ও মা তোমার কোলে জনম আমার, মরণ তোমার বুকে...

প্রকাশের সময় : 2020-02-12 12:50:44 | প্রকাশক : Administration
ও মা তোমার কোলে জনম আমার, মরণ তোমার বুকে...

ইঞ্জিঃ সরদার মোঃ শাহীনঃ অসাধারণ গান!! আমি মুগ্ধ হই বারবার; যতবার আনমনে শুনি ঠিক ততবার! হৃদয় ছুঁয়ে যায়! বলতে পারেন হৃদয়ের মাঝখানে, যেখানে ভালবাসার উৎপত্তি, ঠিক তার কেন্দ্রবিন্দু ছুঁয়ে যায়। দরদভরা কণ্ঠে, বাংলার অপূর্ব চিত্রায়নে আমি বিমোহিত হই। যেন বারবার ফিরে আসি বাংলা মায়ের কোলে। কিছু গান আছে যা ভিতর থেকে দেশপ্রেম জাগ্রত করে। কিছু গান মানুষকে মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব হওয়ার গুণগুলো ফিরিয়ে দেয়।

আজকের শিরোনামটি তেমনই একটি গান থেকে নেয়া। দরদভরা এই গানটি শুনলে শরীর রোমাঞ্চিত হয় আমার। কাঁটা দিয়ে ওঠে! গায়ের লোমগুলো একসাথে দাঁড়িয়ে যায়। মনে করিয়ে দেয় ভালবাসার এই দেশটাকে। ভালোবাসি এই দেশ, দেশের মাটি। চোখে পানি চলে আসে। ভালো লাগে, খুব ভাল। দেশের প্রতি ভালবাসাটা এই গানটি শুনতে গেলেই বোঝা যায়। অন্ধকার ঘরে একা একা বসে চোখ বন্ধ করে একমনে শুনলে যেন এক অজানা জগৎ হাতছানি দিয়ে ডেকে নিয়ে যায় অন্য কোথাও। যদি মানুষ এই গানটি মন দিয়ে শুনতো দিনে অন্তত একবার হলেও, তাহলে হয়ত বদলে যেত দেশ; আমার সাধের বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীতের পরে আমার সবচেয়ে প্রিয় গান এটি। দেশ বন্দনার জন্য এর থেকে ভালো আর কোন গান হতে পারে বলে আমার মনে হয় না। আমি ধন্য এই দেশ তথা বাংলায় জন্মে। অথচ সারাদিন মনে হয় এটা কেমন দেশ! এতো এতো অপরাধ, এতো অনুন্নত; এতো কুসংস্কার, এতো এতো এতো না পাওয়া। তারপরেও যখন মন দিয়ে দেশের গানগুলো শুনি, তখন শুধুই দেশ আর দেশের সৌন্দর্য চোখে ভাসে। কি অপূর্ব সুন্দর অপরূপ প্রকৃতি আমার চতুর্দিকে।

এই রূপে মুগ্ধ হয়েই হয়ত বাংলা মা তথা দেশকে ভালবেসে, দেশের ভাষাকে ভালবেসে এ মাসেই জীবন দিয়েছিলেন ভাষা শহীদ রফিক, শফিক, জব্বার, বরকতেরা। ভাষার মাস ফেব্রুয়ারী। শোকের মাস; শোককে শক্তিতে পরিণত করার মাস। এ মাসের একুশ; রাজপথকে রক্তাক্ত করে ভাষার অধিকার ছিনিয়ে এনেছিল সেদিন। গুলির সামনে থেকেও গুলিকে তোয়াক্কা করেননি তাঁরা। এগিয়ে গেছেন। এগিয়ে গেছেন পাক পুলিশের তাক করা গুলিভর্তি বন্দুকের নলের দিকে।

শহীদদের প্রতি প্রচন্ড রকমের শ্রদ্ধা মনে ধারন করে প্রতিবছর আমার শোনিমকে নিয়ে আমিও এগিয়ে যাই শহীদ মিনারের বেদীর দিকে। একুশের গানটি গাইতে গাইতেই যাই। কী যে এক শিহরণ কাজ করে মনে! তবে মধ্যরাতে যাই বলে ভোরের প্রভাতফেরীর আবেশটা পাই না। তবুও যাই। কার মাথার অদ্ভুত বুদ্ধিতে ভোরের আলোয় শ্রদ্ধাঞ্জলী দেয়ার ভাবনাটা পাল্টে মধ্যরাতে এলো জানি না। শুরুতে একুশ উদ্যাপন মানেই ছিল প্রভাত ফেরী। খালি পায়ে শহীদ মিনারে যাওয়া। খালি পায়ে বেদীতে শ্রদ্ধাঞ্জলী দেয়া।

