একই দিনে হবে বসন্তবরণ আর ভালবাসা দিবস

প্রকাশের সময় : 2020-02-26 10:40:17 | প্রকাশক : Administration
একই দিনে হবে বসন্তবরণ আর ভালবাসা দিবস

বাঙালীর বসন্ত। পাশ্চাত্য সংস্কৃতির ভালবাসা দিবস। দুটো এবার একই দিনে উদ্যাপিত হলো। দেশে প্রথমবারের মতো ঘটেছে এমন ঘটনা। শুধু এবার নয়, বাংলা বর্ষপঞ্জির হিসাব বদলে যাওয়ায় ভবিষ্যতে এ নিয়মেই দিবস দুটি উদ্যাপিত হবে। ‘একটুকু ছোঁওয়া লাগে, একটুকু কথা শুনি-/তাই দিয়ে মনে মনে রচি মম ফাল্গুনী...।’ ভালবাসা দিবসে এভাবে রচিত হলো এবারের ফাল্গুন। 

এতকাল পহেলা ফাল্গুনের দিনটি ছিল বাসন্তী রঙের। হলুদে ছেয়ে থাকত। আর ভ্যালেন্টাইনস ডে বা ভালবাসা দিবসের রং বরাবরই লাল। অবশ্য বসন্ত উৎসব এবং ভালবাসা দিবসের পোশাকী রঙে পার্থক্য থাকলেও, মূল জায়গায় মিল আছে। দুটোই প্রেমের বোধকে জাগিয়ে দেয়। মনকে ভালবাসার জন্য তৃষ্ণার্থ করে তুলে। বসন্তের ফুলে ভরা বাগানের দিকে তাকিয়ে হয়তো তাই কবিগুরুকে বলতে হয়: ফুলের বনে যার পাশে যাই তারেই লাগে ভাল...। গত বছর পর্যন্ত ১ ফাল্গুন মানে ছিল ১৩ ফেব্রুয়ারি। সে অনুযায়ী, ১৩ ফেব্র“য়ারি বসন্ত দিবস হিসেবে উদ্যাপিত হতো। পরদিন ১৪ ফেব্রুয়ারি সবাই মাততো ভালবাসা দিবসের আনুষ্ঠানিকতায়। এভাবে প্রথম দিন বাসন্তী রং, পরের দিন আমূল বদলে রংটি হয়ে যেত লাল। পরপর দুদিন উৎসবে মাততো ঢাকা। এবার হিসাব নিকাশ বদলে গেছে। বাংলা বর্ষপঞ্জিতে পরিবর্তন আনার ফলে ১৪ ফেব্রুয়ারি ফাল্গুনের দিন গোনা শুরু হয়েছে। খ্রীস্টীয় সন গণনায় যেহেতু কোন পরিবর্তন নেই সেহেতু ভালবাসা দিবস থেকেছে আগের মতোই। ফলে ১৪ ফেব্রুয়ারি ভালাবাসা দিবস হিসেবে যথারীতি উদ্যাপিত হয়েছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে বসন্ত উৎসব। যেদিন বসন্ত উৎসব, সেদিনই ভালবাসার বিশেষ দিবস ভ্যালেন্টাইনস ডে।

বসন্তের কথাটি আগে বলে নেয়া যাক। স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের ছয়টি ঋতুর অধিকারী বাংলাদেশ। বসন্তকে এগুলোর মধ্যে সেরা জ্ঞান করা হয়। বলা হয়, ঋতুরাজ। শীতে প্রকৃতি বেশ রুক্ষ থাকে। পাতা হারাতে থাকে বৃক্ষ। জলের অভাবে ভূমিভাগ শুকিয়ে যায়। ধুলো ওড়তে থাকে বাতাসে। এ অবস্থায় নতুন প্রাণের সঞ্চার করতেই যেন বসন্ত আসে। এবারও ব্যতিক্রম হয়নি। ফাল্গুনের প্রথম দিন ঋতুরাজকে বরণ করে নেয় বাঙালী। এটি শতভাগ বাঙালী সংস্কৃতির উৎসব। এ সময় বনে যেমন পরিবর্তন আসে, তেমনি বদলে যেতে থাকে মানুষের মন। ভেতরে এক ধরনের শিহরণ জাগে। পুলক অনুভূত হয়।

