মরণেও পেলেন না প্রাপ্য সম্মান একজন ভাষাসৈনিক

প্রকাশের সময় : 2019-12-18 11:38:52 | প্রকাশক : Administration
মরণেও পেলেন না প্রাপ্য সম্মান একজন ভাষাসৈনিক

প্রভাষ আমিনঃ বিশিষ্ট কেউ মারা গেলে তার মরদেহ শহীদ মিনারে নেয়া একটি রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। তবে কার মরদেহ শহীদ মিনারে নেয়া হবে, কারটা নেয়া হবে না, তার কোনো মাপকাঠি নেই। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট শহীদ মিনারে শেষ শ্রদ্ধার বিষয়টি দেখভাল করে। এ নিয়ে অনেক রাজনীতিও হয়।

কিন্তু যারা জীবনের পরোয়া না করে ভাষার জন্য পুলিশের গুলির সামনে বুক পেতে দিলো সেই ভাষা সৈনিকদের মরদেহই যদি শহীদ মিনারে নেয়া হলো না। তাহলে আর কারও মরদেহই শহীদ মিনারে নেয়ার দরকার নেই। শ্রদ্ধা জানাতে কেউ আসুক বা না আসুক, তবুও রওশন আরা বাচ্চুর মরদেহ শহীদ মিনারে নেয়া উচিত ছিলো। তাতে অন্তত তার আত্মা কিছুটা হলেও শান্তি পেতো।

বিশিষ্ট কেউ মারা গেলে অনেকে শোক জানান। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হাহাকার ওঠে। কিন্তু রওশন আরা বাচ্চুর মতো একজন ভাষা সৈনিকের মৃত্যুতে দেখছি আশ্চর্য নির্লিপ্ততা। রহস্যজনক নীরবতা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ ছাড়া আর কারও শোকবাণী চোখে পড়েনি। নারী সংগঠনগুলোও নিশ্চুপই ছিলো। তার পরিবার চেয়েছিলো বাংলা একাডেমিতে জানাজা নামাজ হোক। কিন্তু একাডেমির অনাগ্রহে তাও হয়নি।

সাংবাদিকদের উদ্যোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই শিক্ষার্থীর জানাজা হলেও তাতে উপস্থিত ছিলেন হাতে গোনা কয়েকজন। পরিচিত কাউকেই দেখা যায়নি। বেঁচে থাকতেও আমরা তাকে প্রাপ্য মর্যাদা দিতে পারিনি। রওশন আরা বাচ্চুর মতো ভাষাসৈনিকদের আন্দোলনে অর্জিত যে একুশ, সেই একুশে পদকও পাননি তিনি। মরণেও পেলেন না প্রাপ্য সম্মান।

আমি জানি না কেন এই নির্লিপ্ততা। তিনি কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে আমার জানা নেই। শেষ জীবনটা কাটিয়েছেন নিভৃতে। চলেও গেলেন অনেকটা নীরবেই। তিনি যদি কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকতেনও তাতে তো ভাষা আন্দোলনে তার অবদান ম্লান হয়ে যায় না। একজন ভাষা সৈনিক বা মুক্তিযোদ্ধা আওয়ামী লীগ না বিএনপি করেন, তা দিয়ে নিশ্চযই তার মর্যাদা নির্ণীত হবে না। হওয়া উচিত নয়। কিছু পাওয়ার জন্য নিশ্চয়ই রওশন আরা বাচ্চু ভাষা আন্দোলনে শামিল হননি। মৃত্যুর পর মর্যাদা পাবেন কিনা সেটা ভেবে নিশ্চয়ই তিনি ১৪৪ ধারা ভাঙতে যাননি। তাকে সম্মানিত করতে না পারা আমাদের ব্যর্থতা, আমাদের লজ্জা, আমাদের নিচুতা। এই দীনতা ক্ষমতা করো হে বীর। - ফেসবুক থেকে

 

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ সরদার মোঃ শাহীন,
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ রফিকুল ইসলাম সুজন,
বার্তা সম্পাদকঃ ফোয়ারা ইয়াছমিন,
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ আবু মুসা,
সহঃ সম্পাদকঃ মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিসঃ ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২,
উত্তরা, ঢাকা,
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com