সব বদলে গেল! এখন খালি পায়ে নয়, জুতা পায়ে অনেকেই বেদীতে যায়। অহরহ যায়। শোকের প্রতীক হিসেবে সাদা আর কালো কাপড় পরে যায় না। ইচ্ছেমত সেজেগুজে যায়। যেন বেদীতে নয়, রিসোর্টে এসেছে বেড়াতে। মনে ভীষন ফূর্তি। এদিক ওদিক মুখ করে নানা ভঙিমায় ফটো সেশন করে। সিঙেল ফটো, গ্রুপ ফটো। হাসি তামাশার ফটো। একবার ফুল হাতে নিয়ে তোলে; একবার বেদীতে রেখে।।

এসব নিয়ে যেমনি ভাবা দরকার, তেমনি দরকার মধ্যরাতে শ্রদ্ধাঞ্জলী দেবার বিষয়টিও। যদি মিরপুর বুদ্ধিজীবি সৌধে কিংবা সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে ভোরের বেলায় শ্রদ্ধাঞ্জলী দেয়া যায়, তাহলে শহীদ বেদীতে মধ্যরাতের প্রথম প্রহরে কেন? এখানে তো নিরাপত্তার বিষয়টি সিরিয়াসলি জড়িত। বুঝলাম শহর এলাকায় নিরাপত্তার বিষয়টি কোনভাবে ম্যানেজ করা যায়। কিন্তু শহরের বাইরের কী হবে? গাঁওগেরামের মেয়েছেলেরা কি পারবে রাতবিরাতে ঘর থেকে বের হতে? নাকি অভিভাবকগণ দেবেন বের হতে? নাকি দেয়া উচিত?

উচিত অনুচিত নিয়ে কথা বললে অনেকের গায়েই লাগে। গত কিছুদিন ধরে নানা বিষয় নিয়ে যুক্তিনির্ভর কয়েকটা লেখা লিখেছি। লিখেছি ফেসবুক এর অপকারীতা নিয়ে। ফেসবুক তার ব্যবহারকারীদের কিভাবে তিলে তিলে ধ্বংস করে দিচ্ছে সেটা লিখেছি। লিখেছি মন্ত্রীদের নিয়ে। যে সমস্ত মন্ত্রীদের অদক্ষতায় নিত্যপণ্যের মূল্য নিয়ে জাতি তথা রাষ্ট্র বেকায়দায় তা নিয়ে লিখেছি। আর শুনেছি নেতিবাচক কথা। যার গায়ে লেগেছে সেই নেতিবাচক কথা  শুনিয়েছে। মোটামুটিভাবে সবাই একটা মেসেজই দিয়েছে; আতেলগিরী ছাড়েন

আতেল আমি হবো কেন? আমি ছাপোষা মানুষ। আতেল যদি বলতেই হয়, টকশোওয়ালাদের বলেন। ওইখানে সবাই আতেল। আতেলের ডিব্বা। ছোট আতেল, মাঝারি আতেল, বড় আতেল; আতেলের ছড়াছড়ি। শেখ হাসিনা যদি বাংলাদেশে প্রাইভেট চ্যানেলের অনুমতি না দিতেন তাহলে এত আতেল দেশে গজাতো কিনা সন্দেহ। দিনভর এইসব আতেলগণ নাক ডেকে ঘুমান আর রাতভর বকবক করতেই থাকেন। তারা সব বিষয়ের সবজান্তা। তারা ভার্চুয়াল আতেল।

এমনি আতেল মাঠে ময়দানেও আছে। তারা হামভরা ধরণের আগ্রসী আতেল। এমনই একজন এম হুমায়ুন মাহমুদ। মুদি দোকানিকে বকা-ঝকা করা কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। দোকানির সঙ্গে বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে তেড়ে গিয়ে তাকে অশ্রাব্য ভাষায় গালাগালি করেন। এবং সাধারণ সম্পাদক না হয়েও নিজেকে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলে প্রকাশ্যে দাবী করেন। তিনি বলেন, আমি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। খাইয়া ফালামু একেবারে; বাইরাইয়া এক্কেবারে সোজা কইরা দিমু।

আরো একজন তারকা মার্কা আতেল উদিত হয়েছেন বাংলার আকাশে। এমন কোন বিষয় নেই, জায়গা নেই যা নিয়ে তিনি কথা বলেন না। কথা বলেন ঢাবি নিয়ে, জাবি নিয়ে। কথাও বলেন সব বিষয়ে, যানও সব জায়গায়। নেভাতে নয়, বনানীর আগুন লাগা টাওয়ারে ছবি তুলতে গেলেন এবং বিতর্কিত হলেন। গেলেন বুয়েটেও। মেধাবী আবরারের জন্যে গেলেন। নেভাতে নয়, আন্দোলন জ্বালাতে। তবে রেসিডেন্সিয়াল মডেলে যাননি। না নেভানোর জন্যে, না জ্বালানোর জন্যে।

