ঘুরে দাঁড়াচ্ছে দেশের অর্থনীতি

প্রকাশের সময় : 2020-10-14 15:15:14 | প্রকাশক : Administration
ঘুরে দাঁড়াচ্ছে দেশের অর্থনীতি

শেখ আব্দুল্লাহ্ঃ সাধারণ ছুটি তুলে নেওয়ার পর গলির দোকান থেকে শুরু করে বড় শিল্পকারখানা সবই এখন চালু হয়েছে। আমদানি-রপ্তানি, উৎপাদন, সরবরাহ, বিপণন, উন্নয়ন কর্মকান্ড ও পরিবহন চলাচল আবার স্বাভাবিক হচ্ছে। স্থবির হয়ে পড়া অর্থনীতির চাকাও আবার ঘুরছে। ঘুরে দাঁড়াচ্ছে বাংলাদেশের অর্থনীতি। করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে প্রায় তিন মাস সাধারণ ছুটি থাকায় অফিস-আদালত, বিপণিবিতান, হোটেল -রেস্তোরাঁ, পর্যটন ও পরিবহন বন্ধ ছিল। 

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এখনও বন্ধ রয়েছে। এতে রিকশা ও অটোরিকশা চালক, গণপরিবহন শ্রমিক, ফুটপাতের ব্যবসায়ী, হকার, চায়ের দোকানদারসহ অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের লাখ লাখ মানুষ বেকার হয়ে পড়েন। অনেকে শহর ছেড়ে গ্রামে ফিরে যান। হোটেল-রেস্তোরাঁ, বেকারি, পর্যটন, এমনকি বিভিন্ন উৎপাদন প্রতিষ্ঠানও কার্যক্রম বন্ধ করে কর্মীদের ছুটিতে পাঠায়। বৈশ্বিক যোগাযোগ ভেঙে পড়ায় আমদানি-রপ্তানিও আশঙ্কাজনকভাবে সীমিত হয়ে পড়ে। শিল্পোৎপাদন কমে যায়।

 

এতে কৃষি, শিল্প ও সেবা তথা সামগ্রিক অর্থনীতিতে এক ধরনের স্থবিরতা দেখা দেয়। মানুষের আয় কমে যায়। বাড়তে থাকে বেকারত্ব ও দারিদ্র্য। করোনা বিস্তার রোধে শিল্প, সেবাখাতে স্থবিরতা দেখা দিলেও দেশের অর্থনীতির অন্যতম শক্তি কৃষি খাতে তার বিশেষ প্রভাব পড়েনি। করোনাকালেও স্বাভাবিকভাবে চলেছে কৃষি খাতের কর্মকান্ড। প্রধান প্রধান ফসল, গবাদি পশু, মাছের উৎপাদন ও বিপণনে সমস্যা হয়নি। ফলে দেশের ১৭ কোটি মানুষের খাদ্য চাহিদা মেটাতে যেমন কোনো চাপ সৃষ্টি হয়নি, তেমনি গ্রামীণ অর্থনীতিও ভেঙে পড়েনি। কৃষি মন্ত্রণালয় আশা করছে, কৃষিপণ্যের উৎপাদনে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা যাবে।

গত ৩ আগস্ট সাধারণ ছুটি তুলে নেওয়ার পর ধীরে ধীরে পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। মানুষ স্বাভাবিক সময়ের মতো ঘর থেকে বের হচ্ছে। কাজ করছে। রাজধানী ঢাকাসহ অন্য শহরগুলো আগের চেহারায় ফিরেছে। সড়কে যানজট দেখা যাচ্ছে। সেই আগের মতো দোকান বসছে ফুটপাতে। চায়ের স্টল, কফি শপ, হোটেল-রেস্তোরাঁ চালু হয়েছে। ভিড় বাড়ছে পর্যটন কেন্দ্রে।

আমদানি করা নতুন পণ্য নিয়ে জাহাজ ভিড়ছে বন্দরে। আবার অনেক জাহাজ রপ্তানি পণ্য নিয়ে বন্দর ছেড়ে যাচ্ছে বিদেশে। ফলে অর্থনীতিও জেগে উঠছে। ভাইরাসের ভয়ে মানুষ আর ঘরে বসে নেই। জীবন থেমে থাকে না। সারাবিশ্বই ধীরে ধীরে কর্মমুখর হয়ে উঠছে। বাংলাদেশেও কর্মচঞ্চল হয়েছে অফিস-আদালত, শিল্পকারখানা। সর্বক্ষেত্রে স্বাভাবিক কাজকর্ম শুরু হয়েছে। ফলে অর্থনীতি গতিশীল হচ্ছে।

