শুধু কাঞ্চনজঙ্ঘা নয়, পুরো পঞ্চগড়ই দর্শনীয়

প্রকাশের সময় : 2023-11-09 11:50:32 | প্রকাশক :
শুধু কাঞ্চনজঙ্ঘা নয়, পুরো পঞ্চগড়ই দর্শনীয়

জেসিউর রহমান শামীম: পঞ্চগড় বাংলাদেশের সর্বউত্তরের একটি শহর। শহরটি উত্তরবঙ্গের রংপুর বিভাগে অবস্থিত পঞ্চগড় জেলার জেলা শহর। প্রশাসনিকভাবে শহরটি পঞ্চগড় জেলা এবং পঞ্চগড় সদর উপজেলার সদর দফতর। করতোয়া নদীর পাশে অবস্থিত এ শহরটি হিমালয় এতই কাছাকাছি অবস্থিত যে মাঝেমাঝে এ শহরে দাঁড়িয়েই দেখা যায় হিমালয় পর্বত।

জেলার তিন দিকে ভারত। এর মাঝেই অবস্থান সীমান্তের রূপসী কন্যা পঞ্চগড় জেলা। আজ থেকে প্রায় শত বছর আগে এই ভূখন্ডের সৌন্দর্য-পরিমন্ডল প্রাণান্ত ও উজ্জ্বীবিত ছিল প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে সৃষ্ট ৩৩টি প্রবাহমান নদীর গতিপথের কলকল ছলছল শব্দে। যে নদী পথেই বৃটিশ ও পাকিস্তান আমলের জনযোগাযোগের বড় মাধ্যম ছিল পালতোলা বা দাঁড়টানা নৌকা, ছিল স্টীমারের মত যান্ত্রিক জলযানও। আস্তে আস্তে সেই স্বর্গময় প্রকৃতি বিলীন হয়ে পড়েছে। সারা দেশের সেকালের সেই সৌন্দর্যময় প্রকৃতি এখন আধুনিকতার ছোঁয়ায়, কয়েক ধাপ রূপ লাবণ্যের পরিবর্তন হয়েছে। আগের মত নেই প্রকৃতির যশ-জৌলুস, রূপ-রস। তবে পঞ্চগড়ের প্রকৃতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি; রবং নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। সমতল ভূমিতে সবুজ চা বাগানের মায়াবী প্রকৃতি মানবমনের মানসিক সুস্থতা বৃদ্ধি করেছে।

প্রাচীনকালে পুন্ড্রবর্ধন রাজ্যের অর্ন্তগত ‘পঞ্চনগরী’ নামে একটি অঞ্চল ছিল। কালক্রমে পঞ্চনগরী ‘পঞ্চগড়’নামে আত্মপ্রকাশ করে। ‘পঞ্চ’(পাঁচ) গড়ের সমাহার ‘পঞ্চগড়’নামটির অপভ্রংশ ‘পঞ্চগড়’দীর্ঘকাল এই জনপদে প্রচলিত ছিল। কিন্তু এই অঞ্চলের নাম যে পঞ্চগড়-ই ছিল সে ব্যাপারে সম্পূর্ণ নিশ্চিত হওয়া যায় না। ‘পঞ্চগড়’ হলো এই ‘পঞ্চ’(পাঁচ) গড়ের সমাহার। গড়গুলো হলো: ভিতরগড়, মিরগড, রাজনগড়, হোসেনগড় এবং দেবনগড়।

আবার কিছুটা ভিন্ন মতে, ‘পঞ্চ’শব্দের অর্থ ‘পাঁচ’, আর ‘গড়’শব্দের অর্থ ‘বন বা জঙ্গল’। ভারত বিভাগের আগে এই অঞ্চল জঙ্গলাকীর্ণ থাকায়, তা থেকেও এলাকার নাম হতে পারে ‘পঞ্চগড়’। যদিও বর্তমানে জনবসতি গড়ে ওঠায় বন্যভূমি প্রায় নেই বললেই চলে।

এপারে বাংলাদেশের, ওপারে ভারতের সবুজ চা বাগান, নয়ন-মন জুড়িয়ে যাবে। নদীর স্রোতধারা, দুদেশের সীমান্তের প্রকৃতি; এযেনো সৌন্দর্যের মহাসমুদ্রে লুকিয়ে থাকা প্রকৃতির এক রহস্যঘেরা। পঞ্চগড় জেলায় বেশ কিছু পর্যটন এলাকা আছে।

পঞ্চগড় সরকারি মহিলা কলেজ চত্ত্বরে ২০০০ খ্রিস্টাব্দে উক্ত কলেজের তৎকালীন অধ্যক্ষ নাজমুল হক এর প্রচেষ্টায় রক্স মিউজিয়ামটি প্রতিষ্ঠিত হয়। উক্ত মিউজিয়ামে পঞ্চগড় জেলার প্রত্নতাত্ত্বিক ও লোকজ সংগ্রহ রয়েছে প্রায় ১,০০০ (এক হাজার) সংখ্যক এরও বেশি।