ওখানেও তো নির্মমভাবে মারা গেল ছোট্ট আবরার! রেসিডেন্সিয়ালের আবরারের জন্যে কোন মায়া কান্না কাঁদেননি তিনি। কেন কাঁদেননি এটা কোটি টাকার প্রশ্ন। বাস দূর্ঘটনায় ছাত্র মারা গেলে যেতে পারেন, বিদ্যুৎ দূর্ঘটনায় মারা গেলে যেতে পারেন না। যাবার প্রয়োজনই অনুভব করেন না। যাবেনই যদি, সব জায়গায় যান।  কোথায়ও যাবেন আবার কোথায়ও যাবেন না, এটা তো রহস্যজনক। হালের ফোনালাপও রহস্যজনক। আত্মপক্ষ সমর্থনের নামে পরবর্তীতে নিজের সাফাই গেয়ে তিনি যত গাইগুইই করুন, গায়েমাখা কাঁদা তিনি পুরোপুরি ছাড়াতে পারেননি।

নিজের জায়গা রেখে সব জায়গায় ঢু মারলে এমনই হয়। অসাবধানে গায়ে কাঁদা মাখে। রাজনীতিতে সাবধানে থাকতে হয়। তাড়াহুড়া করতে হয় না। সময় দিতে হয়। কোন ছাত্রনেতার জাতীয় নেতা হয়ে উঠতে সময় লাগে। বেশ সময় লাগে। তিনি সময় দেননি। তাড়াহুড়া করে শর্টকাটে জাতীয় নেতা হতে চেয়েছেন। এত তাড়াহুড়া, এত শর্টকাটে কি হয়? অবশ্য এসবে তার ভুল থাকতে পারে; দোষ নেই। দোষ তাদের, যারা তার মাঝে সরকার বিরোধী প্রধান নেতার আভা দেখেছিলেন। এবং দেখেছিলেন বঙ্গবন্ধুর ছায়াও।

তাকে পেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অকুতোভয় অধ্যাপক আনন্দের আতিশয্যে লিখেই ফেলেছিলেন, নিরাশার মাঝে আশার আলো নিয়ে এসেছেন ছেলেটি। আমি তার মাঝে বঙ্গবন্ধুর ছায়া দেখতে পাচ্ছি। লেখাটা পড়ে আমি আঁৎকে উঠেছিলাম। বঙ্গবন্ধু পরবর্তী বাংলাদেশে এই প্রথম কারো একজনের মাঝে কেউ একজন বঙ্গবন্ধুর ছায়া দেখলেন। একটু বাড়াবাড়ি হয়ে গেল না! বঙ্গবন্ধুর ছায়া হওয়া কি এতই সোজা?

চারিদিকে এত সুযোগ আর অফারের মধ্যে থেকে বর্তমান রাজনীতিকদের ছায়া হওয়া যায় হয়তো। কিন্তু কোনভাবেই বঙ্গবন্ধুর ছায়া হওয়া যায় না। হতে হলে লাগে চরম ত্যাগ আর পরম তিতিক্ষা। আর লাগে সত্যিকারের দেশপ্রেম। যে প্রেমের ছিটেফোঁটা গায়ে মাখিয়ে বারবার দেশে ফিরে আসি। জীবনের সব অর্জন দেশে পাঠাই।

তারপরও দেশে গেলে প্রায়ই শুনি প্রবাসীদের দেশপ্রেম নেই। থাকলে বিদেশে থাকতো না। কী অকাঠ্য যুক্তি! ওদের যুক্তি খন্ডানোর সময় কোথায়! জীবনটাই তো শেষের দিকে। ক্ষুদ্র এই জীবনের অর্ধেকটা সময় প্রবাসে আছি। দেশের গান, একুশের অমর গান শুনে শুনে প্রবাসেই কাটছে জীবন। সুখের জীবন, দুঃখের জীবন।

একদিন এই জীবন থাকবে না। চিরন্তন সত্য মৃত্যুকে আলিঙ্গন করবে। মৃত্যুই সত্য; চিরন্তন সত্য। সত্য বলেই পরম করুনাময়ের কাছে সর্বদা প্রার্থনা; যেন শেষ ঘুমটা বাংলার মাটিতে ঘুমাতে পারি। এতো ঝুট ঝামেলা টানাটানির দেশ; তারপরও এক চিমটি কমেনি দেশের প্রতি ভালোবাসা। সত্যি অনেক ভালোবাসি জননী জন্মভূমি আমার সোনার বাংলা!!!

 

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ সরদার মোঃ শাহীন,
বার্তা সম্পাদকঃ ফোয়ারা ইয়াছমিন,
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ আবু মুসা,
সহঃ সম্পাদকঃ মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিসঃ ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২,
উত্তরা, ঢাকা,
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com