নামাজের মাধ্যমে মানুষ আল্লাহর নৈকট্য লাভ করে

প্রকাশের সময় : 2020-01-01 12:36:45 | প্রকাশক : Administration

সিমেক ডেস্ক: আল্লাহ মানুষকে তার এবাদতের জন্যেই সৃষ্টি করেছেন। শুধু মানুষ নয়; মানুষ ও জ্বীন্ উভয় জাতিকে আল্লাহ তার এবাদত তথা তার দাসত্বের জন্য সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহ বলেন, ‘আমি মানব ও জ্বীন জাতিকে একমাত্র আমার এবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছি।’ (সুরা আয যারিয়াত, আয়াত : ৫৬) ফলে তিনি মানুষের জন্য কিছু দৈহিক, আত্মিক ও আর্থিক এবাদতের প্রচলন করেছেন। দৈহিক এবাদতের মাঝে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ও মহান এবাদত হল সালাত বা নামাজ।

নামাজ এমন একটি এবাদত যাকে আল্লাহ তার মাঝে এবং তার বান্দার মাঝে সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যম সাব্যস্ত করেছেন। নামাজের মাধ্যমে একজন মানুষ আল্লাহর সঙ্গে দেওয়া প্রতিশ্র“তির বার বার প্রতিফলন ঘটায়। সে তার প্রভু বা স্রষ্টাকে বুঝাতে সক্ষম হয় যে, সে তার প্রতিশ্র“তি পালন করে যাচ্ছে। এ নামাজের মাধ্যমেই মানুষ আল্লাহর নৈকট্য লাভ করে। আল্লাহর সঙ্গে মানুষের সম্পর্কের বন্ধন সুদৃঢ় ও মজবুত হয়। ইহকাল ও পরকালের মুক্তির পথ কন্টকমুক্ত হয়। নামাজ ব্যক্তি, পরিবার, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে শান্তি, শৃঙ্খলা, ভ্রাতৃত্ব ও মমতাবোধ ফিরিয়ে আনে। গড়ে উঠে সামাজিক ঐক্য। নামাজের মাধ্যমে ছগীরা তথা ছোট ছোট গুনাহগুলো হতে পরিত্রাণ লাভ করে এবং দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ লাভ হয়।

