আন্তর্জাতিক মানের ১০ লেনের এক্সপ্রেসওয়ে

প্রকাশের সময় : 2020-03-11 11:04:24 | প্রকাশক : Administration
আন্তর্জাতিক মানের ১০ লেনের এক্সপ্রেসওয়ে

রাজন ভট্টাচার্যঃ দেশে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক মানের ১০ লেনের সর্বাধুনিক এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চার লেনের জয়দেবপুর - ময়মনসিংহ পর্যন্ত ৮৭ দশমিক ১৮ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটি এক্সপ্রেসওয়েতে উন্নীত করে ১০ লেনে করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

সরকারী-বেসরকারী অংশীদারিত্বের (পিপিপি) মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে চায় মন্ত্রণালয়। ইতোমধ্যে প্রকল্পে অর্থায়নে আগ্রহ প্রকাশ করেছে সড়ক নির্মাণে দক্ষ দেশ হিসেবে পরিচিত দক্ষিণ কোরিয়া। প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে সর্বোচ্চ দেড় ঘণ্টার মধ্যে ঢাকা থেকে ময়মনসিংহ পৌঁছানো সম্ভব হবে।

বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের মধ্যে জিটুজি ভিত্তিতে পিপিপির মাধ্যমে এ প্রকল্পে অর্থায়ন করা হবে। ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া, শ্রীলঙ্কাসহ বিভিন্ন দেশে এরকম এক্সপ্রেসওয়ে রয়েছে। দ্রুত ও উন্নত সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েই এরকম প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে বিভিন্ন দেশ। বর্তমানে বিশ্বে সর্বাধুনিক সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা হলো এক্সপ্রেসওয়ে।

বিদ্যমান চার লেন বিশিষ্ট জয়দেবপুর -ময়মনসিংহের ৮৭ দশমিক ১৮ কিলোমিটার সড়কটি এখন এক্সপ্রেসওয়ের মাধ্যমে ১০ লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। বিদ্যমান চার লেনের পাশাপাশি ১০ ফুট প্রশস্ত দু’পাশে ব্যারিয়ার দিয়ে ইমার্জেন্সি লেন নির্মাণ করা হবে। যা দিয়ে শুধু এ্যাম্বুলেন্স, নিরাপত্তা গাড়ি, ভিআইপিসহ যে কোন জরুরী  প্রয়োজনীয় গাড়ি চলাচল করবে।

এরপর আরও ১৮ থেকে ২৪ ফুট করে স্বল্প গতির যান চলাচলের জন্য আলাদা দুটি লেন করা হবে। একপাশে পাঁচটি সড়ক লেনসহ দুপাশে দশ লেনের সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। প্রতি ২-৩ কিলোমিটার পর আন্ডারপাস ইউটার্ন নির্মিত হবে। দুপাশের অন্য সড়ক থেকে এক্সপ্রেসওয়ে সড়কে উঠতে ও বের হতে ইন্টারচেঞ্জ- যা আন্ডারপাস ও ওভারপাস সিস্টেমে কোন গাড়ি মুখোমুখি হবে না।

সড়কে অত্যাধুনিক ইন্টেলিজেন্ট ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম (আইটিএস) এ্যাপ্লিকেশন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। সড়কের প্রতিটি ইঞ্চি জায়গা সার্বক্ষণিক মনিটরিং সিস্টেমে আসবে। কোন দুর্ঘটনা, মাত্রাতিরিক্ত গতি বা কোন ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন করলে সঙ্গে সঙ্গেই ব্যবস্থা। রাস্তায় কোন সমস্যা হলে দূর থেকেই সঙ্কেত পাওয়া যাবে। এই প্রযুক্তির ফলে কোন গাড়ি দুর্ঘটনা ঘটিয়ে পালিয়ে গেলে খুঁজে বের করা সম্ভব হবে।

রাস্তা নষ্ট থাকলে এই প্রযুক্তির মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা যাবে। সেই সঙ্গে যানজট নিরসন, অবৈধ পার্কিং রোধে এই প্রযুক্তি সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। মূল কথা হলো, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের জন্য খুব চ্যালেঞ্জ হয়ে সামনে এসেছে। এই প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সড়কে দুর্ঘটনা কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। তাছাড়া সড়কে কি ধরনের ত্রুটির কারণে দুর্ঘটনা হয় তাও সরাসরি চিহ্নিত করা সম্ভব হবে।

সরকারের নীতিগত অনুমোদন পেলে প্রকল্প নির্মাণে পরামর্শক নিয়োগ করা হবে। তারপর নির্মাণ ব্যয় নির্ধারণসহ আনুষ্ঠানিক অন্যান্য কাজ সম্পন্ন হবে। বর্তমানে প্রকল্পটি সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পর্যায়ে রয়েছে। প্রযুক্তি নির্ভর এক্সপ্রেসওয়ের দু’পাশে সর্বাধুনিক দুটি রেস্টহাউস, শপিং, রেস্তরা, খাবারের দোকান, গাড়ির তেল ভর্তিসহ নানা সুবিধার ব্যবস্থা থাকবে। এছাড়া পরিবহন চালক, শ্রমিকসহ যাত্রীদের বিশ্রামের ব্যবস্থা থাকবে।

বিদ্যমান মহাসড়কের উভয় পাশে সওজের পর্যাপ্ত ভূমি থাকায় এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণে নতুন করে ভূমি অধিগ্রহণের পরিমাণ খুবই কম হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। ঢাকা-ময়মনসিংহ জাতীয় মহাসড়ক (এন-৩) দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক করিডর। ময়মনসিংহ, জামালপুর, শেরপুর, নেত্রকোনাসহ গাজীপুর ও কিশোরগঞ্জ জেলার সঙ্গে সংযোগ প্রদানকারী এই মহাসড়কে যানবাহনের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে।

এই সড়ক করিডর সংলগ্ন এলাকাগুলোয় ব্যাপক শিল্প স্থাপনা গড়ে ওঠায় ভারি যানবাহনের চলাচলও সম্প্রতি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে। এ ছাড়া সরকারের গৃহীত পরিকল্পনা অনুসারে গাজীপুর, ময়মনসিংহ, শেরপুর ও জামালপুর জেলায় মোট ১০টি অর্থনৈতিক জোন হবে। এসব অর্থনৈতিক জোনের কারণেও এ সড়কে যানবাহন চলাচল উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যাবে।

শেরপুর, জামালপুর ও ময়মনসিংহ জেলায় অবস্থিত মোট চারটি স্থলবন্দরের মাধ্যমে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের স্থলপথে বাণিজ্যের কারণেও এই সড়ক করিডরে যানবাহনের চাপ ইতোমধ্যে বেড়েছে। ক্রমবর্ধমান যানবাহন নিরাপদ ও দ্রুত চলাচল নিশ্চিত করতে সরকার গাজীপুর থেকে ময়মনসিংহ মহাসড়ক সম্পূর্ণ প্রবেশ-নিয়ন্ত্রিত এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। মানগত বিচারে সড়ক নির্মাণে কোরিয়া এখন অন্যান্য দেশের থেকে বেশ এগিয়ে। - জনকন্ঠ

 

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ সরদার মোঃ শাহীন,
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ রফিকুল ইসলাম সুজন,
বার্তা সম্পাদকঃ ফোয়ারা ইয়াছমিন,
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ আবু মুসা,
সহঃ সম্পাদকঃ মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিসঃ ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২,
উত্তরা, ঢাকা,
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com