যান্ত্রিক যুগে কৃষি

প্রকাশের সময় : 2019-10-09 18:17:32 | প্রকাশক : Administration

কাওসার রহমানঃ আসন্ন বোরো মৌসুমেই কৃষি যান্ত্রিকীকরণের নতুন যুগে প্রবেশ করছে বাংলাদেশ। তার আগে চলমান আমন মৌসুমের ধান কাটার মধ্য দিয়ে এই যান্ত্রিকীকরণের ‘টেস্টরান’ করা হবে। এই চ্যালেঞ্জ সামনে নিয়ে এখন দিনরাত কাজ করছে কৃষি মন্ত্রণালয়। যাতে আগামী ৪ বছরের মধ্যেই দেশের প্রচলিত পদ্ধতির কৃষিকে যন্ত্রনির্ভর কৃষিতে পরিণত করা যায়।

সেচ এবং জমি তৈরির ক্ষেত্রে বাংলাদেশে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ প্রায় শতভাগ কাছাকাছি চলে গেলেও চারা রোপণ তথা ট্রান্সপ্লান্ট এবং ধান কাটা তথা হারভেস্টিংয়ে যান্ত্রিকীকরণে বাংলাদেশ এখনও অনেক পিছিয়ে। এখন এই দুটি ক্ষেত্রে যান্ত্রিকীকরণেই মাঠে নেমেছে কৃষি মন্ত্রণালয়। এই যান্ত্রিকীকরণের আওতায় এ বছর ভর্তুকি মূল্যে কৃষকদের ৫ হাজার ৩০০ যন্ত্র দেয়া হবে। শ্রমিক সঙ্কট থেকে মুক্তি ও উৎপাদন খরচ কমাতে চারা রোপণ ও ধান কাটার জন্য তিন ধরনের যন্ত্র দেয়া হবে কৃষকদের। এগুলো হলো কম্বাইন হারভেস্টার, রিপার ও রাইস ট্রান্সপ্লান্টার। এ সকল যন্ত্র ক্রয়ে কৃষকদের সরাসরি ৬০ শতাংশ ভর্তুকি প্রদান করবে সরকার। এতে সরকারের ব্যয় হবে ৪১৫ কোটি টাকা। এই টাকা রাজস্ব বাজেট থেকে সংস্থান করা হবে।

আগামী দুই মাসের মধ্যে অর্থাৎ আসন্ন বোরো মৌসুমেই এসব যন্ত্র কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেয়া হবে। এর মধ্যে চলতি আমন মৌসুমেই কম্বাইন্ড হার্ভেস্টার ও রিপার দিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে ধান কাটা হবে এবং বোরো মৌসুমে চারা রোপণ ও ধান কাটা উভয়ই যন্ত্রের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হবে। এর মধ্য দিয়ে দেশের ধান আবাদের সব কাজ অর্থাৎ জমি প্রস্তুত, চারা রোপণ, সেচ, ধান কাটা সব কাজই যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে কৃষি সচিব মোঃ নাসিরুজ্জামান বলেন, আগামী দুই মাসের মধ্যে আমরা কৃষকদের কাছে ভর্তুকি মূল্যে কৃষিযন্ত্র পৌঁছে দেব। এ ব্যাপারে আমরা সারাদেশে কৃষকদের কৃষি যন্ত্রের চাহিদা নিরূপণ করেছি। কোন এলাকার কৃষক কেমন যন্ত্র চায় তা আমরা নিরূপণ করেছি। এখন সেই চাহিদা অনুযায়ী আমরা কৃষকদের কাছে চারা রোপণ ও ধান কাটার যন্ত্র পৌঁছে দেব।

তিনি বলেন, ‘আমরা জমিতে সেচদান ও জমি প্রস্তুতের ক্ষেত্রে যান্ত্রিকীকরণে শতভাগে পৌঁছে গেছি। কিন্তু ধানের চারা রোপণ ও ধান কাটার ক্ষেত্রে যান্ত্রিকীকরণে অনেক পিছিয়ে আছি। তাই এখন আমরা প্লান্টিং (চারা রোপণ) ও হারভেস্টিংয়ে (ধান কাটা) সবচেয়ে বেশি জোর দিচ্ছি। আমাদের টার্গেট হচ্ছে কৃষকদের কাছে ট্রান্সপ্লান্টার, হারভেস্টার ও রিপার পৌঁছে দেয়া। যাতে কৃষকদের ধানের চারা রোপণ ও ধান কাটার সময় শ্রমিক সঙ্কটে পড়তে না হয়।’

