এই বাংলাদেশকে কেউ ঠেকাতে পারবে না

প্রকাশের সময় : 2020-01-29 14:57:50 | প্রকাশক : Administration
এই বাংলাদেশকে কেউ ঠেকাতে পারবে না

সবুজ ইউনুসঃ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা ডঃ তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বীরবিক্রম শুধু একজন মেধাবী কর্মকর্তাই ছিলেন না, তিনি ছিলেন সম্মুখ সমরের অসম সাহসী এক মুক্তিযোদ্ধা। সিএসপি কর্মকর্তা হিসেবে মুক্তিযুদ্ধ সংগঠনে যেভাবে ভূমিকা পালন করেছেন, একইভাবে অস্ত্র হাতে মাঠে-ময়দানে পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের এ দেশীয় দোসরদের  বিরুদ্ধে বীরত্বের সঙ্গে লড়াই করেছেন। এ জন্য তিনি অর্জন করেছেন বীরবিক্রম খেতাব।

তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, ইতিহাসে দেখা যায় প্রত্যেকের জীবনেই কিছু স্মরণীয় সময় আসে। এটা আমার একটি সৌভাগ্য। বাংলার ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ ঘটনা মুক্তিযুদ্ধের সময়ে সেই ভূমিকা পালনের সুযোগ এসেছিল। গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মরণ করে তিনি বলেন, যুদ্ধে আমিও মারা যেতে পারতাম। লাখ লাখ মানুষ শহীদ হয়েছেন। আমার অনেক সহকর্মী চোখের সামনে শহীদ হয়েছেন, কেউ পঙ্গু হয়েছেন। আমি ভাগ্যবান, এখনও বেঁচে আছি, সুস্থ-সবল আছি, জনগণের জন্য কাজ করে যেতে পারছি। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী ছিলেন মেহেরপুর মহকুমার (বর্তমানে জেলা) এসডিও বা সাব-ডিভিশনাল অফিসার। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলার গুরুত্ব সমধিক। স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের প্রথম শপথ অনুষ্ঠান এখানেই হয়। ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন ও সমন্বয়ে প্রধান ভূমিকা পালন করেন তখনকার এই তরুণ বিদ্রোহী সরকারি কর্মকর্তা।

১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলার আমবাগানে বাংলাদেশের যে সরকার শপথ নিয়েছিল, সেটি কখনও প্রবাসী বা অস্থায়ী সরকার ছিল না। এটিই স্থায়ী এবং স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম কনস্টিটিউশনাল (সাংবিধানিক) সরকার ছিল। এদিনই বাংলাদেশ আইনগতভাবে স্বাধীনতা অর্জন করে।' ঐতিহাসিক এ অনুষ্ঠানের সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখতে পেরে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করেন যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড থেকে পিএইচডি করা ডঃ তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বীরবিক্রম।

শপথ অনুষ্ঠানের জন্য বৈদ্যনাথতলা বেছে নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে তৌফিক-ই-ইলাহী বলেন, এই এলাকায় ছিল বিশাল আমবাগান। লোকজন ছিল খুবই কম। ওপর থেকে আক্রমণের আশঙ্কা কম ছিল। তার পরও কোনো আক্রমণ হলে মোকাবিলার সার্বিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। সেদিন এ অনুষ্ঠানে জাতীয় নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদসহ আমাদের নেতারা এসেছিলেন। স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র ও মন্ত্রীদের শপথ পাঠ করান জনপ্রতিনিধি সৈয়দ ইউসুফ। স্বাধীন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করা হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন করা হয় তাজউদ্দীন আহমদকে। স্মৃতিচারণ করে তিনি আরও বলেন, অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আমাকে বলেছিলেন, 'তুমিও ইতিহাসের অংশ হয়ে গেলে।'

