আলাদা হচ্ছে বাংলাদেশ!

প্রকাশের সময় : 2018-06-10 10:57:13 | প্রকাশক : Admin

সিমেক ডেস্কঃ পৃথিবী থেকে আলাদা হয়ে রাষ্ট্রীয়ভাবে রোজা পালিত হচ্ছে বাংলাদেশে! বাংলাদেশের আকাশে দেখা চাঁদের আকৃতি দেখে অনেকেই বলছেন এটা দুইদিনের চাঁদ। আসলেও তাই। কারণ চাঁদটি দুইদিন আগেই উঠেছিল। তুরস্ক, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, আমাদের মালদ্বীপসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বুধবারে বা ১৬ মে থেকেই রামাদ্বান শুরু হয়েছে। সৌদিআরব একদিন পরে চাঁদ দেখায় মধ্যপ্রাচ্য এবং মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, সিঙ্গাপুর, ভারত-পাকিস্তান এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বৃহস্পতিবার বা ১৭ মে থেকে রোজা শুরু হয়।

বাংলাদেশের বহু মানুষ সৌদির সঙ্গে মিল রেখে ১৭ মে থেকেই রোজা রাখছেন! এবারই প্রথম ভারত-পাকিস্তানসহ গোটা পৃথিবী থেকে আলাদা হয়ে বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয়ভাবে পালিত হচ্ছে রোজা! পৃথিবী একটি, চাঁদও একটি। তবুও রোজা ও ঈদ পালনে কেন এই ভিন্নতা? আন্তর্জাতিক চাঁদ দেখা একটি কমিটি থাকলে সারাবিশ্বের জন্য একটি অভিন্ন হিজরি ক্যালেন্ডার প্রনয়ণ করা সম্ভব ছিল।

ইউরোপ-আমেরিকার অমুসলিম দেশেগুলোতে চাঁদ দেখা কমিটি নেই, তারা তো মুসলিম বিশ্বের কোনো একটি দেশের চাঁদ দেখাকে বিশ্বাস করেই রোজা পালন করছেন। যদি আমাদের দেশেও চাঁদ দেখা কমিটি না থাকতো, তাহলে আমাদেরকেও সেটাই করতে হতো! আমরা চাঁদের সন্ধান করি আমাদের আকাশে। বলা হয়ে থাকে ‘বাংলাদেশের আকাশে’ কোথাও চাঁদ দেখা যায়নি! হাস্যকর হলেও সত্য, বাংলাদেশের জন্য আলাদা কোনো আকাশ কিন্তু আল্লাহতায়ালা সৃষ্টি করেননি। এক আকাশে একটাই চাঁদ উদিত হয়। সেটা সময়ের পার্থক্যের কারণে কেউ আগে দেখে, কেউ বা পরে দেখে।

রামাদ্বান মাসের চাঁদ দেখার খবর পেলেই সারা বিশ্বের মুসলমানদের রোজা রাখা শুরু করার কথা। এক সময় এ খবরটি পৌঁছানো খুবই জটিল ছিল, তাই খবর না পাওয়ার কারণেই মানুষ এক বা দুই দিন পিছিয়ে যেত! হযরত উমর ফারুক (রাঃ) এর শাসনামলে প্রায় অর্ধপৃথিবীতে ঘোড়সওয়ার পাঠিয়ে চাঁদ দেখার খবর পাঠানো হতো যাতে লোকেরা একই সঙ্গে রোজা ও ঈদ পালন করতে পারে। যদি তিনি সারা পৃথিবীর খলিফা হতে পারতেন, তাহলে সমগ্র দুনিয়াতে একই দিনে রোজা ও ঈদ উদযাপিত হতে পারতো। এখন যদি ‘সিলেট’ স্বাধীনতা লাভ করে তাহলে কি সিলেটীরা ‘সিলেটের আকাশে’ চাঁদ দেখার উপর নির্ভর করবে? প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী করতেই হবে। কারণ এক সময় পাক-ভারত-বাংলাদেশ একই রাষ্ট্র ছিল। এখন রাষ্ট্রগুলোর আকাশ ভাগ হওয়াতে আমরা কেবল বাংলাদেশের আকাশে চাঁদের তালাশ করি!

ইমাম আবু হানিফা (রহঃ) বলেছেন, যদি দুনিয়ার মাশরিক থেকে মাগরিব পর্যন্ত কোনো এক জায়গায় ঈদের নতুন চাঁদ দেখা যায় অথবা রমজানের চাঁদ দেখা যায় তাহলে পুরো দুনিয়ার মানুষকে এক হুকুম মেনে নিতে হবে। তিনি দলিল পেশ করেছেন, তিনি বলেছেন যে, এটাই যুক্তিসংগত। কারণ হচ্ছে এই দুনিয়া কয়টা? একটা। চাঁদ কয়টা? একটা। কোরআন কয়টা? একটা। আমরা কয় নবীর উম্মত? এক নবীর। আমরা জুমার সালাত আদায় করি কয় দিনে? একদিনে। সারা দুনিয়ায় জুমার নামাজ এক দিনে পড়ি, নাকি ভিন্ন ভিন্ন দিনে? এক দিনে। সময় যার যার মতো। তাহলে ইমাম আবু হানিফা (রহ:) এর বক্তব্য হচ্ছে এই সারা দুনিয়াতে যে কোনপ্রান্তে যদি চাঁদ দেখা যায়, সারা দুনিয়ার লোকেরা রোজা রাখা শুরু করবে একসাথে। আবার সারা দুনিয়ার কোনো এক প্রান্তে যদি ঈদের চাঁদ দেখা যায় তাহলে ঈদ হয়ে যাবে। এটাই আবু হানিফা (রহ:)এর বক্তব্য এবং তিনি আরো দলিল পেশ করেছেন।