পহেলা ফাল্গুনে বাঙালী নারী বাসন্তী রঙের শাড়ি পড়ে ঘর থেকে বের হয়। কাঁচা রঙিন ফুল দিয়ে খোঁপা সাজায়। গলায় বা হাতে প্যাঁচিয়ে নেয় গাঁদার মালা। অনেকে আবার কাঁচা ফুলে তৈরি ক্রাউন মাথায় দিয়ে রাজকুমারীর মতো হেঁটে বেড়ান। পুরুষরাও এদিন একই রঙের পাঞ্জাবি পড়েন। অবশ্য শুধু নারী পুরুষ নয়, সব বয়সী মানুষ বসন্তের দিনে কাঁচা হলুদ রংটিকে বেছে নেন। শহর ঢাকায় এদিন আর কোন রং, বলা চলে, দেখাই যায় না। শহর ঢাকা বাসন্তী রঙে ঢাকা পড়ে। পহেলা ফাল্গুনের এটি চিরচেনা ছবি।

অন্যদিকে ভ্যালেন্টাইনস ডে বা ভালবাসা দিবস পাশ্চাত্য সংস্কৃতি থেকে এসেছে। পাশ্চাত্যের হলেও, ভালবাসা তো ভালবাসাই, একে আশ্চাত্য পাশ্চাত্য বলে ভাগ করা চলে না। তাই বাঙালীও ভীষণ লুফে নিয়েছে। এখন ঘটা করেই উদ্যাপিত হয় ভ্যালেন্টাইনস ডে। এ দিবসের শুরুটা হয়েছিল প্রাচীন রোমে। রোমের ধর্মযাজক সেন্ট ভ্যালেন্টাইনের আত্মত্যাগের দিনটি ছিল ২৬৯ খ্রীস্টাব্দের ১৪ ফেব্রুয়ারি। কালের ধারাবাহিকতায় এই ১৪ ফেব্রুয়ারি ভ্যালেন্টাইন ডে হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এদিন সবাই লাল রঙে সেজে বাসা থেকে বের হন। বিশেষ করে উচ্ছ্বল তরুণ-তরুণীরা লাল শাড়ি ও একই রঙের পাঞ্জাবি পরিধান করেন। বাংলাদেশের প্রেমিক-প্রেমিকারাও দিনটির জন্য গোপনে অপেক্ষা করে থাকেন। ভালবাসা দিবসে পরস্পরের হাত ধরে অজানায় হারিয়ে যেতে চান। একে অন্যকে গ্রিটিংস কার্ড ফুল চকোলেটসহ নানা উপহার দেন।

ভাললাগা ভালবাসার সৌরভ ছড়ানো নয় শুধু, ভালবাসা দিবসের মতো মিলনের লগ্ন নিয়ে আসে বসন্ত। এমন লগ্নে প্রিয়জনের কাছে দেহ-মন সঁপে দিতে যেন বাধা নেই কোন। ভীরু প্রাণে তাই বেজে ওঠে: মধুর বসন্ত এসেছে মধুর মিলন ঘটাতে/মধুর মলয়সমীরে মধুর মিলন রটাতে...। বলার অপেক্ষা রাখে না, একই বাণী প্রচার করে ভ্যালেন্টাইনস ডে। ফলে পাশ্চাত্য সংস্কৃতির ভালবাসা দিবস এবং বাঙালীর বসন্ত মিলে মিশে একাকার হয়ে যায় এবার। এই মিলে মিশে যাওয়ার ফলে একদিনের উৎসব কাটা পড়ল বটে, আনন্দ তাতে কমেনি। ভবিষ্যতেও কমবে না বলেই আশা করছে সবাই। - সৌজন্যেঃ মোরসালিন মিজান, জনকন্ঠ

 

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ সরদার মোঃ শাহীন,
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ রফিকুল ইসলাম সুজন,
বার্তা সম্পাদকঃ ফোয়ারা ইয়াছমিন,
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ আবু মুসা,
সহঃ সম্পাদকঃ মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিসঃ ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২,
উত্তরা, ঢাকা,
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com