আত্মসচেতনতা উন্নয়নের বড়ো শক্তি

প্রকাশের সময় : 2019-09-26 12:02:31 | প্রকাশক : Administration
আত্মসচেতনতা উন্নয়নের বড়ো শক্তি

দেশ উন্নয়নের জন্য বড়ো শক্তি হলো আত্মসচেতনতা। আত্মসচেতনতাই পারে উন্নয়নকে গতি থেকে গতিশীলে পরিণত করতে। আমাদের আত্মসচেতনতাই পারে পুরো দেশের চিত্র বদলে দিতে। এখানে আমি কিছু কথা বলে রাখি; কিছুদিন আগে আমি ও আমার পিএইচডির সুপারভাইজার বাংলাদেশে এসেছিলাম। আমি তাকে ঢাকাসহ গ্রামের কিছু জায়গায় নিয়ে গিয়েছিলাম। আমার দেশের উন্নয়ন ও প্রাকৃতিক দৃশ্য এবং আমাদের দেশের স্কুলকলেজ, ইউনিভার্সিটি এবং মানুষের আচরণ দেখে মুগ্ধ হয়েছিল।

তবে মজার বিষয় হলো আমার সুপারভাইজার বাংলাদেশে আসার আগে বাংলাদেশ সম্পর্কে যে ধারণা ছিল, তা বাংলাদেশে আসার পর ধারণাটা পুরোটাই পালটে গিয়েছিল। তিনি বলেছেন আমাদের দেশের কত দামি দামি গাড়ি এত ট্রাফিকের মাঝেও রাস্তায় চলে, কত বড়ো বড়ো বিল্ডিং যা দেখেই মন ভরে, প্রাকৃতিক রূপ অনেক সুন্দর এবং মানুষের ব্যবহার খুবই চমৎকার।

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত দেখে আনন্দে আত্মহারা হয়েছিলেন। আমাকে বলেছেন, আমি ইংলিশ চ্যানেল দেখেছি, আটলান্টিক মহাসাগর দেখেছি, কত দেশের সমুদ্র দেখেছি, তবে বাংলাদেশের মতো এত সুন্দর সমুদ্রসৈকত জীবনে আর দেখি নাই। বাংলাদেশের খাবার ছিল ওনার জন্য স্বর্গীয় খাবারের মতোই। জেলেদের পুকুর থেকে মাছ ধরা আর গ্রামের মহিলাদের হাতের কাজ দেখে কত যে সে আনন্দিত হয়েছিল তার বর্ণনা আমি এখানে দিতে পারব না; কারণ এত আনন্দিত হওয়া মানুষ আমি খুব কমই দেখেছি আমার জীবনে।

আর তাইতো তার আনন্দ আর খুশি দেখে আমিও বলে উঠেছিলাম এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি, সকল দেশের রানী সেজে, তুমি আমার জন্মভূমি।

আমি এ কথাগুলো কেন বলছি তা একটু বলে রাখি। আমার সুপারভাইজার শুধু যে আনন্দিত হয়েছিলেন তা নয়, ওনার মনে ছিল হাজারো প্রশ্ন এবং সে আমাকে প্রশ্ন করেছিল তোমার দেশে এত কিছু থাকার পরেও কেন রাস্তার পাশে ময়লার ঝুড়ি নাই থাকলেও কেন সবাই ব্যবহার করে না? তোমার দেশের কেউ ট্রাফিক আইন মেনে চলে না। কারণে-অকারণে হর্ন বাজায়। মজাদার খাবার তোমার দেশে যা আমি আগে কোনোদিন খাই নাই তবে খাবারগুলো কেন হাত দিয়ে ধরে অস্বাস্থ্যাকর করে তোলে। খাওয়া শেষে কেন মানুষগুলো ময়লা নিচে ফেলে দেয়? কেন বাস্কেটে বা টেবিলের ওপর রাখে না? মানুষের রাস্তা পারাপারের জন্য কত সুন্দর ফুটব্রিজ করেছে তারপরেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কেন মানুষ রাস্তা পারাপার হয়? আরো অনেক প্রশ্ন ছিল তাঁর মনে।

এই সমস্ত প্রশ্নের জন্য দায়ী কে সরকার নাকি আমরা? এর জন্য দায়ী আমরা। সামান্য আত্মসচেতনতাই পারে দেশকে বদলে দিতে, আমাদের পরিবর্তনের জন্য অনেক কিছু দরকার নাই। আমাদের যা আছে তা আমাদের জন্য যথেষ্ট। আমাদের নিজেদের শক্তিগুলো যদি সদ্ব্যবহার করতে পারি ও তা করার জন্য সরকারকে সহযোগিতা করি তাহলে আমাদের দেশ হবে এশিয়ার অন্যতম উন্নত দেশ।

এখন বলি আমি কেন আত্মউন্নয়নের কথা বলছি। উপরোক্ত সমস্যা সৃষ্টির প্রধান কারণ হলো আত্মসচেতনতার অভাব, নিজেকে সমাজ ও দেশকে ভালোবাসার অভাব। আত্মসচেতন মানুষের দ্বারা ট্রাফিক আইন না মানা এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার আইন পালন না করা সম্ভব নয়। আমি ইউরোপের কোথাও দেখি নাই কেউ ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করে। যদিও কোথাও কোনো ট্রাফিক পুলিশ থাকে না। কাউকে দেখি নাই রাস্তাঘাটে ময়লা ফেলে দিতে। নির্দিষ্ট জায়গা ছাড়া সরকারের উন্নয়ন কাজে বাধা দিতে দেখি নাই কাউকে।

বলছি না আমরা ইউরোপের দেশের মতো হয়ে গিয়েছি। তবে আমাদের শিক্ষা, অর্থনীতি, টেকনোলজি এবং উন্নয়নের দিক দিয়ে ইউরোপের অন্যান্য দেশের তুলনায় আমাদের দেশও পিছিয়ে নেই। ইউরোপের অনেক দেশের মানুষকেই দেখেছি যারা ইংলিশে দুই লাইন কথাই বলতে পারে না, লেখা তো দূরের কথা। আমি অনেক মানুষকে দেখেছি যারা সরকারের বেনিফিটের ওপরেই চলে।

বাংলাদেশ প্রচুর সম্ভাবনাময় দেশ। যে জাতি আকাশপথের যুদ্ধ ছাড়াই নয় মাসে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে দেশ স্বাধীন করতে পারে সে জাতি পিছিয়ে থাকতে পারে না। আমরা খুবই কর্মঠ এবং প্রচুর পরিশ্রমী। আমাদের ইচ্ছা আছে, শক্তি আছে, শুধু আমাদের অভাব আত্মসচেতনতার। যে আত্মসচেতনতার দ্বারাই বঙ্গবন্ধুর ডাকে স্বাধীনতা সৃষ্টি হয়েছিল, সেই আত্মসচেতনতা দ্বারা আমরা দেশকে উন্নত থেকে মহাউন্নতির দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবো। ৪৮ বছরের ইতিহাসে আমরা যা পেয়েছি তা অনেক দেশ পারে নাই। তাহলে আমাদের উন্নয়নের জন্য অভাব কোথায়?

মোঃ হুসাইন আলম: ইউনিভার্সিটি অব ওরুক্লো, পোল্যান্ড

 

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ সরদার মোঃ শাহীন,
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ রফিকুল ইসলাম সুজন,
বার্তা সম্পাদকঃ ফোয়ারা ইয়াছমিন,
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ আবু মুসা,
সহঃ সম্পাদকঃ মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিসঃ ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২,
উত্তরা, ঢাকা,
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com