লাইলাতুল ক্বদরে কোরআন নাযিল হয়েছিল। লাইলাতুল কদর কয়টা? একটা। নাকি দুইটা? যদি তোমরা আলাদা কর তবে লাইলাতুল ক্বদর থেকে বঞ্চিত হবে। কারণ লাইলাতুল ক্বদরে আল্লাহ কোরআন নাযিল করেছেন। আর কোরআন নাযিল হয়েছিল মক্কায়। মক্কার লাইলাতুল ক্বদর যেটা সারা দুনিয়ার লাইলাতুল ক্বদর সেটা হবে। নাকি আলাদা হবে? তাহলে মক্কায় যখন লাইলাতুল ক্বদর বেজোড় রাত্রে হয়; বাংলাদেশ, ইন্ডিয়া, পাকিস্তানে তখন হয় জোড় রাত্র। আর বাংলাদেশে যখন জোড় রাত হয়, তখন সোদি আরবে বেজোড় রাত। তাহলে লাইলাতুল ক্বদর কোনটা সঠিক? দুইটা বলতে পারবেন না। কারণ এই লাইলাতুল ক্বদরের সম্পর্ক আছে কোরআন নাযিলের। কোরআন তো আর দুই রাত্রে নাযিল হয় নাই! যে একবার নাযিল হয়েছিল লাইলাতুল ক্বদর বাংলাদেশেরটাতে, আরেকবার নাযিল হয়েছিল লাইলাতুল ক্বদর সোদি আরবেরটাতে। কোরআন কি দুইবার নাযিল হয়েছিল নাকি একবার নাযিল হয়েছিল? কোরআনকে আল্লাহতায়ালা লাইলাতুল ক্বদরে নাযিল করেছেন। কোরআনে উল্লেখ আছে, আমি কোরআনকে নাযিল করেছি লাইলাতুল ক্বদরে।

এরপরে আসুন, আরাফাতের ময়দানের হাজিগন ৯ তারিখে যখন আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করে সেই সময়ে অন্যদের জন্য (গায়রে হাজীদের) জন্য রোজা রাখা অনেক সওয়াবেরর কাজ। এখন আরাফাতের ময়দানে যেদিন অবস্থান করেন জিলহজ্জ্ব মাসের ৯ তারিখ (রোজা রাখা সবার জন্য ফযীলতের বিষয়)। এখন বাংলাদেশের মানুষেরা কোন দেশের ৯ তারিখে রোজা রাখবে? সৌদিআরবের জিলহজ্জ্ব মাসের নয় তারিখে নাকি বাংলাদেশের জিলহজ্জ্ব মাসের ৯ তারিখে? যদি বলেন সোদি আরবের জিলহজ্জ্ব মাসের ৯ তারিখে তাহলে তো ভাইজান বাংলাদেশের ৯ তারিখ হয় নাই। আপনি কিসের আরাফাতের দিন রোজা রাখতেছেন? আর যদি বলেন আমি বাংলাদেশের জিলহজ্জ্ব মাসের ৯ তারিখে রোজা রাখব তাহলে ওই সময় মেহেরবানি করে দেখবেন আরাফাতের ময়দানে হ্বাজী সাহেবরা সবাই চলে গেছে ওখান থেকে। তাহলে এই যে আপনি আরাফাতের দিন রোজা রাখবেন কোন আরাফাতের দিন? জিলহজ্জ্ব মাসের প্রথম ১০ দিন এবং রাতের অনেক ফযীলত। রাতে ইবাদত করা দিনে রোজা রাখা। কোন ১০ দিন বাংলাদেশের জিলহজ্জ্ব মাসের ১০ দিন নাকি সৌদি আরবের প্রথম ১০ দিন।

একটি হাদিসে বর্ণিত হয়েছে কিয়ামত হবে মহরমের ১০ তারিখে। যদি হাদিসটি সহিহ হয় (না হলেও কেয়ামত তো কোনো একদিন সংঘটিত হবেই) তাহলে সেটা সৌদি আরবের তারিখে হবে নাকি বাংলাদেশের তারিখে? আমরা কি তখনও টিভিতে বসে দেখবো যে সারাবিশ্বে কেয়ামত সংঘটিত হচ্ছে, আমাদের কেয়ামত হবে আগামী কাল বা পরশু যা আমাদের চাঁদ দেখা কমিটি ঠিক করে দেবে!

 

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ সরদার মোঃ শাহীন,
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ রফিকুল ইসলাম সুজন,
বার্তা সম্পাদকঃ ফোয়ারা ইয়াছমিন,
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ আবু মুসা,
সহঃ সম্পাদকঃ মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিসঃ ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২,
উত্তরা, ঢাকা,
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com