আপু ১০টা টাকা দে তো!

প্রকাশের সময় : 2018-04-12 14:36:09 | প্রকাশক : Admin
আপু ১০টা টাকা দে তো!

আপু ১০টা টাকা দে তো!

- কেন?

- স্কুল যামু।

- টাকা নাই এখন যা।

- এমন করস কেন আপু দে না প্লিজ।

- বলছি না, নাই এখন ঘ্যানর ঘ্যানর করিস না তো।

- আপু দিবি কিনা বল? (ঠাস)

- এই নে দিলাম, হইছে এখন?

- উহুঁ উহুঁ। ..

কাদতেঁ কাদতেঁ বেরিয়ে গেল ঘর থেকে শুভ।

এই হলো নুসরাত আর ওর ভাই। নুসরাত পড়ে ইন্টার ফার্স্ট ইয়ারে আর শুভ ক্লাস ফাইভে। শুভ সবসময় ওর আপুর সাথে মেলামেশার চেষ্টা করে কিন্তু ওর আপু ওর সাথে এমন ব্যবহার করে। দুজনে সাপ বেজির মতো, শুভ ওর আপুর কাছে থাকতে চাইলেও ওর আপু ওকে ঝামেলা মনে করে দূরে রাখে।

স্কুলে যাওয়ার সময়, শুভ ভাবলো আপু তো আমার স্কুলের সামনে দিয়েই কলেজে যায়। আমার স্কুলের সামনে দিয়েই কলেজে যাওয়ার রাস্তা, তাই আমি আপুর সাথে যাব। শুভ ওর আপুর ঘরে গিয়ে দেখে ওর আপু রেডি হয়ে গেছে কলেজে যাবার জন্য।

- আপু, আপু আমাকে সঙ্গে নিয়ে যা।

- একা যেতে পারিস না।

- এতো গাড়ির মধ্যে একা যেতে ভয় লাগে; তোর সাথে যাব।

- আচ্ছা নিয়ে যাব, রাস্তায় বেরিয়ে এটা ওটা বাহানা ধরবি তো, সকালের মতো আরেকটা দিব।

- আচ্ছা চুপ করে থাকবো।

তারপর শুভ আর নুসরাত বেরিয়ে পড়ে। দুজনে চুপচাপ রাস্তা দিয়ে হাঁটছে। তবুও ওদের মাঝে প্রায় ১ হাত ফাঁকা জায়গা বিরাজ করছে। শুভর অনেক ইচ্ছে করছে আপুর হাতটা ধরে রাস্তায় চলতে কিন্তু শুভ ১ হাত ফাঁক দিয়ে যাচ্ছে। আর আপুর কাছে যেতে ভয় পাচ্ছে, যদি মাইর দেয়। ওর আপু তো ওকে একটুও ভালবাসে না। সবসময় মারধোর করে। তাই এখন শুভর মনে সবসময় একটা ভয় কাজ করে। সেটা হলো আপুর কাছে যাওয়া যাবে না, নয়তো মার খেতে হবে। তখন শুভ বলে,

- আপু একটু কোলে নে না।

- কিইইইই? (চোখ বড় বড় করে রাগি লুক নিয়ে তাকালো শুভর দিকে)

- না, কিছু বলি নাই।

শুভ ভয় পেয়ে আরও একটু দূরে সরে যায়। তারপর শুভ ওর স্কুলে চলে যায় আর ওর আপু একটু শান্তি পায়। মনে মনে বলতে থাকে আপদ গেছে। এরপর সারাদিন শুভ স্কুলে আর নুসরাত কলেজে কাটায়। এভাবেই দিন চলছে দুজনের। শুভ পাচ্ছে শুধু ওর আপুর অবহেলা। কোনো সময় একটু ভালবেসে আদর করেনি ওকে। সবসময় বকাঝকা আর মেরেই সময় কাটায় বাড়িতে ওর আপু।