বাংলাবান্ধা স্থল বন্দর এই জেলাতেই অবস্থিত। এই স্থল বন্দর ১০ একর জায়গা জুড়ে। এখানে ভ্রমণ করলে দেখা যাবে নয়নাভিরাম দৃশ্য কেননা এক দিকে মহানন্দা নদী, নদীর বৃক্ষরাজিসহ তীর এবং অপর দিকে ভারতের অংশ এবং দূরে কাঞ্চনজঙ্ঘা। এই স্থল বন্দর দিয়েই নেপাল, ভূটান, গ্যাংটক, শিলিগুড়ি এবং দার্জিলিংসহ বহু স্থানে যাওয়া যায়।

পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলা সদরে একটি ঐতিহাসিক ডাক বাংলো আছে। এর নির্মাণ কৌশল অনেকটা ভিক্টোরিয়ান ধাচের। জানা যায় কুচবিহারের রাজা এটি নির্মাণ করেছিলেন। পাশাপাশি তেঁতুলিয়া উপজেলা পরিষদ কর্তৃক নির্মিত একটি পিকনিক কর্তারও রয়েছে। উক্ত স্থান দুইটি পাশাপাশি অবস্থিত হওয়ায় সৌন্দর্য বর্ধনের বেশি ভূমিকা পালন করছে। এই স্থান হতে হেমন্ত ও শীতকালে কাঞ্চন জংঘার সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। বর্ষাকালে মহানন্দা নদীতে পানি থাকলে এর দৃশ্য আরও বেশি মনোরম হয়।

পঞ্চগড় জেলার রাজপ্রাসাদের সন্নিকটে ছিল একটি বড় পুকুর বর্তমানে যা ’মহারাজার দিঘী’নামে পরিচিত। ’মহারাজার দিঘী’একটি বিশালায়তনের জলাশয়। পানির গভীরতা প্রায় ৪০ ফুট বলে স্থানীয় অধিবাসীদের বিশ্বাস। পানি অতি স্বচ্ছ। দিঘীতে রয়েছে মোট ১০টি ঘাট। ধারণা করা হয় পৃথু রাজা এই দিঘীটি খনন করেন। কথিত আছে পৃথু রাজা পরিবার-পরিজন ও ধনরত্ন সহ ‘কীচক’নামক এক নিম্ন শ্রেণীর দ্বারা আক্রমণের শিকার হয়ে তাদের সংস্পর্শে ধর্ম নাশের ভয়ে উক্ত দিঘীতে আত্মহনন করেন। প্রতি বছর বাংলা নববর্ষে উক্ত দিঘীর পাড়ে মেলা বসে।

সমতল ভূমিতেও যে চা বাগান হতে পারে তা পঞ্চগড় না এলে বোঝা যাবে না। দেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে গড়ে উঠেছে এমন অর্গানিক চায়ের প্রাণজুড়ানো সবুজ বাগান। এ দেশে অর্গানিক ও দার্জিলিং জাতের চায়ের চাষ হয় একমাত্র তেঁতুলিয়ার বাগানগুলোতেই। ইতিমধ্যে এ চা দেশের বাইরেও সুনাম অর্জন করেছে। পঞ্চগড়ের অধিকাংশ চা বাগান এই তেঁতুলিয়াতেই অবস্থিত। এখানকার চা বাগানের মধ্যে কাজী এন্ড কাজী টি এস্টেট, ডাহুক টি এস্টেট, স্যালিলেন টি এস্টেট, তেঁতুলিয়া টি কোম্পানী প্রভৃতি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। সমতল ভূমিতে সুন্দর পাকা রাস্তা। যতই এগুবেন সবুজ আপনাকে ক্রমেই মোহিত করতে থাকবে। সীমান্তের কাঁটাতারও যেন ঢাকা পড়েছে সবুজে। ওপার থেকে একটি খাল নির্দ্বিধায় ঢুকে পড়েছে আমাদের সীমানার ভেতরে। খালটির দুই পাশের শস্যরাশি মায়া ছড়াচ্ছে। এ এক অন্য রকম ভালোলাগার রাজ্য।

পঞ্চগড়ের অধিকাংশ জমিই একসময় অলস পড়ে থাকত। সে সময় শিল্পপতি কাজী শাহেদ আহমদ পঞ্চগড় অঞ্চলের নো-ম্যান্স ল্যান্ডে ভারতের চা বাগান দেখে অনুপ্রাণিত হন। তিনি তেঁতুলিয়ায় কিছু জমি কিনে অর্গানিক পদ্ধতিতে চা চাষ শুরু করেন। এ অঞ্চলে চা চাষের ক্ষেত্রে কাজী টি এস্টেটই অগ্রপথিক।

 

সম্পাদক ও প্রকাশক: সরদার মোঃ শাহীন
উপদেষ্টা সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম সুজন
বার্তা সম্পাদক: ফোয়ারা ইয়াছমিন
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: আবু মুসা
সহ: সম্পাদক: মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিস: ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা।
বার্তা বিভাগ: বাড়ি # ৩৩, রোড # ১৫, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা।
ফোন: ০১৮৯৬০৫৭৯৯৯
Email: simecnews@gmail.com