মাদক নির্মূলে কঠোর পদক্ষেপ সাঁড়াশি অভিযানে দেশব্যাপী স্বস্তি

প্রকাশের সময় : 2018-06-10 10:37:31 | প্রকাশক : Admin

সিমেক ডেস্কঃ কোনো সমস্যা যতই গুরুতর হোক না কেন, তা যদি স্থায়ীরূপ ধারণ করে, তাহলে একটি পর্যায়ে এসে তা যেন গা সহা হয়ে যায়। এতদিন অবধি বলা হতো, বাংলাদেশে মাদকাসক্তি তেমনই এক ভয়ঙ্কর সমস্যা, যা সমাধানের ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন মহলের প্রকৃত সদিচ্ছার অভাব রয়েছে। তবে স্বস্তির কথা হল, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এই ভয়াবহতা উপলব্ধি করেছেন মর্মে মর্মে।

সেই কারণে সম্প্রতি তিনি মাদক নির্মূলে যে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা ঘোষণা করেছেন, তার প্রতিফলন এখন স্পষ্ট হচ্ছে ক্রমশ। আমরা দেখছি, ইতিপূর্বেও একাধিকবার ঘোষণা দিয়ে পরিচালিত হয়েছে মাদকবিরোধী অভিযান। কিন্তু সম্প্রতি যে অভিযান শুরু হয়েছে তা ভিন্নতর বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে। চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে মাদক নির্মূলে র‌্যাবের অভিযান শুরু হয়েছে। সারাদেশে এখন কঠোর অবস্থানে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। দেশজুড়ে চলছে সাঁড়াশি অভিযান।

অফিযানের পাশাপাশি গভীর ভাবে ভাবতে হবে এর ব্যাপক বস্তারের কারণ সমূহ। একটা সময় গ্রামে গ্রামে, পাড়ায় পাড়ায় সংস্কৃতির চর্চা হতো, নাটক-সংগীতের চর্চা হতো, স্কুল-কলেজে ছিল সাংস্কৃতিক সংগঠন। তার সবই এখন বন্ধ করা হয়েছে। ছাত্র রাজনীতিও চলে গেছে অস্ত্রবাজ আর লুটেরাদের দখলে। পাঠাগারগুলো বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। একজন তরুণ যে প্রকৃত মানুষ হওয়ার স্বপ্ন দেখবে, কোথাও গিয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলবে, তার কোনো জায়গা নেই। স্বপ্ন দেখার, নিঃশ্বাস ফেলার সমস্ত দরজা-জানালা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

এভাবে একটি সমাজ চলতে পারে না। সমাজ ভুল পথে পরিচালিত হয়। তরুণ সমাজ বিপদগামী হয়। মুখোশধারী অপরাধীরা সমাজ ব্যবস্থার এই অব্যবস্থাপনার সুযোগে মাদকের মত ভয়ংকারী বিষ ওদের হাতে তুলে দেয়। ভাষ্য অনুযায়ী, সতের কোটি মানুষের জন্য জনপ্রতি পাঁচটি করে ইয়াবা ঢুকছে দেশে। ইয়াবা ও ফেনসিডিল আসছে মূলত মিয়ানমার ও ভারত থেকে। আমাদের সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরীদের কাজ কী? সীমান্ত পাহারা মানে মিয়ানমার বা ভারত ভূখন্ড জবর-দখল করে নিয়ে যাবে এটা ঠেকানোই শুধু তাদের কাজ? নাকি মাদক যাতে দেশে ঢুকতে না পারে সেই প্রচেষ্টা চালানোও তাদের কাজের মধ্যে পড়ে?

আমরা বুক ফুলিয়ে দাবি করি, ৯০ পার্সেন্ট মুসলমানের দেশ বাংলাদেশ। পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিমের দেশ বাংলাদেশ। তাই যদি হয়, মাদকের বিরুদ্ধে ধর্মের ভূমিকা কোথায়? ধর্ম কেন ভূমিকা রাখতে পারছে না প্রজন্মকে মাদকাসক্তি থেকে দূরে রাখতে? এর দায় তো ধর্মের না; ধর্মের ধারক এবং বাহকদের। ইসলামে কঠিনভাবে হারাম করা হয়েছে মাদককে। কিন্তু কোথায় সেসব নিয়ে ওয়াজ নজিহত? যারা সব সময় ওয়াজ করেন তাদের বলিষ্ঠ ভূমিকা নেয়া প্রয়োজন। এটা সময়ের দাবী। ধর্মনেতারা মসজিদে মাদকের বিরুদ্ধে বলবেন না, তাহলে বলবে কারা?

মাদক নির্মূল অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি ক্ষেত্র। কারণ এখানে কাঁচা টাকা রয়েছে অঢেল। কারণ মাদক ব্যবসার মাধ্যমে যে বিপুল অঙ্কের অর্থ লেনদেন হচ্ছে, সেই অর্থ অত্যন্ত স্পর্শকাতর। সে কারণে বিশ্বের কোনো রাষ্ট্রই মাদকের বিষবায়ু হতে মুক্ত নয়। প্রকৃত অর্থে, একমাত্র সরকারের শীর্ষপর্যায়ের দৃঢ় অবস্থান ও নির্দেশিত পদক্ষেপেই মাদকের ভয়াল স্রোতের বিপরীতে শক্ত বাঁধ নির্মাণ করা সম্ভব। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রধানমন্ত্রীর এই কঠোর নির্দেশ বাস্তবায়নে বিশেষ সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। কারণ এই বিপুল অর্থ যে অন্যভাবে ব্যবহৃত হবে না তার নিশ্চয়তা কোথায়?

আমরা মনে করি দেশ থেকে সম্পূর্ণরূপে মাদক নির্মূল করতে হলে নিয়মিত বিশেষ অভিযান পরিচালনার কোনো বিকল্প নেই। মাদক বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে সরকার ঘোষিত জিরো টলারেন্স নীতির পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন জরুরি। সেইসঙ্গে মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও সুপথে ফিরিয়ে আনার জন্যেও অভিযান জোরদার কার্যক্রম প্রয়োজন।

 

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ সরদার মোঃ শাহীন,
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ রফিকুল ইসলাম সুজন,
বার্তা সম্পাদকঃ ফোয়ারা ইয়াছমিন,
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ আবু মুসা,
সহঃ সম্পাদকঃ মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিসঃ ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২,
উত্তরা, ঢাকা,
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com