সুরক্ষিত থাকি; সুরক্ষিত রাখি

প্রকাশের সময় : 2021-01-20 14:18:51 | প্রকাশক : Administration
সুরক্ষিত থাকি; সুরক্ষিত রাখি

মোহাম্মদ আবদুর রশিদঃ কয়েক বছর আগে মসজিদ থেকে নামাজ পড়ে দরজায় আসতেই একজন ভদ্রলোক মুসুল্লি আফসোস করতে করতে বললেন, আমার জুতা চুরি হয়েছে এবং বল্লেন কয়েকদিন হয় কিনেছি, অনেক টাকা দাম দিয়ে কিনেছি ইত্যাদি। ক্ষোভে দুঃখে তিনি বললেন এই মসজিদের মুসুল্লিরা চোর। একটু পরেই একজন বয়স্ক মুসুল্লি বের হলেন এবং বিষয়টা শুনেই আফসোস করলেন এবং ভদ্রলোককে বললেন, বাবা একটা পাপ কাজ হয়ে গেল এবং আপনার সহযোগিতার কারনে আপনারও পাপ হয়েছে। কথাটা শুনে ভদ্রলোক খুবই বিরক্ত হলেন এবং আমি নিজেও মুরব্বির উপর মনে মনে দুঃখিত হলাম। মুরুব্বি বললেন, বাবা শোনেন, যদি আপনি জুতাটা সাবধানে রাখতেন তবে দুইটা উপকার হত, আপনার জিনিসটা আপনার থাকত, নামাজ পড়ে জুতা পায়ে দিয়ে বাড়ি যেতে পারতেন। অসাবধানতাভাবে জুতা রাখায় এখন ৫টি ক্ষতি হলোঃ

১. আপনার জুতা হারাল।

২. একজন মুসুল্লি চুরি করার সুযোগ পেল।

৩. চুরির অপরাধে সে আল্লাহর নিকট শাস্তি যোগ্য হলো।

৪. মসজিদের মুসুল্লিদের প্রতি আপনার একটা খারাপ ধারনা হলো (সেটাও এক ধরনের পাপ)।

৫. চুরি করার সুযোগ তৈরী করে দেওয়ায় আপনিও চোরের সমান অপরাধি হলেন।

ভদ্রলোক বললেন এ মসজিদের মুসুল্লিরা চুরি করতে আসে। উনি বললেন, না বাবা! এভাবে না বলে বলেন যে চোরেরাও এখানে নামাজ পড়তে আসে। ভদ্রলোক বললেন, মসজিদে যদি জুতা হেফাজতে না থাকে তবে এর চেয়ে ভাল জায়গা আর কোথায়?

মুসুল্লিদের আমরা যতই খারাপ বলি না কেন, মুসুল্লিরা যেহেতু মানুষ, তাদের মধ্যে খারাবি থাকলে নামাজ পড়ার দ্বারা ভাল হবে। আমরা কোরআন হাদিস থেকে এটাই জানি। পবিত্র কোরআনে বর্নিত আছে," নিশ্চয়ই নামাজ মানুষকে যাবতীয় অশ্লীল ও খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখে” সূরা আনকাবুত আয়াত ৪৫। তাই, বলতে হবে মানুষ ভাল হওয়ার জন্যে মসজিদে আসে।

মসজিদে যেমনিভাবে টুপি পাঞ্জাবী দেখে প্রকৃত মুসুল্লি এবং চোর চিহ্নিত করা যায়না বলে আমাদের জুতা সাবধানে রাখা দরকার, তেমনিভাবে সমাজে মানুষ কোনটা ভাল এবং কোনটা ধর্ষক তা চেহারা দেখে বুঝা যায় না। তাই এক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন কিছুটা হলেও উপকার হতে পারে। অনেকে আমার কথাটা গভীরভাবে চিন্তা না করে হয়ত বলবেন আমি কি স্বাধীন দেশে স্বাধীন ভাবে চলতে পারবনা? এককভাবে রাষ্ট্রকে দায়ী করার চেষ্টা করবেন। আমিও মনে করি রাষ্ট্রের দায়িত্বটাই বেশি। চলুন না দায়িত্ব আমরা ভাগাভাগি করে সরকারকে সহযোগিতা করি এবং নিজেদের উপর কিছু নেই। একটা অপরাধকে সামাল দিতে রাষ্ট্রকে পেরেশান হতে হয়। ধর্ষক-ধর্ষিতার পরিবার- আত্বীয় স্বজন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই সময় এসেছে, নিজেকে সুরক্ষিত রাখার চেষ্টা করতে হবে।

করোনা যখন প্রথম এসেছিল, তখন এ ধরনের অপরাধ বলতে গেলে শুন্যের কোঠায় নেমে এসেছিল কিন্তু এখন যেন করোনার কোন ভয়ই নাই, সুরক্ষিত থাকার যেন কোন প্রয়োজনই নেই, মানুষের অবাধ বিচরন শুরু হয়েছে।

হযরত আলী রাঃ বলেন,"যে নিজে সতর্কতা অবলম্বন করে না, দেহরক্ষী তাকে বাঁচাতে পারেনা।"

তাই আসুন,করোনা থেকে বাঁচার জন্যে মাস্ক ব্যবহার এর মাধ্যমে নিজেকে বাঁচানোর জন্যে যেভাবে চেষ্টা করছি, তেমনিভাবে অপরাধীদের থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখারও চেষ্টা করি। তা হলে আমরা সুরক্ষিত থাকবো; দেশও ভালো থাকবে। আল্লাহ্ যেন আমাদেরকে সতর্কতা অবলম্বনের মাধ্যমে সুরক্ষিত থাকার তৌফিক দান করেন।

 

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ সরদার মোঃ শাহীন,
বার্তা সম্পাদকঃ ফোয়ারা ইয়াছমিন,
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ আবু মুসা,
সহঃ সম্পাদকঃ মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিসঃ ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২,
উত্তরা, ঢাকা,
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com