বার্ধক্যের শেকলে বন্দি যখন মানুষ!

প্রকাশের সময় : 2019-11-21 12:03:14 | প্রকাশক : Administration

সাজিয়া আক্তারঃ শৈশব, কৈশোর ও যৌবনকাল পার করে মানব জীবনের শেষ ধাপ বার্ধক্য আসে। একটি স্বাভাবিক জৈবিক ঘটনা এবং মন্থর ও আনুক্রমিক গতিতে এগিয়ে আসা দৈহিক অবক্ষয়, যার ফলে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কর্মক্ষমতা এবং প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। এর অবধারিত পরিণতি হচ্ছে মৃত্যু।

যদি কেউ বলেন, পৃথিবীতে তোমার সবচেয়ে প্রিয় ব্যক্তি কে? সবাই কিছু না ভেবেই তার উত্তর দেবেন, ‘মা’ অথবা ‘বাবা’। কারণ একটাই, মা-বাবা সেই মানুষ, যারা নিজেদের স্বার্থের কথা চিন্তা না করেই নিরলসভাবে তাদের সন্তান, এমনকি পুরো পরিবারের জন্য সবচেয়ে বেশি পরিশ্রম ও ভূমিকা রেখে থাকেন। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, মা-বাবা যখন বার্ধক্যে পৌঁছেন, তখন সেই প্রিয় মানুষগুলোই সন্তানের কাছে বোঝা হয়ে দাঁড়ান।

এ ধরনের কিছু ঘটনা যখন দেখি, তখন নিজেকেই কেমন যেন অপরাধী মনে হয়। বার্ধক্য কি তাহলে অভিশাপ? কেনো এতো অবহেলা? কেনোই বা সেই প্রিয় বাবা-মায়ের ঠাঁই হয় বৃদ্ধাশ্রমে? আবার যারা বৃদ্ধ বাবা-মাকে কাছে রাখেন, তাদেরও স্থান কেনো গোয়াল ঘর কিংবা খুপড়ি ঘরে? অনেকেই দেখি, বৃদ্ধ বলে তাদের সঙ্গে খুবই বাজে ব্যবহার করেন। তবে সবাই এমন নন। অনেকেই আছেন, যারা তার বৃদ্ধ মা  বা বাবাকে নিজেদের সর্বোচ্চ সেবাটাই দেন। সন্তানের একটু সেবা আর ভালোবাসাতেই একজন বৃদ্ধ বাবা বা মায়ের দুঃখ-কষ্ট ঘুচে যেতে পারে।

বাংলাদেশি পরিবারে প্রায়শই বয়স্ক লোকদের বোঝা হিসেবে গণ্য করা হয়। বৃদ্ধরা পথে ভিক্ষা অথবা অন্যের দয়া প্রার্থনা করছেন, এ ধরনের দৃশ্য প্রায়ই চোখে পড়ে। ভগ্নস্বাস্থ্য হওয়া সত্ত্বেও প্রবীণদের অনেককেই ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত হতে দেখা যায়। অগণিত প্রবীণ হতাশার মধ্যে এবং রোগ-শোকে ভুগে কোনো সেবা ও সাহচর্য ছাড়াই দিন কাটান।

বর্তমানে বাংলাদেশে প্রবীণদের জন্য দুধরনের সেবা-যত্নের ব্যবস্থা রয়েছে, প্রথাগত অথবা স্থানীয় এবং আধুনিক। আধুনিক সেবাগুলো দেয়া হচ্ছে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে। প্রথাগত ঐতিহ্যবাহী সেবাগুলোর মধ্যে রয়েছে আত্মীয় ও পরিবারের সেবাযত্ন, দয়াদাক্ষিণ্য ও ভিক্ষা এবং মসজিদ, কবরস্থান, মাজার, দরগাহ ইত্যাদি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় দেয়া।

এসব নিয়ে ভাববার সময় হয়নি? এসবই কি যথেষ্ঠ? এখানে কি সার্বিকভাবে প্রত্যেকের জায়গা থেকে আমাদের প্রত্যেকের কোন দায়িত্ব নেই? আমাদের কি সতর্ক হবার সময় আসেনি? আমরা কি সৃষ্টির সেরা জীব, মানুষ না? মানুষ হয়ে মানুষের যদি ভাল না বাসতে পারি, আল্লাহকে ভালবাসি এটা প্রমান করবো কিভাবে?

 

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ সরদার মোঃ শাহীন,
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ রফিকুল ইসলাম সুজন,
বার্তা সম্পাদকঃ ফোয়ারা ইয়াছমিন,
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ আবু মুসা,
সহঃ সম্পাদকঃ মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিসঃ ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২,
উত্তরা, ঢাকা,
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com