অবশেষে করোনা ভ্যাকসিন আবিষ্কার আরও আবিষ্কারের আশায় বিশ্ববাসী  

প্রকাশের সময় : 2020-09-03 16:54:31 | প্রকাশক : Administration
অবশেষে করোনা ভ্যাকসিন আবিষ্কার আরও আবিষ্কারের আশায় বিশ্ববাসী  

সিমেস্ক ডেস্কঃ কোভিড বিপর্যস্ত সারাবিশ্ব টিকা আবিষ্কারের আপ্রাণ চেষ্টায় চালিয়ে যাচ্ছে। এরই মধ্যে প্রথম কোভিড ভ্যাকসিন আবিষ্কারের ঘোষণা দিয়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে রাশিয়া। রাশিয়ায় ভ্যাকসিনের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ইতোমধ্যে তার মেয়ে এই ভ্যাকসিন নিয়েছেন বলেও জানান রুশ প্রেসিডেন্ট। এই ভ্যাকসিনের গণহারে উৎপাদন শিগগিরই শুরু হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।

তিনি বলেন, তার নিজের মেয়ে ইতোমধ্যে রুশ বিজ্ঞানীদের তৈরি করোনার এই ভ্যাকসিন নিয়েছেন । ভ্যাকসিন নেয়ার পর তার মেয়ের শরীরের তাপমাত্রা হালকা বৃদ্ধি পেয়েছিল। কিন্তু দ্রুতই তা কমে যায়। তিনি আরও বলেন, রুশ বিজ্ঞানীরা এরই মধ্যে পরীক্ষা-নিরীক্ষার সব ধাপ পার হয়ে এসেছেন। তারা প্রমাণ করেছেন এই ভ্যাকসিন নিরাপদ ও এটি কার্যকর। রুশ প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, আমাদের ঔষধটি এই মহামারীর বিরুদ্ধে খুব কার্যকর এবং এটি শুধু রাশিয়ার জন্য আশা জাগায়নি বরং গোটা বিশ্বের জন্যই সুখবর নিয়ে এসেছে।

মহামারি করোনার হাত থেকে রেহাই পেতে ভ্যাকসিন আনতে চেষ্টা করছে চীন, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের সব শক্তিশালী দেশগুলো। এর মধ্যে সবাইকে হারিয়ে করোনা মোকাবেলার ভ্যাকসিন উদ্ভাবন করেছে রাশিয়া। কিন্তু কিভাবে এমন অসম্ভবকে সম্ভব করল পুতিনের দেশ? কিভাবে এতো তাড়াতাড়ি ভ্যাকসিন বাজারে আনল তারা? সেই রহস্য উদঘাটন করল রাশিয়া।

রাশিয়ার দাবি অনুযায়ী এটিই পৃথিবীর প্রথম কার্যকরী করোনা ভ্যাকসিন। রাশিয়া বলছে, ভ্যাকসিন তৈরিতে রুশ বিজ্ঞানীদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা আছে। সেই দক্ষতাকে কাজে লাগিয়েই মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে তৈরি হয়েছে ভ্যাকসিন। সেই সংক্রান্ত তথ্য দিতে এরই মধ্যে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করেছে রুশ প্রশাসন। রুশ বিজ্ঞানীদের দাবি, যে পদ্ধতিতে ইবোলার ভ্যাকসিন তৈরি হয়েছিল, সেই পথে হেঁটেই আবিষ্কার হয়েছে ‘স্পুটনিক ফাইভ’। ভ্যাকসিন তৈরিতে অ্যাডিনো ভাইরাসের ব্যবহার করা হয়েছে। এই ভাইরাসের জিনের সঙ্গে অন্য ভাইরাসের প্রোটিন মিশিয়ে তৈরি হয়েছে বহু প্রতীক্ষিত করোনার ভ্যাকসিন। অক্সফোর্ড, যুক্তরাষ্ট্র, চীনের বিভিন্ন সংস্থাও ভ্যাকসিন তৈরিতে অ্যাডিনোভাইরাস ব্যবহার করছে। কিন্তু উন্নতমানের প্রযুক্তি আছে শুধু রাশিয়ার হাতেই।

প্রথমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় ভ্যাকসিন তৈরিতে অ্যাডিনোভাইরাসের ব্যবহার করা হবে। সেইমতো অ্যাডিনো ভাইরাসের জিন নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা শুরু হয়। একই সঙ্গে অন্য ভাইরাসের প্রোটিন নিয়েও গবেষণা চলছিল। সেইমতো নতুন জিন ও প্রোটিনের মিশ্রণে তৈরি করোনার ভ্যাকসিন। রাশিয়ার দাবি, এই প্রক্রিয়ায় কয়েক মাসেই ভ্যাকসিন তৈরি সম্ভব হয়েছে।

