সিমেক ফাউন্ডেশনের কিছু কথা

প্রকাশের সময় : 2020-02-12 13:01:51 | প্রকাশক : Administration
সিমেক ফাউন্ডেশনের কিছু কথা

শামছুজ্জামান শিবলীঃ প্রতিটি মানুষের জীবনে স্মরণীয় হয়ে থাকে কিছু মূহুর্ত, কিছু ঘটনা কিংবা একটি দিন । তেমনি একটি দিনের কথা খুব মনে পড়ে। দিনটি ৮ই ফেব্রুয়ারী, ২০১৪। সময় সকাল ৮ ঘটিকা। ইঞ্জিঃ সরদার মোঃ শাহীন ভাইয়ের উত্তরার শিন-শিন জাপান হাসপাতালের অফিস কক্ষে আয়োজন করা হয় ফাউন্ডেশনের প্রথম মিটিং। 

এই মিটিংয়ে যোগ দেন রাষ্ট্রীয় পদকপ্রাপ্ত বিশিষ্ট মৎস্য ব্যবসায়ী মোঃ আজিম উদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আঃ লতিফ, ধলা আইডিয়াল কিন্ডার গার্টেনের প্রধান শিক্ষক এবিএম সিদ্দিক, বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী মোঃ ওমর ফারুক, গার্মেন্টস ব্যবসায়ী মোঃ মহসিন, সমাজ সেবক শ্রী শংকর কুমার দে, মোঃ সাইফুল ইসলাম এবং মোঃ সানী। আমারও সৌভাগ্য হয়েছিল সেই প্রথম মিটিং এ যোগ দেওয়ার। উক্ত মিটিং এ সভাপতিত্ত্ব করেন ইঞ্জিঃ সরদার মোঃ শাহীন।

মিটিং এর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ধলা এবং এর আশে পাশের এলাকায় কিছু সেবামূলক কাজ করার জন্য গঠিত হয় “সিমেক ফাউন্ডেশন” নামক আজকের এই প্রতিষ্ঠান। সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত হয় বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে পরিচালিত হবে এর কার্যক্রম। এতদোদ্দেশ্যে ধলা বাজারে ভাড়া নেওয়া হয় দুই কক্ষবিশিষ্ঠ একটি অফিস। তবে শুরুতে ফাউন্ডেশনের পথ চলাটা ততো মসৃণ ছিলনা। তবে শত চড়াই উৎরাই পার করে আজ সফল ভাবে এগিয়ে চলছে সিমেক ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম; যার কয়েকটি নিম্নে উল্লেখ করা হলোঃ-

সাহিয়া-মজিদ শিক্ষা বৃত্তি প্রকল্পঃ ১ম বছর ৮টি স্কুলে চালু করা হয় ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতার  বাবা-মায়ের নামে সাহিয়া-মজিদ শিক্ষা বৃত্তি প্রকল্প। ব্যাপক সমাদৃত হয় এই প্রকল্পটি। আস্তে আস্তে বাড়তে থাকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা। ২০১৯ সালে এই শিক্ষাবৃত্তি বেড়ে দাঁড়ায় ২৭টি প্রতিষ্ঠানে। মূলত গরীব অথচ মেধাবী শিক্ষার্থীদের আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে চালু করা হয় এই প্রকল্প। শিক্ষা বঞ্চিত গ্রাম বাংলাকে আলোকিত করে শিক্ষিত বাঙ্গালীদের নিয়ে একটি আধুনিক সোনার বাংলা গড়াই এই প্রকল্পের অন্যতম মূল উদ্দেশ্য। 

