কোনাবাড়ী থেকে ইউরোপ-আমেরিকায়

প্রকাশের সময় : 2019-12-18 11:41:32 | প্রকাশক : Administration
কোনাবাড়ী থেকে ইউরোপ-আমেরিকায়

সিমেক ডেস্কঃ গাজীপুরের কোনাবাড়ী থেকে ইটভাটা দিয়ে ব্যবসা শুরু। অল্প পুঁজির সঙ্গে ছিল নিষ্ঠা, সততা আর পণ্যের গুণগত মান। একটি ইটভাটার ব্যবসা অল্পদিনেই দুটিতে ব্যাপ্ত হয়। ব্যবসা গড়ায় অন্যখাতেও। গাজীপুর থেকে পুরো দেশে ছড়িয়ে পড়ে। দিন গড়িয়ে নিষ্ঠার এ ব্যবসা এখন ইউরোপ- আমেরিকায় বিস্তৃত হয়েছে। সাফল্যের এ গল্পটি দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী কেয়া গ্রুপের। কেয়া কসমেটিকস হিসেবে দেশব্যাপী পরিচিতি পেলেও এ গ্রুপের রয়েছে আরও অনেক খাতে শিল্প প্রতিষ্ঠান।

ভিশন এবং মিশন থাকলে যে কেউ সাফল্যের শীর্ষে পৌঁছাতে পারেন- তার বড় উদাহরণ আবদুল খালেক পাঠান। বাল্যকাল থেকেই উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন ছিল তার। এখন তিনি কেয়া গ্রুপের চেয়ারম্যান। গাজীপুরের কোনাবাড়িতেই তার জন্ম। এই কোনাবাড়ি থেকেই উদ্যম, নিষ্ঠা, মেধা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে ব্যবসাকে নিয়ে গেছেন ইউরোপ- আমেরিকার মতো দেশে। এখন দেশের অন্যতম শীর্ষ করপোরেট প্রতিষ্ঠান কেয়া গ্রুপ। কেয়া গ্রুপের গত কয়েক বছরে প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ডজনের বেশি। একই সঙ্গে বেড়েছে বার্ষিক টার্নওভার ও প্রতিষ্ঠানে জনবল সংখ্যা। কেয়া গ্রুপের দাবি, দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে গ্রুপটি। এ গ্রুপে কয়েক হাজার শ্রমিক, কর্মচারী ও কর্মকর্তা কাজ করছেন। এ গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান রাষ্ট্রীয় কোষাগারে রাজস্ব জমা দিচ্ছে শত কোটি টাকা। প্রসাধনী, পোশাক, এগ্রো ও পরিবহন খাতের নেতৃত্বে রয়েছে গ্রুপটি। এসবের পাশাপাশি গ্রুপটির কেয়া কসমেটিকস এখন দেশের অন্যতম শীর্ষ প্রতিষ্ঠান।

বিশ্বমানের পণ্য উৎপাদন করায় কেয়ার কসমেটিকস সামগ্রী দেশের বাইরেও রপ্তানি হচ্ছে। ভারত, ভুটান, নেপাল, সৌদি আরব, কাতার, দুবাইসহ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশে কেয়ার কসমেটিক সামগ্রী রপ্তানি হচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত কয়েকটি দেশ ও যুক্তরাষ্ট্রে কেয়া কসমেটিকস সামগ্রী যাচ্ছে। এসব দেশের প্রতিনিধিরা কেয়ার কারখানা পরিদর্শন করে এর অবকাঠামো সর্বাধুনিক বলে স্বীকৃতি দিয়েছেন। এছাড়া নতুন বাজারে প্রবেশ করছে কেয়ার কসমেটিক সামগ্রী।

জানা গেছে, কোম্পানির চেয়ারম্যান আবদুল খালেক পাঠান ইটভাটায় চাকরি নিয়ে জীবন সংগ্রাম শুরু করেন। পরে তিনি নিজেই একটি ইটভাটা স্থাপন করে পরিচালনার দায়িত্ব নেন। এই সময়ে ব্যাপক পরিশ্রম করতে হয়েছে তাকে। স্কুল ছুটির পর বন্ধুরা যখন খেলাধুলায় মগ্ন থাকতো তখন তিনি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ব্যবসা নিয়ে চিন্তাভাবনা করতেন। মজার বিষয় হলো, পরে এই টাকা দিয়ে অর্থবৃদ্ধির জন্য কম দামের এক বাজার থেকে মুরগি, হাঁস ও ছাগল কিনে বেশি দামে অন্য একটি বাজারে বিক্রি করতেন।

