যেমন হবে বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল

প্রকাশের সময় : 2019-11-21 12:00:54 | প্রকাশক : Administration
যেমন হবে বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল

চৌধুরী আকবর হোসেনঃ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের নির্মাণ কাজ শুরু হলে শেষ হতে সময় লাগবে চার বছর। এই টার্মিনালের ভবন হবে তিন তলা। দুই লাখ ৩০ হাজার বর্গমিটার আয়তনের এই ভবনটির নকশা করেছেন স্থপতি রোহানি বাহারিন। তিনি এনওসিডি-জেভি জয়েন্ট ভেনচার পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের আওতাধীন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সিপিজি করপোরেশন প্রাইভেট লিমিটেডের (সিঙ্গাপুর) স্থপতি। সূত্রের দাবি, এই টার্মিনালের কাজ এবছরের শেষ নাগাদ শুরু হতে পারে। তৃতীয় টার্মিনালে ২৪টি  বোডিং ব্রিজের ব্যবস্থা থাকলেও প্রকল্পের প্রথম ধাপে  ১২টি বোডিং ব্রিজ চালু করা হবে। বহির্গমনের জন্য  ১৫টি সেলফ সার্ভিস চেক ইন কাউন্টারসহ মোট ১১৫টি চেক ইন কাউন্টার থাকবে। এছাড়া, ১০টি স্বয়ংক্রিয় পাসপোর্ট কন্ট্রোল কাউন্টারসহ মোট ৬৬টি ডিপারচার ইমিগ্রেশন কাউন্টার থাকবে। আগমনীর ক্ষেত্রে  পাঁচটি স্বয়ংক্রিয় চেক ইন কাউন্টারসহ মোট ৫৯টি পাসপোর্ট এবং ১৯টি চেক ইন অ্যারাইভেল কাউন্টার থাকবে। টার্মিনালে ১৬টি আগমনী ব্যাগেজ বেল্ট স্থাপন করা হবে। এছাড়া, অতিরিক্ত ওজনের ব্যাগেজের জন্য  চারটি পৃথক বেল্ট স্থাপন করা হবে।

তৃতীয় টার্মিনাল প্রকল্পের প্রথম ধাপের সঙ্গে বর্তমান টার্মিনাল ভবনগুলোর কোনও যোগযোগ ব্যবস্থা থাকবে না। তবে প্রকল্পের দ্বিতীয় ধাপে কানেকটিং কোরিডোরের মাধ্যমে পুরনো টার্মিনাল ভবনগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা হবে। গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য তৃতীয় টার্মিনালের সঙ্গে মাল্টিলেভেল কার পার্কিং ভবন নির্মাণ করা হবে। সেখানে ১০৪৪টি গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে।

বর্তমানে ভিভিআইপিদের জন্য শাহজালালে পৃথক যে ভিভিআইপি কমপ্লেক্স রয়েছে, সেটি ভেঙে ফেলা হবে। তবে তৃতীয় টার্মিনালে পৃথকভাবে স্বতন্ত্র কোনও ভিভিআইপি টার্মিনাল নির্মাণ করা হবে না। তৃতীয় টার্মিনাল ভবনের অভ্যন্তরে দক্ষিণ পাশে সর্বাধুনিক সুবিধাসম্পন্ন ভিভিআইপি স্পেস রাখা হবে। অভ্যন্তরীণ টার্মিনালটির এখনই কোনও পরিবর্তন আসছে না। নির্মিতব্য তৃতীয় টার্মিনাল প্রকল্পের দ্বিতীয় ধাপে গিয়ে অভ্যন্তরীণ টার্মিনালটি সরিয়ে নেওয়া হবে।

শাহজালাল বিমানবন্দরের উত্তর পাশে রয়েছে আমদানি ও রফতানি কার্গো ভিলেজ। বর্তমান কার্গো ভিলেজের উত্তর পাশে যথাক্রমে ৩৫ হাজার ৮৬৩ বর্গমিটার ও ২৭ হাজার ১৪৪ বর্গমিটার আয়তনের সর্বাধুনিক সুবিধাসম্পন্ন দুটি পৃথক আমদানি ও রফতানি কার্গো ভিলেজ নির্মাণ করা হবে।

তৃতীয় টার্মিনাল ভবনের সঙ্গে ভূ-গর্ভস্থ সুড়ঙ্গ পথ এবং উড়াল সেতু নির্মাণ করা হবে, যার মাধ্যমে মেট্রোরেল ও ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেস ওয়ের সংযোগের ব্যবস্থা থাকবে। তৃতীয় টার্মিনালে থাকবে আর্ন্তজাতিক মানের অত্যাধুনিক অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থা। লাউঞ্জ, দোকান, রেস্টুরেন্টসহ সংশ্লিষ্ট অত্যাধুনিক ও আর্ন্তজাতিক মানের যাত্রীসেবার সুবিধাও রাখা হবে।

বিমানবন্দরে উত্তর পাশে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের হ্যাঙ্গার থাকলেও এটিকে আপাতত সরাতে হচ্ছে না। সরাতে হবে না পদ্মা ওয়েল ডিপোও। বর্তমানে অভ্যন্তরীণ টার্মিনালের কাছেই রয়েছে হেলিকপ্টারের হ্যাঙ্গার। এখান থেকেই ফ্লাইট অপারেশন করে থাকে হেলিকপ্টার অপারেটরগুলো। তৃতীয় টার্মিনালের জন্য এগুলো সরিয়ে বিমানবন্দরের উত্তর সীমানা প্রাচীরের কাছে স্থানান্তর করা হবে।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোঃ মফিদুর রহমান বলেন, ‘প্রতিবছর দেশে আট শতাংশ হারে আকাশপথের যাত্রী বাড়ছে। বর্তমানে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এ পরিমাণ যাত্রী ধারণের সক্ষমতা নেই। এজন্য তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটি নির্মাণ হলে যাত্রীদের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

 

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ সরদার মোঃ শাহীন,
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ রফিকুল ইসলাম সুজন,
বার্তা সম্পাদকঃ ফোয়ারা ইয়াছমিন,
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ আবু মুসা,
সহঃ সম্পাদকঃ মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিসঃ ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২,
উত্তরা, ঢাকা,
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com