কম্পিউটার প্রশিক্ষণ প্রকল্পঃ ডিজিটাল বাংলাদেশ খুব পরিচিত একটি শব্দ; অতীব প্রয়োজনীয় একটি শব্দ। শব্দটা চালুর শুরুতে কিছু কিছু মানুষ এটাকে নিয়ে হাসি মশকরা করতো। ব্যঙ্গ করতো। আর এখন গর্ব করে। সত্যিই গর্ব করার মতই বিশাল একটি ব্যাপার। শুরুর দিকে মানুষ বুঝতে পারেনি শব্দটার ব্যাপকতার বিশালতা। কিন্তু আজ শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত মানুষেরা এর সুফল উপভোগ করছে। কাজের পরিধি  বিবেচনা করে কম্পিউটার শিক্ষা এখন সকলের জন্যই বাধ্যতামূলক হওয়া দরকার। কিন্তু ব্যয় বহুল এই শিক্ষা গ্রহণের ব্যয়ভার বাংলাদেশের সব মানুষের পক্ষে বহন করা অসম্ভব।

সিমেক ফাউন্ডেশন খুবই সচেতনতার সাথে সচেষ্ট হয়েছে গ্রামীন জনপদকে কম্পিউটার শিক্ষায় শিক্ষিত করতে। গরীব অথচ আগ্রহী মানুষদের কম্পিউটার শিক্ষায় সহায়তা করতে চালু করা হয় আবুল কালাম মন্ডল কম্পিউটার প্রশিক্ষণ প্রকল্প। শিক্ষার্থীরা এখানে বিনামূল্যে প্রশিক্ষন গ্রহনের সুযোগ পাবে এবং তৈরী হবে তাদের উজ্জল   ভবিষ্যতের জন্য কর্ম সংস্থানের সুযোগ। একজন কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারের স্বেচ্ছাশ্রম ও সঠিক তত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে প্রকল্পটি। এই কর্মসূচীতে চার মাসের প্রশিক্ষন কোর্সে শিক্ষা নিতে পারছে ৬৪ জন শিক্ষার্থী। এভাবে প্রতি বছর প্রশিক্ষন নিচ্ছে ১৯২ জন্য শিক্ষার্থী।

আফছানা খানম সেলাই প্রশিক্ষণ প্রকল্পঃ সিমেক ফাউন্ডেশন এর লক্ষই হচ্ছে গ্রামীণ জনপদের মানুষের মুখে হাসি ফোঁটানো। ফাউন্ডেশন বিশ্বাস করে কাউকে দান করার চেয়ে স্বাবলম্বী করা হলো মহৎ কাজ। নারীদের অর্থ সামাজিক উন্নয়নের জন্য হাতে কলমে প্রশিক্ষণের কোন বিকল্প নেই। সেই প্রেরণা নিয়ে মানুষের কল্যাণে নারীদের প্রশিক্ষণের জন্য চালু করা হয়েছে এই প্রকল্প। পরিবারের একজন স্বাবলম্বী হলে পুরো  পরিবার স্বাবলম্বী হয়, একটি অঞ্চল স্বাবলম্বী হলে পুরো দেশ স্বাবলম্বী হয়। নারীদের পিছনে ফেলে দেশ স্বাবলম্বী হয় না। সিমেক  ফাউন্ডেশন মনে করে প্রশিক্ষিত নারীরা যার যার অবস্থান থেকে সামান্য হলেও পরিবারের দারিদ্রতা লাগবে সক্ষম হবে। সমাজের সর্বস্তরের আগ্রহী নারীদেরকে হাতে কলমে চারমাসের এই প্রশিক্ষন দেয়া হচ্ছে। যেন তারা প্রশিক্ষন শেষে আত্ম কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারে এবং তার দক্ষতা ও কর্ম প্রচেষ্টার দ্বারা সমাজে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে।

শোনিম শাহীন কমিউনিটি ক্লিনিক প্রকল্পঃ সুবিধা বঞ্চিত রোগীদের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে মানুষের দোড়গোড়ায় আধুনিক চিকিৎসা সেবা দেওয়ার লক্ষে পেশায় অভিজ্ঞ এবং বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের তত্বাবধানে শোনিম শাহীন কমিউনিটি ক্লিনিক প্রকল্প চালু এখন সময়ের অপেক্ষা মাত্র। এলাকায় এই সেবা চালু হলে সাধারন রোগীর পাশাপাশি গর্ভবতী মা, শিশু সহ উপকৃত হবে সর্বস্তরের মানুষ।

