সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগে বড়ো অগ্রগতি

প্রকাশের সময় : 2020-01-01 12:28:19 | প্রকাশক : Administration
সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগে বড়ো অগ্রগতি

রেজাউল হক কৌশিকঃ সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগে (এফডিআই) বড়ো অগ্রগতি হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে মোট ও নিট উভয় হিসাবেই এফডিআই বেড়েছে প্রায় ৫১ শতাংশ। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দেশে রেকর্ড পরিমাণ ৪৯৪ কোটি ৫৮ লাখ ডলারের বিনিয়োগ এসেছে। নিট হিসাবে এর পরিমাণ ৩৮৮ কোটি ৮৬ লাখ ডলার। এর আগে কোনো একক বছরে এত বেশি এফডিআই আসেনি। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

একটি একক কোম্পানি বিনিয়োগের কারণেই এফডিআই বেড়েছে। গত অর্থবছরে দেশের আকিজ গ্র“পের মালিকানায় থাকা ইউনাইটেড ঢাকা টোব্যাকো কোম্পানি লিমিটেডকে (ইউডিটিসি) কিনে নিয়েছে জাপানি তামাক কোম্পানি জাপান টোব্যাকো (জেটি) গ্র“প। এই অধিগ্রহণের মাধ্যমে জেটি এদেশে প্রায় ১৪৭ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করছে। যা গত অর্থবছরে আসা মোট এফডিআইয়ের ৭০ শতাংশ । ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদরা বলছেন, গত এক দশক ধরেই রাজনৈতিক স্থিতিশীল অবস্থা বিরাজ করছে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এফডিআই আকর্ষণে বড়ো ভূমিকা পালন করে। এছাড়া সরকারের ধারাবাহিকতাও এফডিআই আকর্ষণে ভূমিকা রাখছে। এর বাইরে বিভিন্ন অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন, সহজে ব্যবসা করার (ডুয়িং বিজনেস) সূচকে উন্নয়নের জন্য সরকারের উদ্যোগ এক্ষেত্রে বড়ো ভূমিকা রাখছে।

এফডিআইয়ে বড়ো অগ্রগতি বিষয়ে গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, মূলত জাপান টোব্যাকোর বিনিয়োগের কারণেই গত বছর এফডিআই বেড়েছে। চলতি অর্থবছরে আর এ ধরনের বিনিয়োগ বাড়ার সম্ভাবনা নেই। ফলে এবছর এফডিআই কমতে পারে বলেও আশঙ্কা করেন এই অর্থনীতিবিদ।

তিনি বলেন, বড়ো এফডিআই আকর্ষণের জন্য সরকার যেসব উদ্যোগ নিয়েছে তা বাস্তবায়ন হয়নি। বিদেশিদের এদেশে বিনিয়োগ করা কিংবা যাদের বিনিয়োগ আছে তাদের বিনিয়োগ ধরে রাখার জন্য দূর্নীতি ও চাঁদাবাজি দূর করতে হবে। একই সঙ্গে যেসব আইন আছে তার বাস্তবায়নও করতে হবে। এফডিআই-সংক্রান্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে সর্বমোট এফডিআই আসে ৪৯৪ কোটি ৫৮ লাখ ডলার। এর মধ্যে বিদেশি কোম্পানিগুলো মূলধন প্রত্যাবাসন, বিনিয়োগ তুলে নেওয়া, মূল কোম্পানি ও আন্তঃকোম্পানি ঋণ দেওয়া বাবদ ২১ শতাংশের বেশি অর্থ ফেরত নিয়ে গেছে।

এক অর্থবছরে মোট বিনিয়োগ থেকে মুনাফা বা ঋণ হিসেবে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া অর্থ বাদ দিয়ে যা থাকে সেটি হচ্ছে নিট বিনিয়োগ। গত অর্থবছরে ঋণ ও মুনাফা হিসেবে বিদেশি কোম্পানিগুলো ১০৫ কোটি ৬৮ লাখ ডলার নিয়ে গেছে। এতে নিট বিনিয়োগ দাঁড়িয়েছে ৩৮৮ কোটি ৮৯ লাখ ডলার।

পর্যালোচনা করে দেখা যায়, গত পাঁচ অর্থবছরের মধ্যে প্রতিবছরই আগের অর্থবছরের তুলনায় এফডিআই বেড়েছে। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে নিট বিদেশি বিনিয়োগ ছিল ১৮৩ কোটি ৩৮ লাখ ডলার। তার পরের অর্থবছরে তা বেড়ে হয় ২০০ কোটি ৩৫ লাখ ডলার। একইভাবে ২০১৬-১৭ অর্থবছরেও বাড়ে এফডিআই। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে দেশে নিট এফডিআই আসে ২৫৮ কোটি ডলার।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে সাম্প্রতিক সময়ে নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে অন্যতম হলো বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) প্রতিষ্ঠা ও বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) সংস্কার। বিনিয়োগকারীদের সহজেই সেবা দেওয়া হচ্ছে। তাদের জমিসহ অন্যান্য অবকাঠামো সুবিধা নিশ্চিত করছে বেজা। - সূত্রঃ ইত্তেফাক

 

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ সরদার মোঃ শাহীন,
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ রফিকুল ইসলাম সুজন,
বার্তা সম্পাদকঃ ফোয়ারা ইয়াছমিন,
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ আবু মুসা,
সহঃ সম্পাদকঃ মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিসঃ ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২,
উত্তরা, ঢাকা,
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com