থেমে নেই ৩য় টার্মিনালের কাজ

প্রকাশের সময় : 2020-10-14 15:13:39 | প্রকাশক : Administration
থেমে নেই ৩য় টার্মিনালের কাজ

সিমেক ডেস্কঃ ক্রমেই দৃশ্যমান হচ্ছে দেশের অ্যাভিয়েশন খাতের সবচেয়ে বড় প্রকল্প হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল। করোনাকালেও পুরোদমে এগিয়ে চলেছে নির্মাণকাজ। দুই কোটি ঘনফুট বালি ভরাট শেষ। ৩ হাজার পাইলের মধ্যে ৭শ’ দাঁড়িয়ে গেছে। মাটি ভরাটও অর্ধেকের বেশি হয়ে গেছে। একদিকে করোনার ছোবল অন্যদিকে বর্ষার বাধা। তবুও থেমে নেই বিশাল কর্মযজ্ঞ। সব চলছে অবিরাম। দেড় হাজার শ্রমিক। অর্ধশত ক্রেন। সমসংখ্যক রিগার। ট্রাক আসছে দিবারাত্রি। চৌহদ্দি জুড়ে সার্বক্ষণিক খটর খট শব্দ। হাইভোল্টেজের বাতি রাতের অন্ধকারের বুক চিড়ে আলোর দ্যুতি ছড়ায় চারদিকে। দূর দিগন্ত থেকেও বুঝা যায়, কি এক কর্মব্যস্ততায় কাটছে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনালের নির্মাণযজ্ঞ।

আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়া দেশের অন্যতম এই মেগা প্রকল্পের কাজ যে গতিতে এগিয়ে চলছে তাতে সন্তুষ্ট সবাই। শত প্রতিকূলতার মাঝেও দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলছে থার্ড টার্মিনালের প্রকল্প। প্রথম দফায় শেষ করা হবে টার্মিনাল, তারপর ধাপে ধাপে কার্গো, ট্যাক্সিওয়ে, ফ্লাইং ক্লাব, কানেক্টিং রোডসহ অন্যান্য স্থাপনা। এটি দেশের অন্যতম অগ্রাধিকার প্রকল্প। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অনেক আগ্রহ ও স্বপ্নের টার্মিনাল। জানা গেছে, পাঁচ লাখ ৪২ হাজার বর্গমিটারে ৩৭টি উড়োজাহাজ রাখার এ্যাপ্রোন ও ১ হাজার ২৩০টি গাড়ি রাখার সুবিধা, ৬৩ হাজার বর্গফুট জায়গায় আমদানি-রফতানি কার্গো কমপ্লেক্স, ১১৫টি চেক-ইন কাউন্টার সব মিলিয়ে বিশ্বের শীর্ষ স্থানীয় বিমানবন্দরের সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা থাকবে হযরত শাহজালাল আর্ন্তজাতিক বিমান বন্দরের তৃতীয় টার্মিনালে।

টার্মিনালটির নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার পর বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় দৃষ্টিনন্দন বিমান বন্দরের সারিতে নাম লেখাবে শাহজালাল। ২০১৯ সালের শেষে শুরু হওয়া এ টার্মিনালের নির্মাণ কাজ শেষ হবে ২০২৩ সালের জুনে। টার্মিনালটিতে দুই লাখ ৩০ হাজার বর্গমিটার আয়তনের একটি ভবন তৈরি করা হবে। জাপান ও কোরিয়ার অন্তত চার শতাধিক দক্ষ জনবল এখানে সক্রিয় রয়েছেন। করোনার তান্ডব উপেক্ষা করেই তারা নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন।

