আধুনিক প্রযুক্তি সংবলিত ই-পাসপোর্ট চালু

প্রকাশের সময় : 2020-02-12 12:46:35 | প্রকাশক : Administration
আধুনিক প্রযুক্তি সংবলিত ই-পাসপোর্ট চালু

সিমেক ডেস্কঃ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে প্রথম দেশ হিসেবে বাংলাদেশে ই-পাসপোর্ট কর্মসূচী এবং স্বয়ংক্রিয় বর্ডার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার উদ্বোধন করে বলেছেন, এটা (ই-পাসপোর্ট) জাতির জন্য ‘মুজিববর্ষে’ একটি উপহার। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল। জাতির পিতার জন্মবার্ষিকী উদ্যাপনের এই বিশেষ বছরে আমরা জনগণের হাতে ই-পাসপোর্ট তুলে দিতে পারছি। যা নিঃসন্দেহে ডিজিটাল জগতে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করবে। বাংলাদেশ ধাপে ধাপে এগিয়ে যাচ্ছে, আরও এগিয়ে যাবে।

বিশ্বের ১১৯তম দেশ হিসেবে আধুনিক প্রযুক্তি সংবলিত ই-পাসপোর্ট চালু করল বাংলাদেশ। দক্ষিণের এশিয়ার মধ্যে প্রথম ই-পাসপোর্টের যুগে প্রবেশ করল বাংলাদেশ। এর মাধ্যমে যে কোন দেশে প্রবেশ এবং বহির্গমনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশী নাগরিকের ঝামেলামুক্ত চলাচল নিশ্চিত হবে এবং ই-গেটের সর্বাধিক সুবিধা গ্রহণ করা যাবে। ই-পাসপোর্ট এবং স্বয়ংক্রিয় বর্ডার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনা সন্দেহাতীতভাবে ডিজিটাল বিশ্বে বাংলাদেশের জনগণের মর্যাদা আরও সমুন্নত করবে এবং বাংলাদেশ আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে। দেশে একটা ডিজিটাল বিপ্লব সাধিত হয়েছে।

ই-পাসপোর্ট একটা বায়োমেট্রিক পাসপোর্ট। সেখানে একজন পাসপোর্ট যে গ্রহণ করবে তার ছবি, ফিঙ্গারপ্রিন্ট, চোখের কর্নিয়ার ছবি থাকবে। কাজেই সেখানে অতীতে যে একটা সমস্যা ছিল পাসপোর্ট নিয়ে, এক সময় গলাকাটা পাসপোর্ট প্রচলন ছিল আমাদের দেশে, সেটা আর কখনও হবে না। এখন আর মানুষ ধোঁকায় পড়বে না। এখন স্বচ্ছতার সঙ্গে চলবে।

ই-পাসপোর্ট প্রচলন করার ফলে ইমিগ্রেশন সুযোগ-সুবিধা আন্তর্জাতিক মানের হবে। প্রবাসীরা যখনই আসেন, তখনই শোনা যায় তারা নানারকম হয়রানির শিকার হয়। ভবিষ্যতে আর এই হয়রানির শিকার আর তারা কখনো হবেন না বা যারা বিদেশে যান তাদেরও কোন রকম হয়রানির শিকার হতে হবে না। ধাপে ধাপে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে।

এই পাসপোর্টের মাধ্যমে এক মিনিটেরও কম সময়ে ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করা যাবে। দুই বছর ধরে আসছে আসছে বলে যে আশার বাণী শুনছিল বাংলাদেশের মানুষ, সেই আশা অবশেষে পূরণ হয়েছে। এর মাধ্যমে একজন বিদেশগামী কারও সাহায্য ছাড়া নিজেই নিজের ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করতে পারবেন। পুরো প্রক্রিয়াটি এক মিনিটেরও কম সময়ে সম্পন্ন হবে। পৃথিবীতে এর চেয়ে নিরাপদ ও অত্যাধুনিক পাসপোর্ট এখন পর্যন্ত উদ্ভাবন হয়নি। বিশ্বের ১১৮টি দেশে এই পাসপোর্টের ব্যবহার রয়েছে।

ঢাকা শহরের বাসিন্দারা ই-পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে পারবেন। এদিন থেকে বাংলাদেশ ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদফতরের আগারগাঁও, যাত্রাবাড়ী ও উত্তরা কার্যালয়ে মিলবে ই-পাসপোর্ট সেবা। এটি একটি বায়োমেট্রিক পাসপোর্ট, যাতে একটি এমবেডেড ইলেকট্রনিক মাইক্রোপ্রসেসর (মোবাইলের মেমোরি কার্ডের মতো) চিপ থাকবে। মাইক্রোপ্রসেসর চিপে পাসপোর্টধারীর বায়োগ্রাফি ও বায়োমেট্রিক (ছবি, আঙ্গুলের ছাপ ও চোখের মণি) তথ্যসহ মোট ৩৮ ধরনের নিরাপত্তা ফিচার থাকবে।