তিনি বলেন, এই মেশিন চালানোর বিষয়ে কৃষকদের কী ধরনের সমস্যায় পড়তে হয় তা আমরা সার্ভে করে জেনেছি। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট এই সার্ভে করেছে। আমরা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদেরও এই সার্ভেতে কাজে লাগিয়েছি। এর মাধ্যমে আমরা কৃষি যন্ত্রের ব্যাপারে কৃষকদের পছন্দ জেনেছি। সে অনুযায়ী আমরা কৃষকদের কৃষিযন্ত্র সরবরাহ করব।

গত বোরো মৌসুমে (২০১৮-১৯) কৃষক ধান কাটা নিয়ে চরম দুর্বিপাকে পড়ে। এবার বোরো মৌসুমে ধানের ফলন ভাল হলেও উৎপাদন খরচের চেয়ে বাজার মূল্য অস্বাভাবিক কম হওয়ায় চরম বিপাকে পড়ে কৃষক। এমনিতেই দেশের গ্রাম-গঞ্জে এখন আর আগের মতো কৃষি শ্রমিক পাওয়া যায় না। শিল্পে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাওয়ায় দিন দিন কৃষি শ্রমিক কমে যাচ্ছে। তার তীব্র প্রভাব পড়েছে এবার বোরো মৌসুমে। কৃষি শ্রমিক সঙ্কটের কারণে দিন মজুরের দৈনিক মজুরি অস্বাভাবিক বেড়ে যায়। ধান কাটার মৌসুমের শুরুতে এই মজুরি ৪৫০-৫০০ টাকা থাকলেও, ব্যাপকভাবে ধান কাটা শুরু হলে জনপ্রতি এই মজুরি ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকায় উঠে যায়। কোথাও কোথাও কৃষি শ্রমিকের মজুরি ৯০০ থেকে ১ হাজার গিয়ে দাঁড়ায়। তাও আবার দিনমজুর পাওয়া যায়নি। অথচ বিপরীতে ধানের দাম শুরুতে ৫০০-৬০০ টাকার মধ্যে থাকলেও ধান কাটা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ধানের দাম অস্বাভাবিক কমে যায়। কোথাও কোথাও এই মণপ্রতি এই দাম ৪০০ টাকায় নেমে আসে। অথচ জমি ও বীজ তৈরি থেকে শুরু করে ঘরে তোলা পর্যন্ত এক মণ ধানে খরচ পড়ে ৭৫০-৮০০ টাকা। এতে ধান উৎপাদন কমে কৃষককে চরম লোকসানের মুখে পড়তে হয়।

এ অবস্থায় সরকার কৃষকের উৎপাদন খরচ কমাতে কৃষি যান্ত্রিকীকরণে সিদ্ধান্ত নেয়। এক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিক গ্রহণ করেন কষিমন্ত্রী ডঃ আব্দুর রাজ্জাক। তারই নির্দেশে চলতি বছর থেকেই কৃষি যান্ত্রিকীকরণের উদ্যোগ নিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়। ইতোমধ্যে এ নিয়ে মন্ত্রণালয় ও অঙ্গ সংস্থার প্রতিনিধিদের নিয়ে কয়েক দফা বৈঠক করেছেন কৃষিমন্ত্রী। আসন্ন বোরো মৌসুম থেকেই ভর্তুকিতে কৃষি যন্ত্র সরবরাহ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন মন্ত্রী। - জনকণ্ঠ

 

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ সরদার মোঃ শাহীন,
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ রফিকুল ইসলাম সুজন,
বার্তা সম্পাদকঃ ফোয়ারা ইয়াছমিন,
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ আবু মুসা,
সহঃ সম্পাদকঃ মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিসঃ ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২,
উত্তরা, ঢাকা,
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com