প্রদায়িক রাজনীতিতে বিশ্বাসী ছিলেন বলেই সারাটা জীবন সাম্প্রদায়িকতা, ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে লড়াই করে গেছেন বঙ্গবন্ধু। বঙ্গবন্ধু আজ আমাদের মাঝে নেই। তবুও মনে হয় আজ যদি তিনি থাকতেন, অনেক কিছুই অন্যরকম হতে পারত। আজও তিনি সমান প্রাসঙ্গিক। 

বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ সমর্থক দুটি শব্দ। মুক্তিযুদ্ধের অবিনাশী চেতনায় আজ দেশের তরুণ প্রজন্ম জেগে উঠেছে। একাত্তরে যেমন বাঙালির মুখে ‘জয়বাংলা’আর হৃদয়ে ‘বঙ্গবন্ধু’-এই দুটিই ছিল পাকিস্তানি হানাদারবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধরত বাঙালির মূল অস্ত্র, তেমনি বর্তমান তরুণ প্রজন্মকে তাঁরই আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে নিজেকে উৎসর্গ করতে হবে। 

ধর্ম নয়, বর্ণ নয়, গোত্র নয়; একটি ভাষা ও সংস্কৃতির ভিত্তিতে বাংলাদেশ নামে একটি আলাদা দেশের স্বপ্ন দেখেছেন এবং বাস্তবায়ন করেছেন বঙ্গবন্ধু। তাঁর লালিত জাতীয়তাবাদের ভিত্তির উপরেই দাঁড়িয়ে আছে গোটা বাংলাদেশ। 

’৫২ ও ’৭১-এ সবার আগে তরুণ প্রজন্মই এগিয়ে এসেছিল নিজেদের প্রাণের মায়া ত্যাগ করে। তেমনি বর্তমান প্রজন্মও ঠিক তাদের পূর্বসূরীদের অনুসরণ করে যাচ্ছে। স্বাধীনতার চেতনা ও বঙ্গবন্ধুর চেতনাকে বুকে আঁকড়ে ধরে ঠিকই আজ এগিয়ে যাচ্ছে।

বঙ্গবন্ধুর অবদানকে তরুণ প্রজন্ম সবসময় স্মরণ করে শ্রদ্ধাভরে। পালন করে তাঁর আদর্শ। যারা জাতির জনকের আদর্শ জানবে, তারাই অনুসরণ করবে। জাতির পিতার দর্শন তরুণ প্রজন্মকে জাতীয়তাবাদে উদ্বুদ্ধ করছে। তাঁর আদর্শকে অনুসরণ করে তরুণদের দেশ গড়ার কাজে এগিয়ে আসতে হবে।

বঙ্গবন্ধুর পাঁচ আত্মস্বীকৃত ঘৃণ্য খুনিকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদন্ডাদেশ কার্যকর করা হয়েছে। তবে এখনো বিদেশের মাটিতে পলাতক রয়েছে আরো ছয় খুনি। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত ১২ আসামির মধ্যে এই ছয় খুনি প্রায় একযুগ ধরে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। পিতৃ হন্তারক এ খুনিরা হলো লেঃ কর্নেল (বরখাস্ত) খন্দকার আবদুর রশিদ, মেজর (বরখাস্ত) শরিফুল হক ডালিম, লেঃ কর্নেল (অবঃ) এ এম রাশেদ চৌধুরী, মেজর (অবঃ.) এসএইচএমবি নূর চৌধুরী, ক্যাপ্টেন (অবঃ) আবদুল মাজেদ ও রিসালদার মোসলেমউদ্দিন খান। পলাতক অবস্থায় মারা গেছে আরেক আসামি আজিজ পাশা। - কৃতজ্ঞতায়: ফারাজী আজমল হোসেন, রফিকুল ইসলাম রবি (সংগৃহিত)

 

সম্পাদক ও প্রকাশক: সরদার মোঃ শাহীন
উপদেষ্টা সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম সুজন
বার্তা সম্পাদক: ফোয়ারা ইয়াছমিন
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: আবু মুসা
সহ: সম্পাদক: মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিস: ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা।
বার্তা বিভাগ: বাড়ি # ৩৩, রোড # ১৫, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা।
ফোন: ০১৮৯৬০৫৭৯৯৯
Email: simecnews@gmail.com