চলমান মেশিন রিডেবল পাসপোর্টের (এমআরপি) মতোই হবে ই-পাসপোর্টের বই। তবে এমআরপির প্রথম দুই পাতায় পাসপোর্টধারীর তথ্য থাকলেও ই-পাসপোর্টের দ্বিতীয় পাতাটি থাকবে একটি পলিমারের তৈরি কার্ডের মতো (ডেবিট/ক্রেডিট/ এটিএম কার্ড-সদৃশ)। কার্ডে পাসপোর্ট বাহকের নাম, ঠিকানা, জন্ম তারিখসহ নানা মৌলিক তথ্য থাকবে। এছাড়া সেই কার্ডের ভেতরে একটি মাইক্রো চিপ থাকবে। যেখানে পাসপোর্ট বাহকের সব গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল তথ্য ও ডাটাবেজ সংরক্ষিত (অদৃশ্যমান) থাকবে। ডাটাবেজে থাকবে পাসপোর্টধারীর তিন ধরনের ছবি, ১০ আঙ্গুলের ছাপ ও চোখের আইরিশ।

এমআরপি দিয়ে ইমিগ্রেশন অফিসারের মাধ্যমে একজন যাত্রী খুব দ্রুত বন্দর পার হতে পারেন। তবে অত্যাধুনিক ই-পাসপোর্টের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, ভ্রমণকারীরা খুবই দ্রুত, সহজে এবং ই-গেটের মাধ্যমে নিজেই নিজের ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করে দেশের বাইরে যেতে পারবেন। ফলে বিভিন্ন বিমানবন্দরে তাদের ভিসা চেকিংয়ের জন্য লাইনে দাঁড়াতে হবে না। এর মাধ্যমে তাদের ইমিগ্রেশন দ্রুত হবে।

দেশের বিমানবন্দরে ইতোমধ্যে ই-গেট স্থাপন হয়েছে। ই-পাসপোর্টধারীরা নির্দিষ্ট স্থানে পাসপোর্ট পাঞ্চ করে ই-গেটের সামনে দাঁড়ালে সেখানে স্থাপিত ক্যামেরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাদের ছবি তুলে নেবে। এরপর ই-গেটের মনিটরে নিজের আঙ্গুলের ছাপ দিয়ে নিজেই নিজের ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করবেন। যদি পাসপোর্টধারীর বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা থাকে বা তার তথ্য ও ছবিতে মিল না থাকে তবে ই-গেটে লালবাতি জ্বলে উঠবে।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইতোমধ্যে তিনটি ই-পাসপোর্ট গেট বসানো হয়েছে। পাশাপাশি চট্টগ্রাম ও সিলেট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, বেনাপোল ও বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে আরও ৫০টি ই-গেট স্থাপন করা হবে। সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ এসব ই-গেট স্থাপন করলেও এগুলো পরিচালনা করবে ইমিগ্রেশন বিভাগ।

রাজধানীর উত্তরায় ই-পাসপোর্ট তৈরির কারখানা রয়েছে। এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ কিছু না বললেও অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, প্রথমে  ই-পাসপোর্ট উৎপাদনে কিছুটা ধীরগতি দেখা দিতে পারে। তবে জুন মাস থেকে সক্ষমতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে সারাদেশে ই-পাসপোর্ট কার্যক্রম শুরু হবে। ডিসেম্বর নাগাদ বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিরা এ পাসপোর্টের জন্য নিজ নিজ মিশনে আবেদন করতে পারবেন।

পাঁচ ও ১০ বছর মেয়াদী ই-পাসপোর্ট ইস্যু করা হবে। বাংলাদেশে আবেদনকারীদের জন্য ৪৮ পৃষ্ঠার পাঁচ বছর মেয়াদি সাধারণ ফি ৩,৫০০ টাকা, জরুরী ফি ৫,৫০০ ও অতীব জরুরী ফি ৭,৫০০ টাকা এবং ১০ বছর মেয়াদী সাধারণ ফি ৫,০০০ টাকা, জরুরী ফি ৭,০০০ ও অতীব জরুরী ফি ৯,০০০ টাকা। এছাড়া বাংলাদেশে আবেদনকারীদের জন্য ৬৪ পৃষ্ঠার পাঁচ বছর মেয়াদি সাধারণ ফি ৫,৫০০ টাকা, জরুরী ফি ৭,৫০০ ও অতীব জরুরী ফি ১০ হাজার ৫০০ টাকা এবং ১০ বছর মেয়াদী সাধারণ ফি ৭,০০০ টাকা, জরুরী ফি ৯,০০০ ও অতীব জরুরী ফি ১২,০০০ টাকা।

নতুন পাসপোর্টের ক্ষেত্রে অতীব জরুরী হলে তিনদিনে, জরুরী সাতদিনে এবং সাধারণ আবেদনের ক্ষেত্রে ২১ দিনে পাসপোর্ট পাওয়া যাবে। তবে পুরনো অথবা মেয়দোত্তীর্ণ পাসপোর্ট রি-ইস্যু করার ক্ষেত্রে অতীব জরুরী দুদিনে, জরুরী তিনদিনে এবং সাধারণ পাসপোর্ট সাতদিনের মধ্যে দেয়া হবে।

 

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ সরদার মোঃ শাহীন,
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ রফিকুল ইসলাম সুজন,
বার্তা সম্পাদকঃ ফোয়ারা ইয়াছমিন,
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ আবু মুসা,
সহঃ সম্পাদকঃ মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিসঃ ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২,
উত্তরা, ঢাকা,
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com