রাশিয়ার করোনার ভ্যাকসিনটির পৃষ্ঠপোষকতা করছে দেশটির সরাসরি বিনিয়োগ বিষয়ক সংস্থা আরডিআইএফ। সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী কিরিল দিমিত্রিভ বলেন, আমরা ভাগ্যবান যে করোনাভাইরাস এমইআরএসের (মিডল ইস্ট রেসপিরেটরি সিনড্রোম) খুব কাছাকাছি। আমরা এমইআরএসের ওপর একটি ভ্যাকসিন (রেডি-টু-গো ভ্যাকসিন) প্রস্তুত করে রেখেছিলাম। তিনি আরো বলেন, আমরা এমইআরএসের ওপর দুই বছর ধরে গবেষণা করেছি। তারপর করোনাভাইরাস ভ্যাকসিন হিসেবে ব্যবহার করার জন্য ওই ভ্যাকসিনটিকে কিছুটা পরিবর্তিত করেছি। এটিই ছিল আসল গল্প, কোনো রাজনীতি নেই। আর ভ্যাকসিন গবেষণার ক্ষেত্রে রাশিয়া সর্বদাই শীর্ষে ছিল।

বিশ্বজুড়ে ১৭৩টি ভ্যাকসিন নিয়ে কাজ চলছে। এদের সবাই দাবি করছে তারা করোনার ভ্যাকসিন আবিষ্কার করেছে। বৃটেনের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের  ভ্যাকসিনটি এরমধ্যে সব থেকে আশার আলো দেখাচ্ছে। সারা গিলবার্টের দল ভ্যাকসিন আবিষ্কারেরবিভিন্ন পর্যায়ের খবর প্রকাশ করেছে। এতে করে সাধারণ মানুষ প্রতিটি পর্যায়ের সবশেষ অবস্থা নিজে চেষ্টা করলেই জানতে পারছেন। এর বাইরে ভ্যাকসিন দৌড়ে এগিয়ে থাকা আমেরিকা এবং জার্মানি ভ্যাকসিনগুলো সফল হওয়ার খবর দিয়েছে।

তবে এরমধ্যেও আশার খবর হচ্ছে এক এক করে তৃতীয় ধাপের ট্রায়েলে উঠে এসেছে ছয়টি ভ্যাকসিন। তৃতীয় ধাপের ট্রায়েলকে বলা হয় সব শেষ ধাপ। এই ধাপের ফল সন্তোষজনক হলেই ভ্যাকসিনটির অনুমোদন দেয়া হয়।

ভ্যাকসিন নিয়ে বিবিসি এবং সিএনএন গত কয়েকদিন ধরে যে খবর প্রকাশ করেছে তাতে বলা হয়েছে অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিনের উৎপাদনকারী এবং বাজারজাতকারী বিশ্বখ্যাত ঔষধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এ্যাস্ট্রেজেনেকা ভ্যাকসিনের মোড়ক উৎপাদনের জন্য ভারতের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করেছে। এর আগে ভারতের পুনের অন্য আরেকটি ভ্যাকসিন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এ্যাস্ট্রেজেনেকা ভ্যাকসিন উৎপাদনের চুক্তি করে।

এছাড়াও আমেরিকা এবং ইউরোপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ছাড়াও বিল গেটস এবং মেলিন্দা গেটস এর দাতব্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ভ্যাকসিন বিক্রির চুক্তি করেছে এ্যাস্ট্রেজেনেকা। কোম্পানিটি বলছে আগামী সেপ্টেম্বরে তাদের তৃতীয় ধাপের ট্রায়েল শেষ হবে। আর ট্রায়েলের খবর হাতে আসার সঙ্গে সঙ্গে যাতে মানুষের কাছে ভ্যাকসিন পৌঁছে দেয়া যায় এজন্য ভ্যাকসিনের উৎপাদনও শুরু করেছে এ্যাস্ট্রেজেনেকা।

যুক্তরাষ্ট্রের মর্ডানা এবং যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি কোম্পানি ফাইজার এবং জার্মানির বায়োএনটেক যে দুটি ভ্যাকসিন আবিষ্কার করেছে আগামী অক্টোবর থেকে তার তৃতীয় ধাপের ট্রায়েল শুরুর ঘোষণা দিয়েছে তারা। মর্ডানার কাছ থেকে ভ্যাকসিন ক্রয়ের চুক্তি করেছে ইসরাইল। অন্যদিকে ফাইজার এবং বায়োএনটেক এরসঙ্গে করোনার ভ্যাকসিন ক্রয়ের চুক্তি করেছে জাপান। এছাড়াও এ্যাস্ট্রেজেনাকার সঙ্গেও জাপান পৃথক চুক্তি করেছে। ভারতও এ্যাস্ট্রেজেনেকার টিকার ট্রায়েল নিজেদের দেশে শুরু করেছে । 

 

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ সরদার মোঃ শাহীন,
বার্তা সম্পাদকঃ ফোয়ারা ইয়াছমিন,
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ আবু মুসা,
সহঃ সম্পাদকঃ মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিসঃ ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২,
উত্তরা, ঢাকা,
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com