সুচিত্রা থাকেন বুকের বাম পাশটায়

প্রকাশের সময় : 2018-06-10 10:39:16 | প্রকাশক : Admin
�সুচিত্রা থাকেন বুকের বাম পাশটায়

ইমতিয়াজ মেহেদী হাসানঃ উত্তমের শেষ শয্যার পাশ থেকে উঠে ফিরে গেলেন কলকাতার বালিগঞ্জের ২৪/৪/৪ ঠিকানায়। সেই যে গেলেন, তারপর ফিরলেন দু’-একবার। ১৯৮২ সালের কলকাতা ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল এবং ১৯৮৯-এ রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ভরত মহারাজের মৃত্যুর পর। তারপর আর দেখা যায়নি উত্তমের রমাকে। হ্যাঁ, আমি মহানায়িকা সুচিত্রা সেনের কথা বলছি।

১৯৩১ সালে তিনি পাবনা শহরের দিলানপুর মহল্লার হেমসাগর লেনের বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তার ডাক নাম রমা। পাবনার মহাখালি পাঠশালায় প্রাইমারি পাঠ চুকিয়ে তিনি ভর্তি হন পাবনা গার্লস স্কুলে। সেখানে দশম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেন তিনি। এরপর ১৯৪৭ সালে বিয়ের পিঁড়িতে বসে স্বামীর হাত ধরে কলকাতায় চলে যান। ১৯৬০ সালে তার বাবাও তাদের বসতভিটাটি জেলা প্রশাসনের কাছে ভাড়া দিয়ে স্বপরিবারে কলকাতায় পাড়ি জমান। শুরুটা ১৯৫২ সালে ‘শেষ কোথায়’ ছবি দিয়ে হলেও সুচিত্রা জনপ্রিয়তা পান উত্তম কুমারের সঙ্গে ‘সাড়ে চুয়াত্তর’ সিনেমায় অভিনয় করে। পরে তারা জুটি হয়ে কাজ করেছেন প্রায় ২২ বছর। তাদের সম্পর্কটাও ছিল গভীর। সুচিত্রা উত্তমকে ডাকতেন ‘উতু’ এবং উত্তম সুচিত্রাকে ডাকতেন ‘রমা’ বলে।

উত্তম-সুচিত্রা অভিনীত প্রায় ৩০ ছবির মধ্যে ‘অগ্নিপরীক্ষা’, ‘সবার উপরে’, ‘শাপমোচন’, ‘শিল্পী’, ‘পথে হলো দেরী’, ‘হারানো সুর’, ‘গৃহদাহ’ ও ‘সাগরিকা’ সিনেমাগুলো আজও মানুষের ‘প্রিয়’ ছবি। অখন্ড অবসরে তাই যে কেউ এগুলো দেখার লোভ সামলাতে পারেন না।

অভিনয় জীবনে তিনি শুধু জনপ্রিয়তা-ভালোবাসা নয়, পেয়েছেন দেশীয়-আন্তর্জাতিক নানা পুরষ্কারও। ১৯৭৮ সালে সর্বশেষ ‘প্রণয় পাশা’ ছবিতে চিরসবুজ-চিরতরুণ ও বাঙালির চিরদিনের এই স্বপ্ননায়িকাকে দেখা যায়। এরপর চলে যান লোকচক্ষুর অন্তরালে। যার অবসান হয় ২০১৪ সালের ১৭ জানুয়ারি কলকাতার বেলভিউ হাসপাতালে। ৮৩ বছর বয়সে সকলকে কাঁদিয়ে চলে যান না ফেরার দেশে। তবে মৃত্যুতেও শেষ হয়নি রহস্যময় সুচিত্রার গল্প। মহাপ্রয়াণের পরও সবার মনে তাঁর সেই বিস্মিত ভ্রু ভঙ্গি, মন ভোলানো হাসি সেলুলয়েডের পাতার মত ভাসে। হেসে-খেলে বেড়ায়। আহ্, সে কী মনোরম দৃশ্য। মনে পড়ে সঙ্গে তার বিখ্যাত উক্তি ‘ডোন্ট লুক অ্যাট মি, লুক অ্যাট মাই আইডিয়াস’।

পরনে ঢাকাই শাড়ি, কপালে সিঁদুর সাজের সেই সুচিত্রা সেন আজও রূপকথার গল্পের মতোই মিথ। মানুষের আকাঙ্খার কেন্দ্রবিন্দু। সর্বক্ষণ মনে হয়, তিনি আছেন। থাকবেনও। স্বর্গ-মর্ত্য নয়, বুকের এই বাম পাশটায়।

 

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ সরদার মোঃ শাহীন,
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ রফিকুল ইসলাম সুজন,
বার্তা সম্পাদকঃ ফোয়ারা ইয়াছমিন,
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ আবু মুসা,
সহঃ সম্পাদকঃ মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিসঃ ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২,
উত্তরা, ঢাকা,
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com