মহররম মাসের বিশেষ মর্যাদা

প্রকাশের সময় : 2019-09-26 12:01:51 | প্রকাশক : Administration

সিমেক ডেস্কঃ ইসলামী বর্ষপঞ্জির প্রথম মাস হলো মহররম। মহানবী (সাঃ)-এর মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের ঘটনাকে চিরস্মরণীয় করে রাখার জন্য হিজরি সন গণনা শুরু হয় মহররম থেকে। এই মাসের দশম দিনকে আশুরার দিনও বলা হয়। আবহমান কাল থেকেই মহররম মাস এক বিশেষ মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। মহান রাব্বুল আলামিন বলেন, ‘নিশ্চয় আল্লাহর বিধান ও গণনায় মাস বারটি, আসমানসমূহ ও পৃথিবী সৃষ্টির দিন থেকে। তন্মধ্যে চারটি মাস সম্মানিত। এটিই সু-প্রতিষ্ঠিত বিধান; সুতরাং এর মধ্যে তোমরা নিজেদের প্রতি অবিচার করো না। (সুরা তাওবা, আয়াত ৩৬)

রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বিদায় হজ্বের খুতবায় সম্মানিত মাসগুলোর বর্ণনা দিয়ে বলেন: তিনটি মাস হলো ধারাবাহিক জিলকদ, জিলহজ্ব ও মহররম, অপরটি হলো রজব। (মুসলিম) অনুরূপ কেউ এ মাসগুলোতে পাপাচার থেকে নিজেকে দূরে রাখতে পারে, তার জন্য বছরের বাকি মাসগুলোতেও পাপাচার থেকে দূরে থাকা সহজ হয়। তাই এ সুযোগ প্রতিটি ধর্মপ্রাণ মুসলিমেরই গ্রহণ করা উচিত।

মহররমের প্রথম দশকে যাবতীয় ইবাদত যথা নফল নামাজ, কোরআন তেলাওয়াত, দান-খয়রাত ইত্যাদির সওয়াব বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। বিশেষত এ মাসে রোজা রাখার বিশেষ ফজিলত রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেন: ‘রমজানের রোজার পর শ্রেষ্ঠ রোজা হচ্ছে মহররমের রোজা।’ (মুসলিম)

ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন: রাসুলুল্লাহ (সাঃ) যখন মদিনায় হিজরত করেন তখন ইহুদিদেরকে মহররমের দশম তারিখে রোজা রাখতে দেখেন। রাসুল (সাঃ) তাদের জিজ্ঞাসা করলেন, তোমরা এ দিন রোজা রাখ কেন? তারা বলল, এটা আমাদের মুক্তি দিবস। এদিনে মহান আল্লাহ মুসা (আঃ) ও তার সম্প্রদায়কে মুক্তি দিয়েছেন এবং ফিরাউনকে তার দলবলসহ সাগরে নিমজ্জিত করেছেন। এর শুকরিয়া হিসেব মুসা (আঃ) এদিনে রোজা রেখেছেন। একই কারণে আমরাও রাখি। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বললেন, ‘আমরা তোমাদের অপেক্ষা মুসার অধিকতর আপন ও হকদার। অতঃপর তিনি নিজেও এদিন রোজা রাখেন এবং সবাইকে রোজা রাখার হুকুম দেন।’ (বুখারি, মুসলিম)

ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন: রাসুলুল্লাহ (সাঃ) আশুরার দিনে রোজা রাখলেন এবং সবাইকে রোজা রাখার আদেশ দিলেন। সাহাবারা আরজ করলেন, হে আল্লাহর রাসুল! এদিনে ইয়াহুদিরাও রোজা রাখে আর আমরাও রাখি, এতে তাদের সঙ্গে আমাদের সাদৃশ্য হচ্ছে। রাসুল (সাঃ) বললেন: আগামী বছর পর্যন্ত যদি আমি বেঁচে থাকি তাহলে নয় তারিখের রোজাও রাখবো। (মুসলিম) ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন: মহররমের নবম ও দশম এই দুই দিনে তোমরা রোজা রাখো এবং এই ক্ষেত্রে ইয়াহুদিদের বিপরীত করো। (তিরমিজি)

মহররম মাসের সম্মানের ব্যপারে প্রিয়নবী (সাঃ) বলেন, ‘তোমরা আল্লাহ’র মাস মহররমের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করবে। কেননা, যে ব্যক্তি মহররমের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করবে, তাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি ও জান্নাত দান করে সম্মানিত করবেন আল্লাহ তা’আলা।’ এ মাস যেহেতু সম্মানিত মাস, তাই কোরআন-সুন্নাহ মেনে এ মাসে সামর্থ্য অনুযায়ি দান, নফল নামাজ, রোজা, কুরআন তেলওয়াত ইত্যাদি আমল করা যেতে পারে। তবেই স্বার্থক হবে মহিমান্বিত এই মাসটি।

 

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ সরদার মোঃ শাহীন,
বার্তা সম্পাদকঃ ফোয়ারা ইয়াছমিন,
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ আবু মুসা,
সহঃ সম্পাদকঃ মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিসঃ ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২,
উত্তরা, ঢাকা,
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com