বোরোর রেকর্ড ফলন

প্রকাশের সময় : 2018-05-24 22:44:55 | প্রকাশক : Admin
বোরোর রেকর্ড ফলন

কাওসার রহমান: নানা শঙ্কা সত্ত্বেও সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে এ বছর সারাদেশে বোরো ধানের রেকর্ড বাম্পার ফলন হয়েছে। ঝড় কিংবা শিলাবৃষ্টি সত্ত্বেও এবার প্রথমবারের মতো দেশে বোরোর উৎপাদন ২ কোটি টনে গিয়ে দাঁড়াবে। কারণ ঝড় কিংবা শিলাবৃষ্টিতে ফসলের সামান্যই ক্ষতি হয়েছে। বিপরীতে সারাদেশেই বোরো আবাদের আওতা এবং উৎপাদন বেড়েছে। ফলে বড় কোন দুর্যোগ না হলে এবার মোট বোরোর ফলন দুই কোটি টনে গিয়ে দাঁড়াতে পারে। আর এই আশাবাদ সত্যি হলে দেশে খাদ্যশস্য উৎপাদনে একটি মাইলফলক অর্জিত হবে।

হাওড়বাসী অবশ্য সবার আগে সেই বাম্পার ধান কাটার উৎসবে মেতে উঠেছে। দুই বছর পর আবার ধান কাটার মহোৎসবে মেতে উঠতে পেরে হাওড়বাসী ভীষণ আনন্দিত। সারাদেশের মতো, এবার হাওড়বেষ্টিত ৭টি জেলায় শুধু ধানের আবাদই বাড়েনি, ফলনও অনেক বেড়েছে। যা গত বছরের ফসলহানির ক্ষতি অনেকটাই পুষিয়ে দেবে বলে কৃষকরা মনে করছে। এ বছর সারাদেশে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৪৭ লাখ ২৫ হাজার হেক্টর জমিতে। অনুকূল আবহাওয়া এবং ধানের চড়া দামের কারণে কৃষক সারাদেশে বোরো আবাদ ৪৮ লাখ হেক্টর ছাড়িয়ে যায়।

কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, বাজারে চালের উচ্চ মূল্যই কৃষকদের বোরো আবাদে আকৃষ্ট করেছে। গত দুই মৌসুমেই ধানের দাম বেশি থাকায় তারা এবার কোন জমিই পতিত রাখেনি। তাছাড়া বিদ্যুতের সরবরাহ ভাল থাকায় কৃষকরা সঠিক সময়ে জমিতে সেচ দিতে পেরেছে। সার ব্যবস্থাপনাও ছিল পর্যাপ্ত। জমিতে পোকামাকড়ের আক্রমণ ছিল না বললেই চলে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের শীর্ষ কর্মকর্তারা বলছেন, গত বছর বন্যার পর ফসলের মাঠ যেমন উর্বর হয়েছে, তেমনি এবার আবহাওয়াও ছিল বোরো চাষের জন্য অনুকূল। সেই সঙ্গে পানি সরবরাহ স্বাভাবিক ছিল। ছয় লাখ কৃষককে প্রণোদনা দেয়া হয়েছে। এখন প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে কৃষক বোরোর এই বাম্পার ফলন ঘরে তুলতে সক্ষম হবে।

গত বছর এই সময়টায় বিষাদে তিক্ত ছিল হাওড় পাড়ের মানুষের জীবন। অকাল বন্যা ভাসিয়ে নিয়েছিল কৃষকের কষ্টে বোনা স্বপ্নের ধান। তবে প্রকৃতি এবার দু’হাত ভরে দান করেছে। বাতাসে দোল খাচ্ছে সোনারাঙা পাকা ধান। তা দেখে কষ্টের দিনগুলোর কথা ভুলে, নতুন স্বপ্ন দেখছেন তারা।

সেই হাওড়েই এখন চলছে ধান কাটার উৎসব। ধান কাটাকে কেন্দ্র করে কিষান-কিষানীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে হাওড়াঞ্চল ও গ্রামীণ জনপদ। কর্ম ব্যস্ততায় এখন হাওড়ে হাওড়ে বইছে বাংলার সেই চিরাচরিত রূপ। একদিকে বাম্পার ফলন অন্যদিকে ফসল হারানোর সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যাওয়ায় কৃষকরা ধান কাটা, মাড়াই-ঝাড়াই ও ধান গোলায় তোলার কাজে এতটুকু সময় নষ্ট করতে নারাজ। প্রত্যেকটি হাওড়েই এখন বোরো ফসল কাটার ধুম পড়েছে। আর ১৪-১৫ দিনের মধ্যেই কৃষকরা তার ফসল ঘরে তুলতে পারবে।

এ বছর সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে সজাগ দৃষ্টি ছিল হাওড়ের দিকে। শুধু ধান আবাদের সহযোগিতাই নয়, সেই ধান যাতে নির্বিঘ্নে কৃষক ঘরে তুলতে পারে সে ব্যাপারে সচেষ্ট ছিল সরকার। ঘন ঘন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কৃষকদের আরও দক্ষ ও সচেতন করা হয়েছে। পাশাপাশি কৃষি পুনর্বাসনের আওতায় প্রান্তিক কৃষককে বীজ, সার ও নগদ টাকাও দেয়া হয়েছে।

অন্যদিকে ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণের ক্ষেত্রেও সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর নজরদারি ছিল। তাই ধানকাটা মৌসুমের আগেই ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণের কাজও সমাপ্ত হয়েছে। এতে কৃষক অনেকটা স্বস্তিতে আছে। আগাম বন্যায় ফসলহানির সম্ভাবনা কেটে গেছে।

বোরো ধানের বাম্পার ফলনে হাওড়ের কৃষকদের চোখেমুখে আনন্দের ছাপ। ইটনার ইরাবিরা হাওড়ের কৃষক মহির উদ্দিন বলেন, গতবার ৫০০ কাঠা জমিতে বোরো চাষ করেছিলাম। এবার চাষ করেছি ১২০০ কাঠা জমিতে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে, কম করে হলেও ১২শ’ মণ ধান পাবো। গত বছর কোন ধান ঘরে তুলতে পারিনি। তাই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আমার মতো অনেক কৃষকই এবার বেশি জমিতে ধান চাষ করেছেন।

সম্প্রতি জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (ফাও) বাংলাদেশের বোরো আবাদ ভাল হয়েছে বলে তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে। সংস্থাটি বলেছে, অনুকূল আবহাওয়া এবং পর্যাপ্ত কৃষি উপকরণ ও পানি পেয়ে বাংলাদেশের বোরো আবাদ বেশ ভাল হয়েছে। আবহাওয়াসহ সব কিছু ঠিক থাকলে এবার প্রথমবারের মতো দেশে ২ কোটি টন বোরো উৎপাদিত হবে। আগামী দিনগুলোতে স্বাভাবিক আবহাওয়ার ওপরই নির্ভর করছে বোরো ধানের সম্ভাবনা।

 

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ সরদার মোঃ শাহীন,
বার্তা সম্পাদকঃ ফোয়ারা ইয়াছমিন,
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ আবু মুসা,
সহঃ সম্পাদকঃ মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিসঃ ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২,
উত্তরা, ঢাকা,
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com