সরেজমিনে টার্মিনালের নির্মাণাধীন এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, বৃষ্টি আর কাঁদার মধ্যেও পুরোদমে নির্মাণ কাজ চলছে। জায়গাটির ভূমি উন্নয়নের কাজ আগেই শেষ হয়েছে। বর্তমানে পাইলিংয়ের কাজ চলছে। প্রায় তিন হাজার পাইলিংয়ের মধ্যে ইতোমধ্যে ৭০০টির কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এই মেগা প্রকল্পের কাজ তদারকিতে সার্বক্ষণিক সতর্ক রয়েছেন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মফিদুর রহমান। তার ভাষ্যমতে- নির্ধারিত সময়ের আগেই কাজ সম্পন্ন করা হবে। এই বিমানবন্দর বিশ্বের দৃষ্টিনন্দন ও অত্যাধুনিক বিমানবন্দরগুলোর মধ্যে একটি হবে। এতে যাত্রীদের দুর্ভোগ অনেকাংশেই কমবে। পাশাপাশি এ বিমানবন্দর বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তৃতীয় টার্মিনালের ভবনে বহিঃর্গমনের (ডিপার্চার) জন্য ১৫টি সেলফ চেক-ইন (স্ব- সেবা) কাউন্টারসহ মোট ১১৫টি চেক-ইন কাউন্টার থাকবে। বহির্গমনে ৬৪ ও আগমনী যাত্রীদের জন্য ৬৪টি ইমিগ্রেশন কাউন্টার থাকছে। এছাড়া ২৭টি ব্যাগেজ স্ক্যানিং মেশিন, ১১টি বডি স্ক্যানার, ১২টি বোর্ডিং ব্রিজ ও ১৬টি লাগেজ বেল্ট থাকবে। তৃতীয় টার্মিনাল হওয়ার পর শাহজালালের হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বেড়ে দুই কোটিতে গিয়ে ঠেকবে।

বিশ্বব্যাপী চলমান কোভিড মহামারীতেও সব কিছু থমকে দাঁড়ালেও থেমে নেই দেশের অন্যতম এই মেগা প্রকল্পের কাজ। প্রকল্প শুরুর কয়েকমাস পরই দেখা দেয় কোভিড মহামারী। এতে শুরুতেই হোচট খেতে হয়েছে। কিন্তু বেবিচক এ বিষয়ে বিকল্প পন্থায় স্বাস্থ্যবিধির প্রতি সর্বোচ্চ গুরুত্ব প্রকল্পে নিয়োজিত প্রতিটি লেবার থেকে শুরু করে কর্মকর্তা-সবার প্রতি নেয়া হয় বিশেষ ব্যবস্থা। প্রকল্পের ভেতরে একটি প্রাথমিক চিকিৎসা ইউনিট চালু করা হয়। সবাইকে মাস্ক পরিহিত ও অন্যান্য স্যানিটাইজেশান নিশ্চিত করেই কাজে যেতে হয়। তাছাড়াও রাজধানীর দুটো হাসপাতালের সঙ্গে প্রাধিকারের ভিত্তিতে করোনার টেস্ট ও চিকিৎসার সুব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়। এতে যারা প্রথমদিকে কোভিড আক্রান্ত হয়েছে, তাদের চিকিৎসা দেয়ার পর সুস্থ হয়ে আবার কাজে ফিরেছে। এভাবে ভয়কে জয় করে কাজের গতি বজায় রাখার প্রাণপণ চেষ্টা চলছে। যদি করোনার তাণ্ডব দেখা না দিত তাহলে এতদিনে আরও অগ্রগতি চোখে পড়ত।

এদিকে স্বপ্নের এই থার্ড টার্মিনালের মান ও সুযোগ-সুবিধা নিয়ে সাধারণ মানুষের কৌতূহল অনেক। থার্ড টার্মিনাল বর্তমান টার্মিনাল থেকে সম্পূর্ণ আলাদা চিত্রের। দৃষ্টিনন্দন বলতে যা বুঝায় তেমনই স্থাপত্য রীতিতে তৈরি করা হয়েছে এর নক্সা ও ডিজাইনে। প্রায় সাড়ে তিনশত একর জমির ওপর নির্মাণ করা হচ্ছে থার্ড টার্মিনালের গোটা প্রকল্প। প্রায় দেড় হাজার শ্রমিক রাতদিন কর্মযজ্ঞে লিপ্ত। ২০১৯ সালের ২৮ ডিসেম্বর প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকার এই প্রকল্পের নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০২৩ সালের জুন মাসের মধ্যে এই কাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। শাহজালাল আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনালে অত্যাধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা থাকবে। এটি চালু হলে বিশ্বের অন্যতম দৃষ্টিনন্দন বিমানবন্দরের জায়গায় স্থান করে নেবে।

 

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ সরদার মোঃ শাহীন,
বার্তা সম্পাদকঃ ফোয়ারা ইয়াছমিন,
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ আবু মুসা,
সহঃ সম্পাদকঃ মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিসঃ ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২,
উত্তরা, ঢাকা,
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com