এভাবেই তার ব্যবসায়িক জীবনের মোড় পরিবর্তন হতে থাকে। এখানেই থেমে থাকতে হয়নি তাকে। এসেছে শুধুই একের পর এক সাফল্য। গড়েছেন শিল্প। ব্যাপ্তি হয়েছে ব্যবসার। খালেক পাঠানের উদ্যম, নিষ্ঠা, মেধা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে গড়ে তোলা এসব শিল্প গ্রুপ দেশে-বিদেশে পেয়েছে প্রচুর খ্যাতি। কেয়া কসমেটিকস হিসেবেই বেশি পরিচিত এ গ্রুপটি। কঠিন বাস্তবতার মাঝেও তার জীবন এখন আলোকিত। তিনি অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে একটু একটু করে উন্নয়নের শীর্ষে চলে আসেন। স্পষ্টভাষী, সৎ এবং উদার মনোভাবাপন্ন এ ব্যক্তির উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখা থেমে যায়নি; বরং স্বয়ংসম্পূর্ণ এই উদ্যোক্তা দেশীয় বাজারে শীর্ষস্থান ধরে রাখতে কাজ করে যাচ্ছেন।

আবদুল খালেক পাঠান ১৯৫৯ সালের ১৪ই মে গাজীপুরের কোনাবাড়ি উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা আবদুল পাঠান ও মা বেগম আলেক জান। খালেক পড়াশোনা শুরু করেন হাতিমারা হাইস্কুলে। ১৯৭৯ সালে তিনি এসএসসি পাস করেন। আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি ১৯৮৩ সালে ইটভাটার মাধ্যমে ব্যবসা শুরু করেন। কোম্পানির নাম ছিল খালেক অ্যান্ড কোং বা কে অ্যান্ড কোং। অনন্য এই ইটের কোয়ালিটি ও মানের কারণে বাজারে তার খ্যাতি এনে দেয় এবং বাজারের চাহিদা পূরণে সক্ষম হন। সাফল্যের কারণে পরে তিনি বন্ধু ইট নামে আরেকটি ইটের ব্যবসা শুরু করেন। পরে তিনি আরও ব্যবসা সম্প্রসারণ করেন।

বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান যখন বেছে বেছে শারীরিকভাবে পরিপূর্ণ কর্মক্ষমদের চাকরি দিচ্ছে, ঠিক তখন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রতিবন্ধীদের চাকরি দিচ্ছে কেয়া গ্রুপ। ব্যাতিক্রমী এ দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছেন প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার নিজেই। এ গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রয়েছে হাজার খানেক প্রতিবন্ধী কর্মী। উৎপাদনসহ নানাক্ষেত্রে কাজ করছেন তারা। সামনের দিনগুলোতে কর্মকর্তা- কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধীদেরই অগ্রাধিকার দেয়ার কথা জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টরা।

দেশের জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান হানিফ সংকেতের ইত্যাদির স্পন্সর হিসেবে কেয়া কসমেটিকস্ দীর্ঘদিন থেকে যুক্ত। মূলত কেয়ার সৌজন্যেই এ অনুষ্ঠানটি পরিচালিত হয়। শুধু অনুষ্ঠান পরিচালনা নয়, অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সমাজে অবহেলিত, সম্ভাবনাময়, মানুষের জন্য নিবেদিত, জীবন সংগ্রামে জয়ী মানুষদের নানাভাবে সহযোগিতাও করে আসছে কেয়া গ্রুপ। - সূত্রঃ মানব জমিন

 

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ সরদার মোঃ শাহীন,
বার্তা সম্পাদকঃ ফোয়ারা ইয়াছমিন,
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ আবু মুসা,
সহঃ সম্পাদকঃ মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিসঃ ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২,
উত্তরা, ঢাকা,
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com