ব্র্যান্ডেনবুর্গ এয়ারপোর্টঃ যাত্রীহীন বিমানবন্দর

প্রকাশের সময় : 2019-11-06 20:12:55 | প্রকাশক : Administration
ব্র্যান্ডেনবুর্গ এয়ারপোর্টঃ যাত্রীহীন বিমানবন্দর

সিমেক ডেস্কঃ বিমানবন্দর এমন একটি জায়গা যেখানে বিমান উঠা-নামা করে। আর এ জায়গায় কোলাহল থাকাটাই স্বাভাবিক। কিন্তু বিমানবন্দর যদি এরকম হয় যে, সব অবকাঠামোই আছে, কিন্তু কোন যাত্রী নেই! তাহলে? হ্যাঁ, শুনতে অবাক লাগলেও এমনই একটি বিমানবন্দর রয়েছে জার্মানিতে। বিমানবন্দরটিতে বিমান উঠা-নামা ও যাত্রী যাতায়াতের সকল প্রকার অবকাঠামো প্রস্তত থাকলেও যাত্রীর অভাবে এটিকে চালু করা যাচ্ছে না!

বিমানবন্দরটির নাম ‘ব্র্যান্ডেনবুর্গ উইলি ব্র্যান্ডট এয়ারপোর্ট, এটি জার্মানির বার্লিনে অবস্থিত। এই বিমানবন্দরটির রানওয়ে, যাত্রী ওঠানামার স্থান সম্পূর্ণ ভাবে প্রস্তুত ও বড় পর্দায় সিমুলেটেড রিয়েল টাইম ফ্লাইট তথ্য প্রদর্শন করে চলছে অনবরত। কিন্তু যাত্রী কোথায়? যাত্রীর অভাবে এই বিমানবন্দরটি ‘ভূতুরে বিমানবন্দর’ তকমা পেয়েছে! বার্লিনের ‘ব্র্যান্ডেনবুর্গ উইলি ব্র্যান্ডট এয়ারপোর্ট’ (বিইআর) ইউরোপের অন্যতম প্রধান আধুনিক হাই টেক বিমানবন্দর হলেও নির্মাণ কাজ শেষ হবার ৭ বছর অতিবাহিত হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোন যাত্রীবাহী বিমান এখানে অবতরণ কিংবা উড্ডয়ন করেনি। বিমানবন্দরটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৭.৩ বিলিয়ন ইউরো (৬৯১.১৬৬ বিলিয়ন টাকা) ।

১৯৮৯ সালে বার্লিন প্রাচীর পতনের পর নতুন এই বিমানবন্দর নির্মাণের পরিকল্পনা নেয়া হয়। বার্লিন কর্তৃপক্ষ ভেবেছিল নতুন এই বিমান বন্দর নির্মাণ সম্পন্ন হলে পুরাতন টেগেল এবং শোনোফেল্ড বিমানবন্দর দুটি বন্ধ করে দিবে। এই পরিকল্পনা কাজে দেয়নি। ২০১০ সালে বিমানবন্দরটির মূল অবকাঠামো নির্মাণ শেষ হলেও, ২০১২ সালে এটির প্রাথমিক উদ্বোধনের পরিকল্পনা নেয়া হয়, আর এই উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেল উপস্থিত থাকার কথা ছিল। কিন্তু সেটা আর হয়ে ওঠেনি। ফলে, এটির প্রাথমিক উদ্বোধনের পরিকল্পনা ২০১৩ সালে নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু আজ অবধি এটা উদ্বোধন করা হয়নি।

কারণ, ২০১৩ সালে জার্মান এভিয়েশন তদন্তকারীরা বিমানবন্দরটির অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থায় বেশ কিছু সমস্যা খুঁজে পেয়েছিল। শুধু তাই নয়, এই বিমানবন্দরে ৪০০০ দরজা ভুলভাবে স্থাপন করা হয়েছিল এবং ৯০ মিটার তার সঠিকভাবে বসানো হয়নি, পাশাপাশি এস্ক্যালেটারের আকার খুব ছোট ছিল।

ফলে অনেক প্রচারণা করেও বিমান বন্দরটিতে মানুষের ঢল নামাতে পারেনি জার্মান কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি অনেক বিমান সংস্থাকে এই বিমান বন্দরে বিমান অবতরণ -উড্ডয়ন করালে বিশেষ সুবিধা দেয়া হবে এমন প্রস্তাবও দেয়া হয়েছিল। কিন্তু যাত্রী দুর্ভোগ এর কথা বিবেচনা করে তাতে সায় দেয়নি কেউই।

ফলে ৬৯১.১৬৬ বিলিয়ন টাকার ( ১ বিলিয়ন ১০০ কোটি টাকা) এক আধুনিক বিমানবন্দর পরিণত হয়েছে এক ভূতুরে বিমানবন্দরে হয়েছে প্রযুক্তি নির্ভর জার্মানির এক তামাশা ও অর্থ অপচয়ের উপাখ্যান। - সূত্রঃ অনলাইন

 

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ সরদার মোঃ শাহীন,
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ রফিকুল ইসলাম সুজন,
বার্তা সম্পাদকঃ ফোয়ারা ইয়াছমিন,
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ আবু মুসা,
সহঃ সম্পাদকঃ মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিসঃ ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২,
উত্তরা, ঢাকা,
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com