হায়েনা ম্যান; এক দুর্ধর্ষ জাতির গল্প

প্রকাশের সময় : 2020-10-28 11:48:02 | প্রকাশক : Administration
হায়েনা ম্যান; এক দুর্ধর্ষ জাতির গল্প

সিমেক ডেস্কঃ পশ্চিম আফ্রিকার (মৌরিতানিয়া, বেনিন, বুরকিনা ফাসো, গাম্বিয়া, ঘানা, গায়ানা, গিনি বিসাউ, আইভরি কোস্ট, লাইবেরিয়া, মালি, নাইজার, নাইজেরিয়া, সেনেগাল, সিয়েরা লিওন, টগো) বিভিন্ন এলাকায় প্রচণ্ড সাহসী এবং দুর্র্ধর্ষ এই জাতির বসবাস (অনেকে এদেরকে গ্যাং-ও বলে থাকে)। তবে মুলত এদেরকে সবাই “হায়েনা ম্যান” বলে জানে। বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করে জানা যায় মূলত নাইজেরিয়াতে এদের আদি বাসস্থান। নাইজেরিয়া অত্যন্ত গরীব একটি দেশ। দেশটির আনুমানিক ২০ কোটি জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেকের বেশি মানুষ দারিদ্রসীমার নীচে বসবাস করে। দেশটির সবচেয়ে জনপ্রিয় শহর লাগোস-এর বস্তিগুলোই মূলত এদের আদি বসতি। এই বস্তিগুলোতে হায়েনা, বিভিন্ন প্রজাতির বানর ছাড়াও প্রচুর পরিমাণের বিষধর সাপের অবাধ খোলামেলা চলাফেরা করে। অবাধে বন্য প্রাণীর চলাফেরা এবং মানুষের অনিয়মতান্ত্রিক জীবনধারণ এখানকার পরিবেশকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিকর এবং বিষাক্ত করে তুলেছে। স্বাভাবিক জীবনধারণের মৌলিক উপাদান এখানে খুঁজে পাওয়া বেশ কষ্টসাধ্য। অত্যন্ত বাজে এবং ভয়ঙ্কর পরিবেশের কারণে অনেকেই এই জায়গাটাকে বলে থাকে “দ্যা ল্যান্ড অফ নো টুমরো”। এরা মূলত নাইজেরিয়াতে বসবাস করলেও বর্তমানে এরা পশ্চিম আফ্রিকার অন্যান্য দেশেও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে গিয়েছে।

আসলে এরা মূলত একটি সার্কাস দল। এরা বিভিন্ন ধরণের ভয়ঙ্কর এবং বিলুপ্তপ্রায় প্রাণীর সাহায্যে রাস্তায় রাস্তায় সার্কাস খেলা দেখিয়ে থাকে। এবং এটিই এদের প্রধান জীবিকা নির্বাহের উৎস। এরা বিশ্বাস করে এসব বন্য ভয়ঙ্কর প্রাণীগুলোর সাথে এরা আধ্যাত্মিকভাবে সম্পর্কিত। এরা ভুডু নামের এক প্রাচীন মন্ত্রের চর্চা করে এবং এই মন্ত্রের সাহায্যে প্রাণীদের পোষ মানানোর চেষ্টা করে থাকে। এদের ব্যাপারে অনেকেই অনেক ধরণের ধারণা দিয়ে থাকেন যেমন, অনেকেই বিশ্বাস করে এরা অতিপ্রাকৃতিক ক্ষমতার অধিকারী। এমনকি কিছু মানুষ এটাও বিশ্বাস করে এরা আংশিকভাবে হায়েনা। অনেকে বলে এরা চোরাকারবারি এবং মাদক ব্যাবসার সাথে জড়িত।

এরা বিশ্বাস করে যার একটি হায়েনা আছে তার সাথে কেউ বিবাদে জড়াতে চায় না। এরা লাগোসের রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বিভিন্ন ধরণের সার্কাস দেখিয়ে থাকে। অনেক কিছুর মত এদের সার্কাসের একটি অন্যতম আকর্ষণ হল মানুষের মত চলাফেরা করা বেবুন। এসব বেবুনদের সাপ নিয়ে খেলা করার প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। যদিও স্বাভাবিকভাবে বেবুন এবং সাপের মধ্যে কোন ধরণের সখ্যতা খুঁজে পাওয়া যায় না তবুও এদের কাছে এরা দুটোই বন্ধুর মত আচরণ করে থাকে! এছাড়াও হায়েনা দিয়ে বিভিন্ন ধরণের ভয়ঙ্কর বিপদজনক বর্বর খেলা দেখানোও হয়ে উঠেছে মানুষের কাছে জনপ্রিয়। খেলা দেখানোর পাশাপাশি এরা বিভিন্ন রোগের কবিরাজি ওষুধও বিক্রি করে থাকে। এই দুটিই তাদের আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস। এভাবেই শত বছরের পুরনো ঐতিহ্য বংশপরস্পরায় টিকে আছে। যদিও নাইজেরিয়াতে এই ধরণের সার্কাস আইন বিরুদ্ধ নয় তবুও কিছু মানুষ বন্য প্রাণীদের প্রতি এই নির্মমতা এবং তাদের এই বন্দী অবস্থার বিপক্ষে।

এভাবে তারা পৃথিবীতে একটি বিশেষ জাতি হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। যদিও তাদের বিরুদ্ধে অনেক ধরণের অভিযোগ আছে তবুও তারা মনে করে তারা তাদের পূর্বপুরুষদের প্রথা ধরে রেখেছে এবং এটাতে তাদের কোন আক্ষেপ নেই। - সূত্রঃ অনলাইন

 

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ সরদার মোঃ শাহীন,
বার্তা সম্পাদকঃ ফোয়ারা ইয়াছমিন,
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ আবু মুসা,
সহঃ সম্পাদকঃ মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিসঃ ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২,
উত্তরা, ঢাকা,
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com