নামাজের বৈশিষ্ট্যঃ নামাজ এমন এক এবাদত যা সারা বছর দৈনিক পাঁচ বার আদায় করতে হয়। মৃত্যু ছাড়া আর কোনো অবস্থাতেই নামাজ মাফ হয় না, এমনকি মৃত্যুশয্যাতেও নামাজ হতে বিরত থাকার কোনো বিধান নেই। মিরাজের রজনীতে আল্লাহ তাআলা প্রথমে পঞ্চাশ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করেন। তারপর আল্লাহ মানুষের প্রতি দয়া করে তা কমিয়ে পাঁচ ওয়াক্তে নিয়ে আসেন। তবে সওয়াব ও বিনিময় পঞ্চাশ ওয়াক্তেরই জারি রাখেন। নামাজ একমাত্র এবাদত যা আল্লাহ তাআলা সাত আসমানের উপরেই ফরজ করাকে শ্রেয় মনে করেছেন। তাই রাসুল (সাঃ) যখন মেরাজে গমন করেন তখন   আল্লাহ তাআলা সরাসরি কোন প্রকার মাধ্যম ছাড়াই রাসুল (সাঃ) কে নামাজের দায়িত্ব দেন। এতে নামাজের মহত্ত্ব, মর্যাদা ও গুরুত্বের প্রতিফলন ঘটে। রব ও স্রষ্টার সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনে অভিপ্রায়ী একজন মুসলমানের কর্তব্য হল, সে এ মহান এবাদতটির মর্যাদা ও গুরুত্ব অনুধাবন করবে। এবং তার যথার্থতা বজায় রাখতে সচেষ্ট হবে। এছাড়াও নামাজের অনেক লাভ ও ফজিলত আছে। নিম্নে এর কয়েকটি ফজিলত আলোচনা করা হল। (১) আল্লাহর একাত্ববাদ ও মুহাম্মদ (সাঃ) এর রেসালাতের স্বাক্ষ্য দেওয়ার পর নামাজ হল ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ একটি রুকন বা স্তম্ভ। রাসুল (সাঃ) ঈমানের পরেই নামাজের কথা উল্লেখ করেন। (২) নামাজ আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয় ও সর্বোত্তম আমল। রাসুল (সাঃ) বলেন, ‘তোমরা অটুট ও অবিচল থাক, গণনা করো না, তোমরা কাজ করো, আর মনে রাখবে তোমাদের সর্বোত্তম আমল হল নামাজ (৩) নামাজ হলো নূর বা আলো। (৪) নামাজ আল্লাহর নৈকট্য ও উচ্চ-মর্যাদা লাভের উপকরণ। হযরত সাওবান (রাঃ) মহানবী (সাঃ) কে এমন আমল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন যা তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে, রাসুল (সাঃ) উত্তরে বললেন, তুমি বেশি করে আল্লাহর জন্য সেজদা-নামাজ আদায় করতে থাক, কারণ তোমার প্রতিটি সেজদার কারণে আল্লাহ তোমার মর্যাদা বৃদ্ধি করবেন এবং তোমার গুনাহ মাফ করবেন।’ (মুসলিম) (৫) নামাজ পাপ মোচনকারী এবং ছোট ছোট গুনাহের প্রায়শ্চিত্ত স্বরূপ। রাসুল (সাঃ) বলেন, ‘পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, এক জুমা হতে আরেক জুমা মধ্যবর্তী গুনাহ সমূহের প্রায়শ্চিত্ত করে, যতক্ষণ পর্যন্ত সে কবিরা গুনাহে লিপ্ত না হয়।’রাসুল (সাঃ) বলেন, ‘যে কোনো মুসলমানের জন্য যখন ফরজ নামাজের সময় উপস্থিত হয়, অতঃপর সে সুন্দরভাবে ওজু করে এবং সুন্দরভাবে রুকু সেজদা করে, এতে তার অতীতের সকল গুনাহ মাফ হয়ে যায়। যদি সে কোনো কবিরা গুনাহ না করে, আর এভাবে সর্বদা চলতে থাকে।’ (মুসলিম) (৬) সময় মত নামাজ আদায় করা। রাসুল (সাঃ)-কে জিজ্ঞাসা করা হল, আল্লাহর নিকট কোন আমল সবচেয়ে বেশি প্রিয়? তিনি বলেন, ‘সময়-মত নামাজ আদায় করা, আবার জিজ্ঞাসা করা হল তারপর কোনোটি? উত্তরে তিনি বলনে, মাতা পিতার সঙ্গে সদাচরন করা। (বোখারি) (৭) মসজিদে জামাতের সঙ্গে নামাজ আদায় করা। জামাতে নামাজ আদায় ওয়াজিব । নামাজ মোমিনের অন্তর ও মনুষত্বকে শক্তিশালী করতে সহযোগীতা করে এবং তাকে কল্যাণকর কাজে উৎসাহ জোগায় ও খারাপ কাজ হতে বিরত থাকার জন্য শক্তি জোগায়। নামাজ ত্যাগ করার মত আর কোনো বড় গুনাহ হতে পারে না। নামাজ ত্যাগ করার মানে হচ্ছে ইসলামের স্তম্ভ-খুঁটি ভেঙে চূর্ণবিচুর্ণ করা। ইসলামের মাঝে নামাজ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা সত্ত্বেও নামাজ পরিত্যাগ করা যে কত বড় গুনাহ তা বর্ণনা দেওয়ার অবকাশ রাখে না। অসংখ্য হাদিস দ্বারাও নামাজ ত্যাগ কারীর ক্ষতি প্রমাণিত হয় এবং কোনো কোনো হাদিসে নামাজ ত্যাগকারীকে কাফেরও বলা হয়। রাসুল (সাঃ) এর বাণী, তিনি বলেন, ‘ব্যক্তি ও কুফর-শিরকের মাঝে ব্যবধান হল নামাজ ত্যাগ করা।’ (মুসলিম) তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের মাঝে আর অমুসলিমদের মাঝে চুক্তি হল নামাজ, যে ব্যক্তি নামাজ ছেড়ে দিল সে কাফের হয়ে যাবে।’

 

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ সরদার মোঃ শাহীন,
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ রফিকুল ইসলাম সুজন,
বার্তা সম্পাদকঃ ফোয়ারা ইয়াছমিন,
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ আবু মুসা,
সহঃ সম্পাদকঃ মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিসঃ ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২,
উত্তরা, ঢাকা,
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com