ড. তৌফিক-ই-ইলাহী জানান, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ শোনার জন্য তিনি মেহেরপুর থেকে ঢাকা চলে আসেন। সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে তিনি জানতেন রেসকোর্স ময়দানে (সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) পাকিস্তানি গুপ্তচররা আছে। এ জন্য তিনি টিএসসির এক কোনায় নিজেকে কিছুটা লুকিয়ে রাখেন। সেখান থেকেই তিনি শোনেন বঙ্গবন্ধুর সেই আগুনঝরা ঐতিহাসিক ভাষণ। 'এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।' ২৫ মার্চ শেষ রাতের দিকে থানা থেকে খবর এলো। বলল, স্যার ঢাকায় রাজারবাগের পুলিশ লাইনে আক্রমণ করেছে পাকিস্তানি আর্মিরা। ট্যাঙ্ক নিয়ে নেমে গেছে। সবকিছু ধ্বংস করে ফেলছে ওরা। মাঝরাতেই আমি শহরের চৌরাস্তায় এক টেবিলের ওপর দাঁড়িয়ে ছাত্রদের সমাবেশে প্রকাশ্যে একাত্ম ঘোষণা করলাম। জয় বাংলা স্লোগান দিলাম।

স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রাথমিক পর্যায়ে সীমান্তে ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ প্রসঙ্গে তিনি জানান, ২৬ মার্চ ভোর বেলা আমি চিঠি লিখলাম ভারতের কাছে। একটি খোলা চিঠি। ভারতের কাছে আমরা সাহায্য চাইলাম- আমাদের অস্ত্র, গোলাবারুদ দিয়ে সাহায্য করার। তখন সীমান্তে বেশ চোরাকারবারি ছিল। তাদের ডেকে পাঠালাম। তাদের মাধ্যমে ভারত সীমান্তে সংবাদপত্র অফিসে ওই খোলা চিঠি পাঠালাম। পরের দিন দেখলাম, একটি খবরের কাগজের প্রথম পাতায় এ খবর ছেপেছে।

এ খবর ভারতের ডিএম (ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট) বিএসএফ (বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স) তাদের কাছেও গেল। তখন তারা আমাকে ডেকে পাঠাল। মেহেরপুরের বেতাই সীমান্ত দিয়ে ওপারে গেলাম। সেখানে দেখা হলো একজন লেফটেন্যান্ট কর্নেলের সঙ্গে। পুরো নাম মনে নেই। তবে নামের পর চক্রবর্তী ছিল, এবং একজন ডিএমের সঙ্গে। তারা আমাকে রিসিভ করে বললেন, তুমি বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রদূত। আমাকে গার্ড অব অনার দিল তারা। আমি অস্ত্র, গোলাবারুদ চাইলাম। বললাম, আমরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে পশ্চিম পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেমেছি। এরপর ওরা একটু সময় নিল। বলল, চেনখালি সীমান্তে দেখা করো। সেখানে কিছু গোলাবারুদ দিতে পারব।

ডঃ তৌফিক-ই-ইলাহী বীরবিক্রমের জন্ম ১৯৪৫ সালে সিলেটে। তিনি বরিশাল জিলা স্কুল থেকে ম্যাট্রিক, ঢাকা কলেজ থেকে আইএসসি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে অনার্স, পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে এমএ পাস করেন। এরপর তিনি যুক্তরাজ্যের লিডস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিপ্লোমা এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয় হার্ভার্ড থেকে পিএইচডি অর্জন করেন। তিনি যুক্তরাজ্যের ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিজিটিং ফেলো এবং হার্ভার্ডের টিচিং ফেলো। তৌফিক-ই-ইলাহীর স্ত্রী বেগম আসমা তৌফিক। তিনি কবি জসীমউদ্দীনের বড় মেয়ে।

কর্মজীবন শুরু হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি বিভাগের প্রভাষক হিসেবে। এরপর সিভিল সার্ভিস অব পাকিস্তান (সিএসপি) কর্মকর্তা হিসেবে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০২ সালে তিনি অবসরে যান। ২০০৯ সাল থেকে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিদ্যুত, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। - সমকাল

 

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ সরদার মোঃ শাহীন,
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ রফিকুল ইসলাম সুজন,
বার্তা সম্পাদকঃ ফোয়ারা ইয়াছমিন,
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ আবু মুসা,
সহঃ সম্পাদকঃ মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিসঃ ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২,
উত্তরা, ঢাকা,
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com