বিকেল ৪ টার ছুটি হয় শুভর স্কুল। ওর বাসার আশেপাশে ওর কোনো বন্ধু নেই। তাই স্কুল ছুটি হওয়ার পর শুভ একা একা মেইন রোডের ধার দিয়ে ধীরে ধীরে হাঁটতে হাঁটতে বাসার দিকে অগ্রসর হয়। রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় শুভ দেখে একটা মেয়ে একটা ছেলেকে নিয়ে রাস্তা পার হচ্ছে। ছেলেটি মেয়েটার কোলে ছিলো; বিশেষ করে মেয়েটার ছোট ভাই হবে হয়তো। রাস্তা পাড় হওয়ার পরই দুজনে আবার একসাথে চলতে লাগলো। শুভ তখন ভাবে, ইসসসস এমন করে যদি আমার আপু আমাকে আদর করতো ভালবাসতো তাহলে ও অনেক সুখী হতো। আর কিছু চাইতো না ওর আপুর কাছে। এটুকুই যথেষ্ট ছিলো শুভর কাছে। কিন্তু এটা নুসরাত বুঝতো না যে, ওর ভাই কি চায়। শুভ শুধু ওর কাছে একটু আদর চায় কিন্তু নুসরাত শুভকে অবহেলা ছাড়া কোনো দিন কিছু দেয়নি।

এসব ভাবতে ভাবতে বাসায় চলে আসে শুভ। আর ওর আপু তো আগেই এসেছে; কারণ স্কুল থেকে কলেজ আগে ছুটি হয়। এসে ফ্রেস হয়ে দেখে আম্মু বাসায় নেই।

-আপু আম্মু কই গেছে?

- পাশের বাসায়।

- খেতে দে।

- আমার কাজ আছে, ভাত বেড়ে খা।

- ধ্যাত, ভাল্লাগেনা; কোনো কিছু করতে বললেই সব সময় বলস তুই নিজে কর। এমন করস কেন আপু?

- উফফফ, কি করি এটাকে নিয়ে!! আচ্ছা বস দিচ্ছি।

(শুভ খুশি মনে তাড়াতাড়ি বসে পড়লো)

- এই নে খা।

- আপু তুই খেয়েছিস?

- তোর সেটা নিয়ে মাথা ঘামাতে হবে না, চুপচাপ খা।

(শুভ মুখ কালো করে খাওয়া শুরু করলো)

কিছুক্ষণ পর নুসরাত ওর ঘরে চলে গেল। আর শুভ ভাতের প্লেট হাতে নিয়ে আবার নুসরাতের পেছন পেছন চললো। ঘরে গিয়ে,

- আপু তুই মনে হয় খাসনি! এই ধর হা কর; আমি খাইয়ে দিচ্ছি।

(এ কান্ড দেখে নুসরাত খুব রেগে গেল)

-ওই হারামজাদা! তোরে কে এতো দরদ দেখাতে বলছে হ্যাঁ, যা ভাগ এখান থেকে।

এরকম ভাবে বলার জন্য শুভর চোখটা ছলছল করে উঠলো জলে; শুভ মন খারাপ করে চলে গেল ঘর থেকে। অর্ধেক প্লেট ভাত খেয়ে আর বাকিটুকু না খেয়েই নিজের ঘরে গিয়ে শুয়ে পড়লো শুভ।

বাচ্চা পোলাপাইন। এখনো ভালবাসা শব্দের অর্থ জানে না। তবুও আজ খুব কষ্ট হচ্ছে ওর, কেন ওর আপু ওকে একটুও আদর করে না। একটুও ভালবাসে না? খুব কান্না পাচ্ছে শুভর। তাই আজ শুভ শুয়ে শুয়ে নীরবে কেঁদে যাচ্ছে। সে কান্না ওর আপুর কানে যাচ্ছে না। নুসরাত শুনতে পাচ্ছে না ওর ছোট্ট ভাইয়ের কষ্ট মাখা কান্না। হয়তো কোনো দিন শুনতেও পাবে না।

তারপরের দিন বিকেলে শুভ স্কুল থেকে এসে তাড়াহুড়ো করে ওর আপুর কাছে গেল।

- আপু, আপু বড়ই খাবি? দ্যাখ কি মিষ্টি!!!!

- কই পাইছস?

- আমাদের স্কুলের সামনে মেইন রোডের ধারে যে বড় বড়ই গাছ ওটা থেকে পারছি।

- গাছে উঠতে পারিস?