জন সচেতনতামূলক প্রকল্পঃ জন্মসূত্রে পিছিয়ে থাকা এক দূর্ভাগা জাতি আমরা। জাতি হিসেবে আমরা সুবিধা বঞ্চিত, কিংবা পশ্চাৎপদ; এর সবচেয়ে বড় কারণ প্রকৃত অর্থে সামাজিক শিক্ষার প্রসার ঘটেনি আমাদের মাঝে। একাডেমিক শিক্ষার মান উন্নয়ন কিংবা আধুনিকায়ন হয়েছে বা হচ্ছে সন্তোষজনক ভাবেই; কিন্তু সামাজিক শিক্ষা বলতে যা বুঝায় তার বাস্তবায়ন এখনো অনেক সময়ের ব্যাপার।

সামাজিক জ্ঞান অর্জন খুবই প্রয়োজনীয় একটি বিষয়। সামাজিক জীব হিসেবে সমাজবদ্ধ হয়ে সুস্থ দেহে এবং সুস্থ মনে সুন্দরভাবে মিলেমিশে বসবাসের জন্যে সবচেয়ে প্রয়োজন সামাজিক শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়া। সবাইকে নিজের মানবাধিকার সম্মন্ধে সচেতন হতে হবে, তেমনি নিজের অধিকারের গন্ডী যেন অন্যের অধিকারের সীমানা ছাড়িয়ে না যায় সে বিষয়ে সর্তক থাকাও জরুরী।

সামাজিক শিক্ষায় জাতিকে শিক্ষিত করার জন্যে বাংলাদেশের শিক্ষা কারিক্যুলামে তেমন কিছু   বিষয় আজো সন্নিবেশিত হয়নি। ফলে জাতি সর্বদা বঞ্চিত হচ্ছে সামাজিক জ্ঞান অর্জন থেকে। তাই সামাজিক আন্দোলনের অংশ হিসেবে মানুষকে সামাজিক জ্ঞান প্রদানের লক্ষ্যে জন    সচেতনতামূলক প্রোগ্রামের নানাবিধ কর্মসূচী হাতে নিয়েছে সিমেক ফাউন্ডেশন। কর্মসূচীর অংশ হিসাবে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব প্রকাশনা “সাপ্তাহিক সিমেক” সমাজের সকল স্তরের মানুষের মাঝে বিনামূল্যে নিয়মিতভাবে বিতরণ করা হচ্ছে।

সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সম্পৃক্ত করে নিয়মিত জাতীয় দিবস উৎযাপন, র‌্যালি, আলোচনা অনুষ্ঠান, সভা-সেমিনার, প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম, কাউন্সেলিং, পাবলিক মোটিভেশন প্রোগ্রাম এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতা অভিযানের মাধ্যমে সামাজিক এই আন্দোলনকে আমরা সবাই মিলে বেগবান করছি।  

ইতোমধ্যে ফাউন্ডেশনের স্থায়ী স্থাপনার জন্য দক্ষিণ বালিপাড়ার সিমেক পল্লীতে জমি ক্রয় করা হয়েছে। যেখানে দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে কনস্ট্রাকশনের কাজ। আরও কয়েকটি প্রকল্পের কাজ চলছে বেশ জোরেসোরে। পরিশেষে বলব; আসুন সবাই একসাথে মিলে এলাকার সাধারণ মানুষের সামান্যতম হলেও উন্নয়নের স্বার্থে সিমেক ফাউন্ডেশন এর কাজের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম আরও প্রসারিত করতে সহায়তা করি।

 

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ সরদার মোঃ শাহীন,
বার্তা সম্পাদকঃ ফোয়ারা ইয়াছমিন,
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ আবু মুসা,
সহঃ সম্পাদকঃ মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিসঃ ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২,
উত্তরা, ঢাকা,
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com