করোনার কারণে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পর্যটনও জেগে উঠেছে। দেশের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে মানুষ বেড়াতে যাচ্ছেন। সমুদ্রসৈকতে ভিড় জমছে। আবার জমজমাট হচ্ছে বিনোদন কেন্দ্রগুলো। হোটেল-মোটেলগুলোতে ফিরছেন অতিথিরা। বিভিন্ন অনুষ্ঠানেরও আয়োজন হচ্ছে। দীর্ঘদিন লকডাউনে থেকে মানুষের মনে এক ধরনের অবসাদ দেখা দিয়েছিল। সবকিছু চালু হওয়ার পর মানুষ বেড়াতে বের হচ্ছেন। স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন।

পরিবহন চালু হয়েছে পুরোদমে। রাজধানীতে আবার সেই ব্যস্ততা বা যানজট ফিরে এসেছে। এতে জ্বালানি তেলের চাহিদা বেড়েছে। বর্তমানে ১১ হাজার টন জ্বালানি তেল বিক্রি হচ্ছে দৈনিক। অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। তবে আয় বাড়েনি বিশেষ। কমিউনিটি সেন্টারগুলোতে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন হচ্ছে। এদিকে, বাজারে মাস্ক, পিপিই, হ্যান্ডগ্লাভসের মতো স্বাস্থ্য সুরক্ষার সরঞ্জাম, ঔষধ, অক্সিজেন, অক্সিজেন মাপার যন্ত্র, মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, বাইসাইকেল, মোটরসাইকেলের বেচাকেনা বেড়েছে বেশ। আবার ইন্টারনেটের পেছনে মানুষের খরচ বেড়েছে, যা ঝিমিয়ে পড়া অর্থনীতিকে সামান্য হলেও স্বস্তি দিয়েছে।

শিল্পকারখানাগুলো চালু হয়েছে। তৈরি পোশাক, স্টীল, রড, সিমেন্ট, চামড়া, পাট, আসবাবপত্র, সিরামিক, ঔষধ, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, বেকারি পণ্যের কারখানা চলছে জোরেশোরে। ধীরে ধীরে স্বাভাবিকতার দিকে এগোচ্ছে অর্থনীতি। অর্থনীতির বিভিন্ন সূচক বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সম্প্রতি সরকারের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) গতি পেয়েছে।

মহামারিতে বিশ্বজুড়ে লকডাউনের মধ্যে অর্ডার- ধ্বসের পর ফের ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত। আর সেটিই ভূমিকা রাখছে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে। দেশের প্রধান রপ্তানি শিল্প অর্থাৎ পোশাক খাতের কর্তাব্যক্তিরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও অন্য বড় বড় বাজার থেকে বড়দিনের অর্ডার পাবেন বলে আশা করছেন তারা।

ফলে মহামারির কারণে আধা-লকডাউন আরোপের কারণে দেশের অর্থনীতিতে যে চাপ তৈরি হয়েছিল, তা ধীরে ধীরে ছাড়তে শুরু করেছে। এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি) জানিয়েছে যে, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের গতি আশাজাগানিয়া। সংস্থাটি পূর্বাভাস দিয়ে বলছে, বর্তমান পরিস্থিতি ঠিক থাকলে এই অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনীতি ৬.৮ শতাংশ বাড়বে, যাকে অত্যন্ত শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি হারই ধরে নেয়া হচ্ছে।

জুলাই মাসে এডিপি কার্যক্রমে তিন হাজার ২৫০ কোটি টাকা ব্যয় করেছে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো। এতে রড, সিমেন্ট, ইট, বালুসহ নির্মাণ সামগ্রীর চাহিদা বাড়ছে। জুলাই-আগস্ট সময়ে রপ্তানি আয় গত বছরের একই সময়ের চেয়ে বেশি হয়েছে। সর্বশেষ আগস্ট মাসে আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ২ দশমিক ১৭ শতাংশ বেশি রপ্তানি আয় এসেছে।

বাজারে চাহিদার কারণে এনজিওগুলোর ঋণ বিতরণ বেড়েছে। এ সময়ে বিদেশ থেকে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স বেড়েছে। গত জুলাই ও আগস্ট মাসে ৪৫৬ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫০ শতাংশ বেশি। রেমিট্যান্সের এই অর্থ অভ্যন্তরীণ বাজারে চাহিদা সৃষ্টি করছে। কৃষিভিত্তিক ব্যবসা পুরোদমে চলছে। সবাই এখন বুঝে গেছে, ঘরে বসে না থেকে বাইরে এসে জীবন যুদ্ধে জয়ী হতে হবে। - সমকাল

 

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ সরদার মোঃ শাহীন,
বার্তা সম্পাদকঃ ফোয়ারা ইয়াছমিন,
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ আবু মুসা,
সহঃ সম্পাদকঃ মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিসঃ ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২,
উত্তরা, ঢাকা,
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com