- হ্যাঁ, পারি।

- আচ্ছা রেখে যা।

তারপর শুভ বড় বড় কয়েকটা বড়ই ওর আপুর বিছানায় রেখে খুশি মনে ফুটবল নিয়ে বাইরে খেলতে গেল। খুশি হওয়ার কারণটা হলো, আজ ওর আপু ওর উপর না রাগ করে ও যেগুলো দিয়েছে সেগুলো রেখে দিয়েছে তাই শুভ আজ অনেক খুশি। শুভ কতক্ষন ফুটবল নিয়ে গড়াগড়ি করে আবার মন খারাপ করে বাসায় চলে আসলো। এবার মন খারাপ হলো গিয়ে,  ওর এখানে কোনো খেলার সাথী নেই। শুভ একা, একদম একা। কেউ নেই এখন শুভর পাশে। কিছুক্ষণ পর ভাবলো, আমি তো আজ আপুকে খুশি দেখেছি, বড়ই দিয়েছি বলে আপু খুব খুশি হয়েছে তাই আপুকে বলি আমার সাথে খেলতে।

ঘরে গিয়ে শুভ দেখে ওর আপু রিমোট নিয়ে টিভি দেখছে।

- আপু শোন।

- কি?

- আমার সাথে বাইরে চল না একটু।

- ক্যা?

- ফুটবল খেলবো।

- তো খেল। আমি কি করবো?

- তুই তো জানিস এখানে তুই ছাড়া আমার খেলার সাথী আর কেউ নেই,

চল না আপু একটু খেলি।

- চুপ করে ঘরে গিয়ে বসে থাক যা এখান থেকে। যত্তোসব।

শুভ চলে গেল সেখান থেকে। আর নুসরাত টিভি দেখতে লাগলো। কিছুক্ষণ পর শুভ দেখে ওর আপু বাথরুমে গেল। তাই দৌঁড়ে আপুর ঘরে গিয়ে আপুর গোপাল ভাঁড়ের হাসির বইটা নিয়ে নিজের ঘরে চলে এলো শুভ। তার কিছুক্ষণ পরেই শুভ ওর আপুর চিল্লাচিল্লি শুনতে পেল।

- শুভ, এই শুভ।

- কি হয়েছে আপু? (অনেক ভয় নিয়ে বললো)

- আমার ঘরে ঢুকেছিলি?

- হ্যাঁ, আপু।

- বই কে নিয়েছে?

- আমি।

- নিছস কেন?

-একা ভালো লাগছে না, তাই পড়ার জন্য নিয়েছি।

(ঠাস)

- আরেকবার যদি তুই আমার ঘরে আমার অনুমতি ছাড়া ঢুকেছিস তো তোর পা কেটে ফেলবো।

- আচ্ছা আপু আর যাব না কোনো দিন (কেঁদে দিয়ে বললো শুভ)

- যা এখন। আর ভুলেও কোনো দিন আমার জিনিসের ভেতর হাত দিবি না। নইলে ফল খারাপ হইবো।

- আচ্ছা ঠিক আছে। এই বলে দৌঁড়ে চলে গিয়ে নিজের ঘরে এসে খুব জোরে জোরে কাঁদতে লাগলো শুভ। এ কান্না শুনেও ওর প্রতি একটুও মায়া জন্মালো না ওর আপুর। কাছে এসে একবারের জন্যও নুসরাত আদর করে বললো না, কাঁদিস না ভাই, আর মারবো না। শুভর মা বাবা এগুলো সব দেখে, শুধু শুভর মা ওর আপুকে মাঝেমধ্যে একটু এ বিষয় নিয়ে বকতো, কেন ও এমন করে শুভর সাথে এর বেশী কিছু বলতো না। কি দোষ করেছিল শুভ। কোনপাপের শাস্তি দিচ্ছে আজ ওর আপু। কেন ওকে এতো কষ্ট দেয়। কোন অপরাধের জন্য নুসরাত শুভকে একটুও ভালবাসে না। একটুও আদর করে না। কিসের জন্য ছোট ভাইকে একটু কাছে টেনে নেয় না। সবসময় কেন এতো অবহেলা করে?? চলবে...

 

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ সরদার মোঃ শাহীন,
বার্তা সম্পাদকঃ ফোয়ারা ইয়াছমিন,
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ আবু মুসা,
সহঃ সম্পাদকঃ মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিসঃ ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২,
উত্তরা, ঢাকা,
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com