ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে আগামী প্রজন্ম! ফেসবুক আসক্তি ও মাদকাসক্তির মাঝে কোনো পার্থক্য নেই!!

প্রকাশের সময় : 2019-12-04 10:54:52 | প্রকাশক : Administration
ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে আগামী প্রজন্ম!  ফেসবুক আসক্তি ও মাদকাসক্তির মাঝে কোনো পার্থক্য নেই!!

সিমেক ডেস্কঃ প্রখ্যাত নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ ও সার্জন অধ্যাপক ডাঃ প্রাণ গোপাল দত্ত বলেছেন, “বেশি কথা মোবাইলে; কান যাবে অকালে”। ঘাড়ব্যথা ও ব্যাকপেইনের রোগীর সংখ্যা বিশ^ব্যাপী ক্রমশ বাড়ছে। এর কারণ হিসেবে স্পাইন সার্জনরা চিহ্নিত করছেন স্মার্টফোনের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারকে। দক্ষিণ কোরিয়ার উলসান ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি-ও গবেষকরা বলেন, স্মার্টফোন ব্যবহারের সঠিক দেহভঙ্গি বাতলে দেয়াও কঠিন। কারণ মাথা নিচু করে দীর্ঘক্ষণ ষ্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলে ঘাড়ে-পিঠে ব্যথা হবে। আবার মাথা সোজা রেখে চোখ বরাবর স্মার্টফোন তুলে ব্যবহার করলে তা-ও কাঁধ এবং কনুইয়ের জন্যে ক্ষতিকর।

ভার্চুয়াল ভাইরাসের সবচেয়ে বড় শিকার শিশুরা। বর্তমানে বিশ্বে প্রতি তিন জন ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর একজনই শিশু। (ইউনিসেফ রির্পোট, জানুয়ারি ২০১৬) মার্কিন শিশু-কিশোরদের অটিজম, মনোযোগ হ্রাস, হতাশা ও তীব্র বিষন্নতায় আক্রান্ত হওয়ার সাথে ভিডিও গেম আসক্তির সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। (দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট, ৭ ডিসেম্বর ২০১৬) পাবলিক হেলথ ইংল্যান্ড-এর গবেষণা অনুযায়ী, যেসব শিশু কম্পিউটার, টেলিভেশন ও ভিডিও গেম নিয়ে দিনের বেশিরভাগ সময় ব্যস্ত থাকে তারা হয়ে পড়ে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ও হীনমন্যতার শিকার। এছাড়া আমেরিকান কলেজ অব পেডিয়াট্রিশিয়ানস-এর ভাষ্যমতে, শিশুদের অনিদ্রা, মেদস্থুলতা, আগ্রাসী মনোভাব, আত্মবিশ্বাসহীনতার অন্যতম কারণ স্ক্রিন আসক্তি। (দ্য গার্ডিয়ান, ২৬ জানুয়ারি ২০১৮)

প্রথিতযশা মনোচিকিৎসক অধ্যাপক ডাঃ আনোয়ারা সৈয়দ ঘশ বলেছেন, আমাদের জীবন এখন হয়ে পড়েছে প্রযুক্তিনির্ভর। সবাই মিলে ঢুকে পড়েছি উৎকট হাস্যকর বাস্তবতার যুগে। ইদানীং সামাজিক অস্থিরতা ও অসহিঞ্চুতার একটি বড় কারণ ফেসবুক। ব্যক্তিগত সম্পর্কেও জটিলতা ও টানাপোড়েনের জন্যেও এটি দায়ী। বুঝে না-বুঝে আমরা প্রযুক্তির অপরিণামদর্শী ব্যবহার করছি দিনের পর দিন। তাতে বাড়ছে প্রতারণা, অবিশ্বাস, প্রতিহিংসা। আমাদের স্বাধীনতা বেড়েছে, কিন্ত সচেতনতা বাড়ে নি। নতুন প্রযুক্তি আমরা ব্যবহার করব ঠিকই, তবে তা যেন হয় যতটুকু প্রয়োজন কেবল ততটুকুই।

ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া লস এজ্ঞেলেস-এর সাইকোলজিস্ট প্রফেসর ড্যানিয়েল ওপেনহেইমার বলেন, ক্লাস নোট হাতে লিখলে তা একজন শিক্ষার্থীর বেশি সময় মনে থাকে। কিন্তু ল্যাপটপে নোট নিলে তা মনে থাকে খুবই স্বল্প সময়। গবেষকরা দেখেছেন, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা ও চিন্তাশক্তি কমিয়ে দেয় স্মার্টফোন। (দ্য আটলান্টিক, ২ আগস্ট ২০১৭) যে শিশুরা অতিরিক্ত সময় স্মার্টফোন, ট্যাব ও কম্পিউটারের স্ক্রিনে সেঁটে থাকে, তারা কোনো কিছুতেই দীর্ঘসময় মনোযোগ ধরে রাখতে পারে না। (দ্য গার্ডিয়ান, ২৬ জানুয়ারি ২০১৮)

টিভি স্মার্টফোন ট্যাব ইউটিউব চালিয়ে আপনার সন্তানকে খাবার খেতে অভ্যস্ত করবেন না। সন্তানকে বই পড়া, খেলাধুলা, ব্যায়ামে উৎসাহিত করুন ও পরিবারের প্রাত্যহিক কাজে সম্পৃক্ত করে নিন। বয়স ১৮’র আগে সন্তানের হাতে স্মার্টফোন দেবেন না। রাত ১১টার পর ভার্চুয়াল জগৎ থেকে দূরে থাকুন।

একজন শিক্ষাবিদাঃ ও লেখক বলেছেন, ফেসবুক আসক্তি ও মাদকাসক্তির মাঝে কোনো পার্থক্য নেই। মস্তিস্ককে তোমরা কীভাবে ব্যবহার করবে, তার ওপর নির্ভর করবে তোমার, তোমার দেশের এবং পৃথিবীর ভবিষ্যৎ। তোমরা কি জানো এই মহামূল্যবান রহস্যময় মস্তিস্কটি নিয়ে এখন সারা পৃথিবীতে একটি অবিশ্বাস্য ষড়যন্ত্র চলছে?

আমি নিশ্চিত তোমাদের অনেকেই নিজের অজান্তে সেই ষড়যন্ত্রের ফাঁদে পা দিয়েছ। এই ষড়যন্ত্রের নাম সোশ্যাল নেটওয়ার্ক। শিক্ষক হিসেবে আমি লক্ষ্য করেছি ২০১৩-১৪ সাল থেকে ছাত্রছাত্রীদের মাঝে একধরনের গুণগত অবক্ষয় শুরু হয়েছে। তাদের মনোযোগ দেয়ার ক্ষমতা ও বিশ্লেষণী ক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে। আমার মনে হয়, এটি ফেসবুক জাতীয় সামাজিক নেটওয়ার্কে বাড়াবাড়ি আসক্তির ফল।

মাদকাসক্ত একজন মানুষ নির্দিষ্ট সময়ে মাদক না পেলে অস্থির হয়ে যায়, তার মস্তিষ্কে বিশেষ ধরনের কেমিক্যাল নির্গত হতে শুরু করে। বিজ্ঞানীরা দেখিয়েছেন, সোশ্যাল নেটওয়ার্কে আসক্ত একজন মানুষ নির্দিষ্ট সময়ে তার সোশ্যাল নেটওয়ার্কে সময় অপচয় না করতে পারলে সে-ও অস্থির হয়ে যায়। তার মস্তিষ্কের বিশেষ ধারনের কেমিক্যাল নির্গত হতে শুরু করে। সহজ ভাষায় বলা যায়, সত্যিকারের মাদকাসক্তির সাথে সোশ্যাল নেটওয়ার্কে আসক্তির কোনো পার্থক্য নেই।

তোমরা প্রযুক্তিকে ব্যবহার করবে, কিন্তু প্রযুক্তি যেন কখনোই তোমাদের ব্যবহার করতে না পারে। মনে রেখো এই সব আধুনিক প্রযুক্তি কিন্তু পরজীবী প্রাণীর মতো, সেগুলো তোমার পুষ্টি খেয়ে বেঁচে থাকে।

 

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ সরদার মোঃ শাহীন,
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ রফিকুল ইসলাম সুজন,
বার্তা সম্পাদকঃ ফোয়ারা ইয়াছমিন,
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ আবু মুসা,
সহঃ সম্পাদকঃ মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিসঃ ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২,
উত্তরা, ঢাকা,
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com