হৃদয়ে লেখ নাম, সে নাম রয়ে যাবে

প্রকাশের সময় : 2019-12-04 10:35:53 | প্রকাশক : Administration
 হৃদয়ে লেখ নাম, সে নাম রয়ে যাবে

সিমেক ডেস্কঃ তিনি গেয়েছিলেন, “যদি কাগজে লেখ নাম কাগজ ছিঁড়ে যাবে,.. হৃদয়ে লেখ নাম, সে নাম রয়ে যাবে।” সে নাম কখনও মুছে যাবার নয়, তিনি মান্না দে। ‘আবার হবে তো দেখা’, ‘পৌষের কাছাকাছি’, ‘যদি হিমালয়’, ‘কফি হাউজের সেই আড্ডাটা’, ‘তোমার না যদি থাকে সুর’, ‘ও কেন এত সুন্দরী হলো’ - বাংলা গানের শ্রোতাদের মুখে মুখে ফেরা এই গানগুলোর গায়ক তিনি।  সত্তর বছরের ক্যারিয়ারে চার হাজারের বেশি গান গেয়েছেন বাংলা, হিন্দি, মারাঠিসহ নানা ভাষায়।

এই কিংবদন্তী শিল্পীর জন্ম ১৯১৯ সালের পহেলা মে। তিনি প্রায়ই ঠাট্টা করে বলতেন ‘মে ডে’ মানে মান্না দে। জন্ম কলকাতায় এক সংগীতপ্রেমী পরিবারে। বাবা পূর্ণচন্দ্র দে, মা মহামায়া। আনুষ্ঠানিক নাম রাখা হয় প্রবোধ চন্দ্র দে। ডাক নাম মান্না। এই ডাক নামেই পৃথিবী চিনলো তাকে। মান্না দের জীবনে সবচেয়ে প্রভাব বিস্তার করেছিলেন তার কাকা সংগীতাচার্য কৃষ্ণচন্দ্র দে। কলকাতা ও বোম্বের বিখ্যাত শিল্পী ছিলেন কৃষ্ণ চন্দ্র দে। কাকার কাছ থেকেই মান্না দে পেয়েছিলেন গানকে ভালোবাসার শিক্ষা। স্কটিশ চার্চ কলেজিয়েট স্কুল ও কলেজের ছাত্র মান্না দে বন্ধুদের মাতিয়ে রাখতেন গানে গানে। স্কুলের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তো বটেই কাকার সঙ্গে মঞ্চেও গান গাইতেন তিনি। খেলাধূলায়ও ছিলেন ভালো। বিখ্যাত কুস্তিগীর গোবর বাবুর কাছে কুস্তি ও বক্সিংয়ের তালিম নেন তিনি। পাশাপাশি ছিল গানের সাধনা। মাত্র ২৩ বছর বয়সে চলচ্চিত্রের সংগীতে তাঁর ক্যারিয়ার শুরু হয়। ১৯৪২ সালে কাকার সঙ্গে বোম্বে যান। সেখানে তিনি প্রথমে কৃষ্ণচন্দ্র এবং পরে শচীনদেব বর্মনের সঙ্গে সহকারী সংগীত পরিচালক হিসেবে কাজ করেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন হিন্দি ছবিতে সংগীত পরিচালক হিসেবে কাজ করেন। ১৯৪২ সালেই ‘তামান্না’ ছবিতে গান গেয়ে প্লেব্যাক শিল্পীর খাতায় নাম লেখান।

১৯৫৩ সালে মান্না দে বিয়ে করেন কেরালার মেয়ে সুলোচনা কুমারনকে। এই দম্পতির দুই মেয়ে সুরমা এবং সুমিতা। বিবাহিত জীবনে দারুণ সুখী মান্না দে ব্যর্থ প্রেমের অসংখ্য গান গেয়েছেন বাংলায়। ‘জানি তোমার প্রেমের যোগ্য আমি তো নই’ কিংবা ‘তুমি অনেক যত্ন করে আমায় দুঃখ দিতে চেয়েছ’র মতো বিরহের গানে মান্না দে ছিলেন অপ্রতিদ্বন্দী। এই প্রসঙ্গে একবার মান্না দে ঠাট্টা করে বলেছিলেন তার নিজের জীবনে কোনো ব্যর্থ প্রেমের ঘটনা না ঘটলেও তার গীতিকারদের মধ্যে অনেকেই ছিলেন ব্যর্থ প্রেমিক।

ভারতের রাষ্ট্রীয় বেসামরিক সম্মাননা পদ্মশ্রী এবং পদ্মভূষণ পেয়েছেন। ১৯৬৮ সালে সেরা পুরুষ কণ্ঠশিল্পী হিসেবে ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান। ১৯৭১ সালে বাংলা ছবি ‘নিশি পদ্ম’তে গাওয়ার জন্য আবার সেরা গায়কের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান। মান্না দে গানের টানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গেছেন। বেশ কয়েকবার এসেছেন বাংলাদেশে। ঢাকার শ্রোতাদের বিমুগ্ধ করেছেন তার কণ্ঠ-জাদুতে। ২০১২ সালে ব্যাঙ্গালুরুতে স্ত্রীর মৃত্যু হলে তিনি মুম্বাই ছেড়ে ব্যাঙ্গালুরুতে বাস করতে থাকেন। ২০১৩ সালের ৮ই জুন মান্না দে অসুস্থ হয়ে ব্যাঙ্গালুরু হাসপাতালে ভর্তি হন। মাসখানেক হাসপাতালে থাকার পর তিনি সুস্থ হয়ে বাড়ী ফেরেন। ২৪শে অক্টোবর ৯৪ বছর বয়সে হৃদরোগে তিনি মৃত্যু বরণ করেন।

 

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ সরদার মোঃ শাহীন,
বার্তা সম্পাদকঃ ফোয়ারা ইয়াছমিন,
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ আবু মুসা,
সহঃ সম্পাদকঃ মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিসঃ ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২,
উত্তরা, ঢাকা,
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com