আউশে সোনালি বিপ্লব

প্রকাশের সময় : 2020-09-03 17:50:06 | প্রকাশক : Administration
আউশে সোনালি বিপ্লব

ওয়াজেদ হীরাঃ করোনা পরবর্তী খাদ্য নিরাপত্তার অংশ হিসেবে আউশ-আমন উৎপাদনে জোর দিয়েছিল সরকার। রেকর্ড পরিমাণ জমিতে আবাদ হয়েছিল আউশ ধান। আমনের ফলন উঠতে দেরি হলেও স্বল্প সময়ের ফসল আউশ ধান উঠতে শুরু করেছে। ফলনও ভাল হয়েছে এ বছর। গত অর্থবছরের চেয়ে এবার আউশ উৎপাদন কয়েক লাখ টন বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন। বোরোর পরে স্বল্প সময়ের ফসল আউশ ধানের ভাল ফলনে কৃষকের মুখে হাসির ঝিলিক।

আর তাই কয়েকদিন ধরে বৃষ্টি উপেক্ষা করেও সোনার ফসল ঘরে তুলতে ব্যস্ত চাষী। আগামী আরও ১০ দিন থাকবে এই আউশ ঘরে তোলার ব্যস্ততা। সরকারের নানা প্রণোদনায় আউশের আবাদ বেড়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী। ইতোমধ্যে অনেকস্থানে আউশ ধান কাটা শুরু হয়েছে, কোথাও শুরু হবে। উৎপাদিত ফসল যুক্ত হবে খাদ্যভান্ডারে।

এবার করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশে খাদ্য নিরাপত্তায় সব ব্যবস্থা নেয় সরকার। তারই ধারাবাহিকতায় বোরো ধান ঘরে ওঠার পরই আউশ-আমনে জোর দেয়। যেহেতু আউশ স্বল্প সময়ের ফসল তাই এর জমির লক্ষ্যমাত্রাও বাড়ানোর উদ্যোগ নেয় কৃষি মন্ত্রণালয়। উৎপাদন বাড়াতে নানা পদক্ষেপও নেয়া হয় সরকারের পক্ষ থেকে।

সেই সঙ্গে বোরো ধানের ভাল দাম পাওয়াতে কৃষকেরও আগ্রহ বেড়ে যায়। মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা কৃষককে নানা পরামর্শ দেন। বোরো ফসল ওঠার পর পরই আউশ রোপণ শুরু করে কৃষকরা। খনার বচনে আছে ‘আউশ ধানের চাষ, লাগে তিন মাস’ অর্থাৎ আউশ ধান চাষে তিন মাস লাগে। আর বোরো ধানের মতো বেশি সেচেরও দরকার হয় না। সেই আউশ ধান এখন ঘরে তোলার পালা। আউশ ধান রোপণের সময়ও বৈরী পরিস্থিতি ছিল। ঘূর্ণিঝড় আমফান হানা দেয়। এতে নদ-নদীর পানি বেড়ে অনেক এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আবার ফসল ঘরে ওঠানোর সময় বৈরী আবহাওয়া। প্রতিদিনই হচ্ছে বৃষ্টি। ইতোমধ্যেই বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে অনেক স্থানেই ধান কাটা শুরু হয়েছে। কমবেশি সব স্থানে আউশ হলেও সারাদেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আউশ ধান উৎপন্ন হয় যশোর ও রংপুর জেলায়। এছাড়া পটুয়াখালি জেলায়ও অনেক আউশ আবাদ হয়।

এদিকে, কৃষকরা জানিয়েছেন, দেশে আউশ ধান আবাদে উৎপাদন খরচ কম। পানি সেচ দেয়ার দরকার হয় না। সেই সঙ্গে কীটনাশক ও স্যার প্রয়োগ করতে হয় সীমিত। এছাড়া এবার বোরো ধানের ভাল দাম পেয়ে আউশ ধান উৎপাদনের উৎসাহ-উদ্দীপনা আরও বেড়ে গেছে। ইতোমধ্যেই যারা আউশ ধান কেটে ঘরে উঠিয়েছেন তাদের কেউ কেউ বলেছেন বাম্পার ফলনের কথা। এছাড়া জমিতে ধান দেখেই কৃষকরা বলে দিচ্ছেন ফলন বেশ ভাল হয়েছে।

কৃষিমন্ত্রী ডঃ আব্দুর রাজ্জাক এর আগে বলেছেন, কৃষকরা বোরো ধানে ভাল দাম পাওয়ায় আউশ-আমনেও আগ্রহ বেড়েছে। কৃষকের আগ্রহ আর সরকারের নানা সহযোগিতা তো আছেই। এবার আমরা আউশে ৬ কোটি টাকার প্রণোদনা দিয়েছি। ভালমানের বীজ দিচ্ছি, সার দিচ্ছি আবার আমনের বীজের দাম কমিয়েছি দশ টাকা।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ধারণা করছে, করোনা পরবর্তীতে বিভিন্ন দেশে খাদ্যাভাব দেখা দিতে পারে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শুরু থেকেই খাদ্য উৎপাদনে গুরুত্ব দিচ্ছেন। যাতে আমাদের দেশে এই খাদ্যের অভাবটা না আসে। - জনকণ্ঠ

 

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ সরদার মোঃ শাহীন,
বার্তা সম্পাদকঃ ফোয়ারা ইয়াছমিন,
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ আবু মুসা,
সহঃ সম্পাদকঃ মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিসঃ ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২,
উত্তরা, ঢাকা,
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com