বৃদ্ধাশ্রমেই প্রেম করে বিয়ে বুড়ো-বুড়ির

প্রকাশের সময় : 2019-10-09 18:26:29 | প্রকাশক : Administration
বৃদ্ধাশ্রমেই প্রেম করে বিয়ে বুড়ো-বুড়ির

সিমেক ডেস্কঃ স্বামীর বয়স ৭৫ ছুঁইছুঁই। স্ত্রী ৬৩। ঘটনাস্থল ভারতের আসাম রাজ্য। বেশি বয়সে বিবাহ-বন্ধনে আবদ্ধ ম্যান্ডেলা, রুশদি বা রেলমন্ত্রী মজিবুল হকের মত বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব নন, নেহাতই সাধারন ওরা। তবু এমন ব্যতিক্রমী বিয়ের খবর বেশ আলোচিত হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। কেউ কেউ শেষ জীবনে অনেকটা বাধ্য হয়ে আশ্রয় নেন বৃদ্ধাশ্রমে। কিন্তু, বৃদ্ধাশ্রমে প্রেমের বাঁধনে পড়ে ফের গৃহী হওয়ার ঘটনা বিরল তো বটেই। হাইলাকান্দির শান্তনুকুমার দাস সেচ বিভাগের ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন। কর্মসূত্রে আসামের বিভিন্ন জায়গা ঘুরে শেষে গুয়াহাটিতে বাড়ি ভাড়া নিয়েছিলেন।

কিন্তু পত্নীবিয়োগের পর নিঃসন্তান শান্তনুবাবুকে দেখভাল করার কেউ ছিল না। তার উপর ছিল সুগার, কিডনির সমস্যা। এই অবস্থায়  ‘মাদার ওল্ড এজ হোম’ বৃদ্ধাশ্রমেই হয় তার আশ্রয় স্থল। বাবা-মা মারা যাওয়ার পর ভাইয়ের সংসারে থাকতেন মঞ্জুদেবী। কিডনির অসুখে ভাইকেও জমি বিক্রি করে ভাড়া বাড়িতে চলে যেতে হয়। ভাই মারা যাওয়ার পর ভাতৃবধূ, ভাইপো মঞ্জুদেবীর দায়িত্ব নিতে চাননি। মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে তিনি পথে-পথে ঘুরতেন। সে অবস্থা থেকেই বৃদ্ধাবাসে তাকে বিনামূল্যে রাখা হয়। শুরু হয় চিকিৎসা। চিকিৎসার পরে তিনি সুস্থ হন। তবে, একটি পায়ে সমস্যা এখনও রয়েছে। গত বছর অসুস্থ হয়ে পড়েন শান্তনুবাবু। তখন মঞ্জুদেবীই তাঁর শুশ্রষা করেন। মনের মিল ছিল দু’জনের। সম্ভবত সেই থেকেই ভালবাসার সূত্রপাত। ‘‘বছর খানেক তাদের প্রেম চলছিল। জানতে চাই, তারা বিয়ে করবেন কি না। দু’জনই বলেন, ওঁদের হারানোর কিছু নেই। তাই, একসঙ্গে চলতে অসুবিধা কোথায়? বিয়ে শেষ হয় দুপুর পৌনে তিনটে নাগাদ। ততক্ষণে গ্রীষ্মের দাবদাহে মণ্ডপের ভিতরে থাকা সকলেই নাজেহাল। তবে,  বরের যেন যৌবন ফিরে এসেছে। মণ্ডপ থেকে ওঠার পরেই, আশপাশে জড়ো হওয়া বৃদ্ধ-বৃদ্ধারা  তাঁর হাত ধরে নাচ শুরু করেন। পরে, দু’জন বসেন সিংহাসনে। ততক্ষণে, নিরামিষ ভোজের শেষ পংক্তি বসেছে।

মঞ্জুদেবী বলেন, ‘‘বাবা-মা-ভাই কারও সময়ই হয়নি আমার বিয়ে দেওয়ার। নিয়তিকে মেনে নিয়েছিলাম। কিন্তু, শেষ জীবনে এত আনন্দ লেখা ছিল, ভাবতে পারছি না। ভগবানকে ধন্যবাদ।’’ মণিকা জানান, বিয়ের পরে বৃদ্ধাবাসে নবদম্পতির জন্য পৃথক ঘরের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

শান্তনুবাবু তখন বলছেন, ‘‘বিয়ে করে বেশ ভাল লাগছে। এবার মধুচন্দ্রিমাটা ভালয় ভালয় কাটাতে হবে। হাওয়া বদলের পথিকৃত শান্তনু-মঞ্জু শেষের কবিতার পথে তাঁদের নতুন জীবনের কবিতা শুরু করতে চলেছেন। শিলং-এ হানিমুনে গিয়েছেন তারা। হোমের তরফে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, সঙ্গে কাউকে পাঠানো হবে। কিন্তু, ‘কাবাব মে হাড্ডি’র সেই প্রস্তাব নাকচ করে শান্তনুবাবু জানিয়েছেন, তিনি একাই বউকে শিলং ঘুরিয়ে আনবেন। এমন বিয়ে চাক্ষুষ করতে আসা গায়িকা জুবিলি বরুয়া বলেন, ‘‘এই সব সম্পর্ক যেন জীবনের প্রতি, ভাল থাকার প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনে।’’

মণ্ডপে তখন অক্লান্ত ষাট থেকে আশির ‘তরুণ- তরুণীরা’। বাত-পিত্ত-অম্বল-হাঁপানিকে তুড়ি মেরে গোল হয়ে তাঁরা গান ধরলেন ‘আয়ে হো মেরি জিন্দেগি মে তুম বাহার বন কে!’  - সূত্রঃ অনলাইন

 

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ সরদার মোঃ শাহীন,
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ রফিকুল ইসলাম সুজন,
বার্তা সম্পাদকঃ ফোয়ারা ইয়াছমিন,
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ আবু মুসা,
সহঃ সম্পাদকঃ মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিসঃ ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২,
উত্তরা, ঢাকা,
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com