হাওরবাসীর স্বপ্নের আবুরা সড়ক

প্রকাশের সময় : 2020-10-28 12:20:52 | প্রকাশক : Administration
হাওরবাসীর স্বপ্নের  আবুরা সড়ক

সিমেক ডেস্কঃ বর্ষায় হাওড় এলাকার গ্রামগুলোকে দূর থেকে ছোট ছোট দ্বীপের মতো মনে হয়। যেন থৈ থৈ পানিতে ভাসছে দুর্গম জনপদ। এ সময় হাওড়ে চলাচল করে শত শত ইঞ্জিনচালিত নৌকা। অর্থাৎ নৌকাই চলাচলের একমাত্র বাহন। সময় অসময়ে আপদ বিপদ হলে চলাচলের বিকল্প কিছু নেই। নেই সড়ক যোগাযোগ। তাই সব সময় বিপদ আর দুর্যোগ মাথায় নিয়ে চলতে হয় মানুষের।

বর্ষাকালে হাওড় এলাকার বাসিন্দাদের এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রাম, এক উপজেলা থেকে অন্য উপজেলা কিংবা জেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র বাহন হিসেবে শত শত বছর নৌকাই একমাত্র ভরসা। কিন্তু দীর্ঘদিন হাওড়ের মানুষ সড়ক যোগাযোগের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন। সাধারণ মানুষের স্বপ্নের কথা হাজার কান হয়ে পৌঁছায় জনপ্রতিনিধি পর্যন্ত। শুরু হয় স্বপ্নের বুনন। যা এখন বাস্তব হয়ে চোখের সামনে দৃশ্যমান। তা দেখে একেবারেই অবিশ্বাস্য মনে হয় স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে।

এখন হাওরের বুকে দিগন্তে হারিয়ে যাওয়া পিচঢালা পথ। কেবল রাস্তা নয়, এ যেনো আরো বেশি কিছু। দ্বীপের মতো ভেসে থাকা গ্রাম, হিজল বন। তার পাশ দিয়ে যেন একেঁ বেঁকে চলে গেছে এক কালোরেখা। সড়কে চলছে যানবাহন। সেখানে ঢেউয়ের আছড়ে পড়ার শব্দ। সব মিলিয়ে সৌন্দর্যের এক মহা-আয়োজন। এই অপরূপ সৌন্দর্য দেখতে প্রতিদিন হাজারো পর্যটক ভিড় করছে হাওরে। এই রাস্তার হাত ধরে বদলে গেছে কিশোরগঞ্জের হাওরের দৃশ্যপট।

গভীর হাওড়ের মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগের জন্য তৈরি করা হয়েছে ‘অলওয়েদার সড়ক’। সড়কটি ইটনা উপজেলা সদর হতে শুরু হয়ে ধনু ও বাউলাই নদীর সমান্তরালে সম্পূর্ণভাবে বিস্তীর্ণ হাওড়ের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করে মিঠাইন উপজেলা সদর হয়ে অষ্টগ্রাম উপজেলা সদরে সমাপ্ত হয়েছে। অর্থাৎ নতুন এই সড়ক তিনটি উপজেলা যুক্ত হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে গোটা কিশোরগঞ্জ জেলায় সড়ক যোগাযোগে সৃষ্টি হয়েছে নতুন মাত্রা। সেইসঙ্গে অথৈই হাওড়ের বুক চিড়ে জেগে ওঠা সড়ক নিয়ে মানুষের মধ্যে আনন্দের যেন শেষ নেই। তেমনি দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা দুর্ভোগেরও অবসান হতে যাচ্ছে নতুন এই সড়ক নির্মাণের মধ্য দিয়ে। অনেকের কাছে পুরো ঘটনাটি একেবারেই বিস্ময়কর মনে হচ্ছে।

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের অধীনে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর ৮৭৪ দশমিক ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম সড়ক নির্মাণ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে। নান্দনিক এই সড়ক এখন সৌন্দর্য পিপাসুদের কাছে হয়ে উঠেছে দুর্নিবার আকর্ষণ। এর ফলে কিশোরগঞ্জের হাওড় এলাকায় উন্মোচিত হয়েছে পর্যটন সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত। এ সড়ক উদ্বোধনের মাধ্যমে হাওড়ে নতুন দিগন্তের উন্মোচন হবে। এ সড়ককে ঘিরে হাওড়ে ভারতের কেরালার মডেলে পর্যটন এলাকা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এক সময়ের অবহেলিত হাওড়বাসীর জন্য দিগন্ত বিস্তৃত হাওড়ের মাঝ দিয়ে পিচঢালা প্রশ্বস্ত উঁচু সড়কটি হাওড়ের সৌন্দর্যকে যেন বাড়িয়ে দিয়েছে বহুগুণ। এ সড়ককে ঘিরে সমৃদ্ধ হবে হাওড়ের অর্থনীতি। বাড়বে মানুষের জীবনমান এমনটা মনে করছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। সোশ্যাল মিডিয়ার কল্যাণে এরই মাঝে আগামীর পর্যটন ঠিকানা হিসেবে দেশ-বিদেশে পরিচিতি লাভ করেছে সড়কটি। একটি মাত্র সড়কই বদলে দিয়েছে হাওড়ের সামগ্রিক দৃশ্যপট।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জেলা কিশোরগঞ্জের পূর্ব প্রান্তে বিস্তীর্ণ হাওড় এলাকা নিয়ে ইটনা-মিঠামইন ও অষ্টগ্রাম উপজেলার অবস্থান। হাওড় অধ্যুষিত বিচ্ছিন্ন এই তিনটি উপজেলা বছরের অর্ধেকের বেশি সময় জলমগ্ন থাকায় অনগ্রসর ও দুর্গম হিসেবে পরিচিত। এলাকায় সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল না বললেই চলে। হাওড়বাসীর দীর্ঘদিনের এই কষ্ট লাঘবে রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ হাওড়ের বুকচিরে অলওয়েদার সড়ক নির্মাণের স্বপ্ন দেখেন। তার একান্ত অভিপ্রায়ে সড়কপথে সারা বছর চলাচলের জন্য ইটনা- মিঠামইন- অষ্টগ্রাম উপজেলাকে যুক্ত করে নির্মিত হয় অলওয়েদার সড়ক। ‘হাওড়ের বিস্ময়’ হিসেবে পরিচিত হাওড়বাসীর স্বপ্নের এ সড়কটি গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। - সূত্রঃ কালেরকন্ঠ

 

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ সরদার মোঃ শাহীন,
বার্তা সম্পাদকঃ ফোয়ারা ইয়াছমিন,
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ আবু মুসা,
সহঃ সম্পাদকঃ মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিসঃ ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২,
উত্তরা, ঢাকা,
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com